গুরুত্বপূর্ণ বিচারিক সিদ্ধান্তে বাংলাদেশের হাইকোর্ট ২০২৫ সালের ২৪ নভেম্বর, সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) আইন বিভাগের অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান কার্জনকে শাহবাগ থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন প্রদান করে। বিচারপতি কে. এম. রাশেদুজ্জামান রাজা ও বিচারপতি রেজাউল করিমের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই আদেশ জারি করে চার সপ্তাহের রুলও দিয়েছে, যাতে কর্তৃপক্ষ স্থায়ী জামিনের
গুরুত্বপূর্ণ বিচারিক সিদ্ধান্তে বাংলাদেশের হাইকোর্ট ২০২৫ সালের ২৪ নভেম্বর, সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) আইন বিভাগের অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান কার্জনকে শাহবাগ থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন প্রদান করে। বিচারপতি কে. এম. রাশেদুজ্জামান রাজা ও বিচারপতি রেজাউল করিমের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই আদেশ জারি করে চার সপ্তাহের রুলও দিয়েছে, যাতে কর্তৃপক্ষ স্থায়ী জামিনের বিরুদ্ধে ব্যাখ্যা জমা দিতে বলা হয়েছে। এতে কার্জনের প্রায় তিন মাসের কারারুদ্ধতার পর মুক্তির পথ প্রশস্ত হয়েছে।
মামলার সূচনা ২০২৫ সালের ২৮ আগস্ট ‘মঞ্চ ৭১’-এর আয়োজনে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘আমাদের মহান স্বাধীনতাযুদ্ধ এবং বাংলাদেশের সংবিধান’ শিরোনামের গোলটেবিল আলোচনা থেকে। সকাল ১০টায় শুরুর কথা ছিলেও বেলা ১১টায় শুরু হয় এবং কার্জন প্রথম বক্তব্য দেন। বাংলাদেশের সংবিধানের অন্যতম প্রণেতা ড. কামাল হোসেনকে প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হলেও তিনি উপস্থিত ছিলেন না। কার্জনের বক্তব্য শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ‘জুলাইয়ের যোদ্ধা’ বলে পরিচয় দেয়া একদল বিক্ষোভকারী মিছিল নিয়ে আসে এবং ‘জুলাইয়ের হাতিয়ার, গর্জে উঠুক আরেকবার’, ‘লীগ ধর, জেলে ভর’, ‘জুলাইয়ের যোদ্ধারা, এক হও লড়াই করো’ স্লোগান দেয়। তারা ব্যানার ছিঁড়ে অংশগ্রহণকারীদের—কার্জন, সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী ও সাংবাদিক মঞ্জুরুল আলম পান্নাসহ—অবরুদ্ধ করে দুপুর সোয়া ১২টায় পুলিশের হাতে তুলে দেয়।
আটকের ১২ ঘণ্টা পর ২৮ আগস্ট রাতে শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আমিরুল ইসলাম কার্জন, সিদ্দিকী, পান্না ও ১৩ জনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করে। এজাহারে বলা হয়, তারা দেশকে সশস্ত্র সংগ্রামের দিকে নিয়ে যাওয়া, অন্তর্বর্তী সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্র এবং উসকানিমূলক বক্তব্যের অভিযোগে দোষী। ৫ আগস্ট গঠিত ‘মঞ্চ ৭১’-কে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতির ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
পরদিন ২৯ আগস্ট ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফরজানা হক এদের কারাগারে পাঠান। নিম্ন আদালতে জামিন না পেয়ে গত সপ্তাহে কার্জন হাইকোর্টে আবেদন করেন। সোমবারের শুনানিতে তার আইনজীবী শেখ আলী আহমেদ খোকন যুক্তি দেন যে, এজাহারে অপরাধের উপাদান নেই এবং কার্জন আয়োজক ছিলেন না—তিনি শ্রদ্ধেয় শিক্ষাবিদ। রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর শামসুদ্দোহা সুমন বিরোধিতা করলেও বেঞ্চ পক্ষে রায় দেয়।
আগে ৬ নভেম্বর সিদ্দিকী ও পান্না হাইকোর্টে জামিন পান, যা ১০ নভেম্বর আপিল বিভাগে বহাল থাকে। খোকন মিডিয়াকে জানান, এতে কার্জনের মুক্তিতে আর বাধা নেই। উত্থানোত্তর বাংলাদেশে এই মামলা শিক্ষক স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক অভিব্যক্তির উপর নজর তুলে ধরেছে। তদন্ত চলাকালীন এই রায় নিরাপত্তা ও ব্যক্তিস্বাধীনতার ভারসাম্যের ভূমিকা তুলে ধরে।
Channel July 36 

















Leave a Comment
Your email address will not be published. Required fields are marked with *