একসময় অজেয় মনে হওয়া বিশ্বের বহু প্রভাবশালী নেতা শেষ পর্যন্ত গণ-বিপ্লব, সামরিক অভ্যুত্থান বা গণবিক্ষোভের মুখে দেশত্যাগে বাধ্য হয়েছেন বা আত্মগোপনে চলে গেছেন। কারাগার, মৃত্যুদণ্ড কিংবা উত্তরসূরিদের প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা এড়াতেই তারা এই পথ বেছে নেন। বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই তালিকায় থাকা সাম্প্রতিক নেতাদের মধ্যে অন্যতম। বার্তা সংস্থা এপি এমন কিছু নেতার উদাহরণ
একসময় অজেয় মনে হওয়া বিশ্বের বহু প্রভাবশালী নেতা শেষ পর্যন্ত গণ-বিপ্লব, সামরিক অভ্যুত্থান বা গণবিক্ষোভের মুখে দেশত্যাগে বাধ্য হয়েছেন বা আত্মগোপনে চলে গেছেন। কারাগার, মৃত্যুদণ্ড কিংবা উত্তরসূরিদের প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা এড়াতেই তারা এই পথ বেছে নেন। বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই তালিকায় থাকা সাম্প্রতিক নেতাদের মধ্যে অন্যতম।
বার্তা সংস্থা এপি এমন কিছু নেতার উদাহরণ দিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। নিচে সাম্প্রতিক ইতিহাসে অনুরূপ পরিণতির মুখে পড়া কয়েকজন প্রভাবশালী নেতার তথ্য তুলে ধরা হলো:
আন্দ্রে রাজোয়েলিনা (মাদাগাস্কার): এই সপ্তাহে সামরিক অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হন মাদাগাস্কারের প্রেসিডেন্ট আন্দ্রে রাজোয়েলিনা। ভারত মহাসাগরের এই দ্বীপরাষ্ট্রে দারিদ্র্য, বেকারত্ব ও বিদ্যুৎ সংকটের বিরুদ্ধে তরুণ (জেন জি) নেতৃত্বাধীন সপ্তাহব্যাপী আন্দোলনের মুখে তাঁর পতন ঘটে।
শেখ হাসিনা (বাংলাদেশ): আগস্ট ২০২৪-এ ছাত্র নেতৃত্বাধীন গণ-আন্দোলনের মুখে বাংলাদেশের দীর্ঘতম মেয়াদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করতে বাধ্য হন এবং দেশ ত্যাগ করেন। জাতিসংঘ মানবাধিকার দপ্তরের হিসাবে, তাঁর শাসনামলে নিরাপত্তা বাহিনীর দমনপীড়নে কমপক্ষে ১,৪০০ জন নিহত হন। বর্তমানে তিনি ভারতে নির্বাসনে রয়েছেন। তাঁর পিতা শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৫ সালে সামরিক অভ্যুত্থানে নিহত হন।
বাশার আল-আসাদ (সিরিয়া): ২০২৪ সালে বিদ্রোহী বাহিনী রাজধানী দামেস্কের দিকে অগ্রসর হলে সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ রাশিয়ায় পালিয়ে যান। এর মধ্যদিয়ে তাঁর ৫১ বছরের পারিবারিক শাসনের অবসান হয়। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে আশ্রয় দিয়েছেন এবং প্রত্যর্পণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
কেপি শর্মা ওলি (নেপাল): নেপালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বন্ধ করে দেওয়ার প্রতিবাদে জেন জি আন্দোলন ভয়াবহ আকার ধারণ করলে প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি ২০২৫ সালের ৯ই সেপ্টেম্বর পদত্যাগ করতে বাধ্য হন এবং তাঁর সরকার ক্ষমতা ছেড়ে পালায়।
গোটাবাইয়া রাজাপাকসে (শ্রীলঙ্কা): ২০২২ সালের জুলাই মাসে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের কারণে শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট গোটাবাইয়া রাজাপাকসে মালদ্বীপে পালিয়ে যান। অর্থনৈতিক ধসের কারণে দেশটি ঋণখেলাপি হয়ে পড়েছিল এবং জনগণের ক্ষোভের মূল লক্ষ্য ছিল রাজাপাকসে পরিবার।
ভিক্টর ইয়ানুকোভিচ (ইউক্রেন): ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে গণবিক্ষোভে প্রেসিডেন্ট ভিক্টর ইয়ানুকোভিচ ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে রাশিয়ার কাছ থেকে ঋণ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এর ফলে সৃষ্ট তীব্র বিক্ষোভের মুখে তিনি গোপনে কিয়েভ ত্যাগ করে রাশিয়ায় পালিয়ে যান।
মুয়াম্মার গাদ্দাফি (লিবিয়া): ২০১১ সালের লিবিয়ার গৃহযুদ্ধের সময় আরব বসন্তের প্রভাবে ৪০ বছরের শাসন হারান মুয়াম্মার গাদ্দাফি। বিদ্রোহীরা রাজধানী ত্রিপোলি দখল করলে তিনি নিজের শহর সির্তে-তে লুকিয়ে পড়েন। ২০১১ সালের ২০শে অক্টোবর পালানোর সময় ন্যাটোর বিমান হামলায় তাঁর কাফেলা আক্রান্ত হয়। পরবর্তীতে বিদ্রোহীরা তাঁকে আটক করে হত্যা করে।
মার্ক রাভালোমানানা (মাদাগাস্কার): ২০০৯ সালে সামরিক অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হন মাদাগাস্কারের প্রেসিডেন্ট মার্ক রাভালোমানানা। তিনি ক্ষমতা হস্তান্তর করে দক্ষিণ আফ্রিকায় পালিয়ে যান এবং তাঁর অনুপস্থিতিতে তাঁকে হত্যার ষড়যন্ত্রের মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
জ্যাঁ-বারট্রান্ড আরিস্টাইড (হাইতি): হাইতির প্রথম গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জ্যাঁ-বারট্রান্ড আরিস্টাইড দুইবার সামরিক অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হন। সর্বশেষ ২০০৪ সালে জনবিক্ষোভে সরকার পতনের মুখে তিনি পদত্যাগ করেন এবং মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র হয়ে দক্ষিণ আফ্রিকায় আশ্রয় নেন।
Channel July 36 
















Leave a Comment
Your email address will not be published. Required fields are marked with *