728 x 90

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের তিন দফায় সংঘর্ষ: শিক্ষকসহ ১২ জন আহত, তদন্ত কমিটি গঠন

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের তিন দফায় সংঘর্ষ: শিক্ষকসহ ১২ জন আহত, তদন্ত কমিটি গঠন

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) শাখা ছাত্রদলের বাসেত গ্রুপ ও সুমন সরদার গ্রুপের মধ্যে তিন দফায় সংঘর্ষের ঘটনায় শিক্ষকসহ অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় গেট, কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার প্রাঙ্গণ এবং ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যানের কক্ষের সামনে সমঝোতা বৈঠকের সময় এই সংঘর্ষগুলো ঘটে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ঘটনার তদন্তের জন্য কমিটি গঠন করেছে এবং

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) শাখা ছাত্রদলের বাসেত গ্রুপ ও সুমন সরদার গ্রুপের মধ্যে তিন দফায় সংঘর্ষের ঘটনায় শিক্ষকসহ অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় গেট, কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার প্রাঙ্গণ এবং ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যানের কক্ষের সামনে সমঝোতা বৈঠকের সময় এই সংঘর্ষগুলো ঘটে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ঘটনার তদন্তের জন্য কমিটি গঠন করেছে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষক সামিউদ্দিন সাজিদ, আল-আমিন, আশরাফুল, প্রত্যয়, ইব্রাহিম, জনি এবং জাহিদ; রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সাদী এবং বাংলা বিভাগের ছাব্বীর। এছাড়া সহকারী প্রক্টর ড. মো. নঈম আক্তার সিদ্দিকী, ফেরদৌস হোসেন ও মাহাদী হাসান জুয়েলসহ কয়েকজন শিক্ষকও আহত হয়েছেন। আহতরা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, যাদের অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানা গেছে।

পুলিশ সূত্র থেকে জানা যায়, আহত সামিউদ্দিন সাজিদ এবং ছাত্রদলের আহ্বায়ক সদস্য জাহিদ হাসান জনি কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহসভাপতি কাজী জিয়া উদ্দিন বাসেত এবং জাফর আহমেদ গ্রুপের সমর্থক। অন্যদিকে, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সাদী, ছাত্রদলের আহ্বায়ক সদস্য মাশফিক রাইন, আতাউল্লাহ আহাদ এবং বাংলা বিভাগের আশরাফুল ইসলাম সুমন সরদার গ্রুপের অনুসারী। এই দুই গ্রুপের নেতাকর্মীরা সংঘর্ষে জড়িত ছিলেন, যা ছোটখাটো ঝগড়া থেকে বড় আকার ধারণ করে।

ঘটনার সূচনা হয় গত সোমবার (১০ নভেম্বর) সকালে আস-সুন্নাহ হলের বাসে। মার্কেটিং বিভাগের ১৯ ব্যাচের শিক্ষার্থী সাজিদ এবং তার বন্ধুরা কথা বলছিলেন, তখন রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সাদী তাদের কথা বন্ধ করতে নিষেধ করে এবং হুমকি দিয়ে বলেন, “তোমাকে দ্বিতীয় গেটে ঝুলিয়ে রাখব।” পরে সাদী বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় গেট এবং হলে গিয়ে সাজিদের খোঁজ নেন।

পরদিন মঙ্গলবার দুপুরে দ্বিতীয় গেটের সামনে সাজিদ তার বন্ধুদের সঙ্গে দাঁড়িয়ে থাকলে সাদী, আহ্বায়ক সদস্য মাশফিক, বাংলা বিভাগের আশরাফুল এবং যুগ্ম আহ্বায়ক আরাফাত সেখানে এসে তাকে ডাকেন। কিছুক্ষণ পর তারা অতর্কিতে সাজিদের ওপর হামলা করেন। তাকে রক্ষা করতে গেলে আল-আমিন, প্রত্যয়, ইব্রাহিম এবং জাহিদের ওপরও আক্রমণ হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, সাজিদ কথা বলছিলেন, তখন পেছন থেকে সাদীর অনুসারীরা এসে আঘাত শুরু করেন। ছাত্রদলের সিনিয়র নেতাকর্মীরা থামাতে গেলেও সংঘর্ষ বেঁধে যায়।

দ্বিতীয় দফায় শান্ত চত্বরে সংঘর্ষ হয়, যেখানে চেয়ার দিয়ে আল-আমিনের মুখে আঘাত করা হয়। আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেলসহ সিনিয়র নেতারা দু’পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। শেষে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দিনের কক্ষে সমঝোতা বৈঠক ডাকা হয়। কিন্তু সাদীকে সেখানে নিয়ে যাওয়ার সময় তৃতীয় দফায় আবার সংঘর্ষ বিরাজ করে, যাতে জনি, রাব্বীসহ আরও কয়েকজন আহত হন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক যুগ্ম-আহ্বায়ক বলেন, “সাজিদকে যারা মেরেছে, তাদের মধ্যে আমাদের সংগঠনের সদস্যও ছিল। আমি থামাতে গিয়েও পারিনি। তারা এমন আচরণ করছিল যেন আমরাই সন্ত্রাসী, তারা যা ইচ্ছা তাই করবে।”

আহত শিক্ষার্থী সাজিদ বলেন, “সোমবার সকালে হলের বাসে কথা বলছিলাম, সাদী এসে ধমক দিয়ে বলে ‘তোকে সেকেন্ড গেটে ঝুলিয়ে রাখব’। আজ ১৫-২০ জন নিয়ে এসে আমাদের ওপর হামলা করে। হলে গিয়ে আমার খোঁজও নিয়েছে।” আল-আমিন যোগ করেন, “চেয়ার দিয়ে মুখে এমন আঘাত করেছে যে মুখ ফুলে গেছে, চেয়ারটাই ভেঙে গেছে।”

শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সুমন সরদার বলেন, “আস-সুন্নাহ হলের বাসের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে হাতাহাতি হয়েছে। এতে রাজনৈতিক কোনো বিষয় জড়িত নয়।” অন্যদিকে, আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল জানান, “আমরা ঘটনাস্থলে ছিলাম এবং দুই পক্ষকে সামলানোর চেষ্টা করেছি। পরে শিক্ষকদের সঙ্গে বসে সমঝোতা হয়েছে।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. তাজাম্মুল হক বলেন, “প্রাথমিকভাবে দুই বিভাগের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছিল, পরে তা বড় আকার ধারণ করে। ইতোমধ্যে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত শেষে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এই ঘটনা ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। ছাত্ররা দাবি করছেন যে, এ ধরনের সংঘর্ষ প্রতিরোধে আরও কঠোর নজরদারি দরকার। তদন্তে আরও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ পেলে পরিস্থিতির স্পষ্ট ছবি পাওয়া যাবে।

Fahim Ahmed
ADMINISTRATOR
PROFILE

Posts Carousel

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked with *

Latest Posts

Top Authors

Most Commented

Featured Videos