728 x 90

মেধাতালিকায় দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেও নদীভাঙনে বসতভিটা হারিয়ে স্থায়ী ঠিকানা না থাকায় প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের সুযোগ হারালেন ক্লীন্টন সাহা।

মেধাতালিকায় দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেও নদীভাঙনে বসতভিটা হারিয়ে স্থায়ী ঠিকানা না থাকায় প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের সুযোগ হারালেন ক্লীন্টন সাহা।

‘আমি বাংলাদেশের নাগরিক। আমার জাতীয় পরিচয়পত্র আছে। শুধু স্থায়ী ঠিকানা না থাকার কারণে আমি চাকরিটা পাইনি। অথচ মেধাতালিকায় আমি দ্বিতীয় হয়েছি।’ কথাগুলো অত্যন্ত আক্ষেপ নিয়ে বলছিলেন চট্টগ্রাম নগরের চৌমুহনী এলাকার বাসিন্দা ক্লীন্টন সাহা। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় লিখিত ও মৌখিক উভয় পরীক্ষায় সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়ে থানাভিত্তিক মেধাক্রমে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছিলেন তিনি।

‘আমি বাংলাদেশের নাগরিক। আমার জাতীয় পরিচয়পত্র আছে। শুধু স্থায়ী ঠিকানা না থাকার কারণে আমি চাকরিটা পাইনি। অথচ মেধাতালিকায় আমি দ্বিতীয় হয়েছি।’ কথাগুলো অত্যন্ত আক্ষেপ নিয়ে বলছিলেন চট্টগ্রাম নগরের চৌমুহনী এলাকার বাসিন্দা ক্লীন্টন সাহা। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় লিখিত ও মৌখিক উভয় পরীক্ষায় সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়ে থানাভিত্তিক মেধাক্রমে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছিলেন তিনি। এমনকি নিয়োগের জন্য সুপারিশও পেয়েছিলেন এই তরুণ। তবে চূড়ান্ত যাচাই-বাছাইয়ের সময় স্থায়ী ঠিকানা নিয়ে জটিলতার সৃষ্টি হওয়ায় শেষ পর্যন্ত তাঁর কপালে জোটেনি নিয়োগপত্র।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ক্লীন্টন সাহার আদি নিবাস নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় হলেও ২০০৫ সালে নদীভাঙনের কারণে তাঁদের পরিবার সর্বস্ব হারায়। প্রায় সাতবার তাদের ঘরবাড়ি ও দোকানপাট নদীতে বিলীন হয়ে যাওয়ায় তারা চট্টগ্রামে চলে আসতে বাধ্য হন। এরপর থেকেই দীর্ঘদিন ধরে তারা শহরে বসবাস করছেন এবং তাদের নিজস্ব কোনো স্থায়ী বসতভিটা নেই। ছোটবেলা থেকেই চরম সংগ্রাম করে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া ক্লীন্টন চট্টগ্রাম কলেজ থেকে পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। পরিবারে বাবা অসুস্থ থাকায় টিউশনি করেই পড়াশোনা ও সংসারের খরচ চালাতেন তিনি। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বারবার নদীভাঙনের নথিপত্র ও নানাবাড়ির ঠিকানা দিয়েও কোনো সুরাহা পাননি। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, নির্ধারিত নিয়মের বেড়াজালে এবং স্থায়ী ঠিকানা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে তাকে নিয়োগপত্র দেওয়া সম্ভব হয়নি। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন ক্লীন্টন, যা দেশের শিক্ষাব্যবস্থা ও প্রশাসনিক নিয়মের মানবিক দিক নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

Posts Carousel

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked with *

Latest Posts

Top Authors

Most Commented

Featured Videos

Categories