728 x 90

কড়াইল বস্তির ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুনর্বাসন ও ত্রাণের প্রতিশ্রুতি সরকারের

কড়াইল বস্তির ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুনর্বাসন ও ত্রাণের প্রতিশ্রুতি সরকারের

ঢাকার মহাখালী এলাকার কড়াইল বস্তিতে গত মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর, ২০২৫) বিকেল সাড়ে পাঁচটায় এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, যা প্রায় পাঁচ ঘণ্টার অদম্য চেষ্টার পর রাত সাড়ে দশটায় নিয়ন্ত্রণে আনা যায়। ফায়ার সার্ভিসের ১৯-২০টি ইউনিট এবং সিভিল ডিফেন্সের টিমগুলোর যৌথ অভিযানে আগুন নেভানো হয়েছে, কিন্তু এর ফলে বস্তির প্রায় ১৫০০ থেকে ৩০০০টি টিনের ঘর-বাড়ি ছাই

ঢাকার মহাখালী এলাকার কড়াইল বস্তিতে গত মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর, ২০২৫) বিকেল সাড়ে পাঁচটায় এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, যা প্রায় পাঁচ ঘণ্টার অদম্য চেষ্টার পর রাত সাড়ে দশটায় নিয়ন্ত্রণে আনা যায়। ফায়ার সার্ভিসের ১৯-২০টি ইউনিট এবং সিভিল ডিফেন্সের টিমগুলোর যৌথ অভিযানে আগুন নেভানো হয়েছে, কিন্তু এর ফলে বস্তির প্রায় ১৫০০ থেকে ৩০০০টি টিনের ঘর-বাড়ি ছাই হয়ে গেছে, যা হাজার হাজার বাসিন্দাকে নিঃস্ব করে দিয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই বস্তিতে প্রায় ৮০ হাজার মানুষ বাস করে, যাদের মধ্যে অনেকেই জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে স্থানান্তরিত শ্রমিক, এবং এখন তারা খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাচ্ছে।

অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে তেজগাঁও-বনানী সংলগ্ন এলাকায়, যেখানে ঘনবসতিপূর্ণ টিনের ঘরগুলো দ্রুত আগুনের শিকার হয়। প্রথম আলো এবং বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন অনুসারে, আগুনের প্রাথমিক কারণ এখনও নিশ্চিত হয়নি—সম্ভবত ইলেকট্রিক শর্ট সার্কিট বা গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ—কিন্তু কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে। সৌম্য টিভির তথ্যমতে, আগুনে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি, তবে কয়েকজন আহত হয়েছে যাদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ত্রাণ টিম এবং সেনাবাহিনীর সহায়তায় খাবার, পানি, কাপড় এবং অস্থায়ী আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যদিও বাসিন্দারা আরও দ্রুত সহায়তার দাবি জানিয়েছে।

এ ঘটনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস গভীর দুঃখ প্রকাশ করে বলেছেন, “কড়াইলের এই দুর্দান্ত দৃশ্য আমাদের সকলের বক্ষে বেদনার সৃষ্টি করেছে। সরকার ক্ষতিগ্রস্ত সকল পরিবারের পুনর্বাসন এবং পুনর্নির্মাণে প্রয়োজনীয় সব সহায়তা প্রদান করবে।” ইত্তেফাক এবং প্রথম আলোর সূত্রে জানা যায়, তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তাৎক্ষণিক উদ্ধার কার্যক্রম জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধান করে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আদেশ প্রদান করেছেন। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের হেল্পলাইন ১০৯০ এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ১৬১০৬ নম্বরে যোগাযোগ করে সাহায্যের জন্য আবেদন করা যেতে পারে।

ঢাকা ট্রিবিউন এবং বিডিনিউজ২৪.কমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, কড়াইল বস্তি ঢাকার সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোর একটি, যেখানে ঘনবসতি এবং অপর্যাপ্ত অবকাঠামোর কারণে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি সবসময়ই থাকে। এবারের ঘটনা সরকারকে স্লাম এলাকাগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার প্রয়োজনীয়তা স্মরণ করিয়ে দিয়েছে। বাসিন্দারা এখন পুনর্নির্মাণের অপেক্ষায়, এবং স্থানীয় সংগঠনগুলো বেসরকারি সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে।

Posts Carousel

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked with *

Latest Posts

Top Authors

Most Commented

Featured Videos