728 x 90

মৃত্যু সনদ করা মোবারক হোসেনকে ৮৫ বছর বয়সে ময়মনসিংহ থেকে ফিরিয়ে আনলেন স্বজনরা

মৃত্যু সনদ করা মোবারক হোসেনকে ৮৫ বছর বয়সে ময়মনসিংহ থেকে ফিরিয়ে আনলেন স্বজনরা

  ফেনীর পরশুরাম উপজেলার দক্ষিণ কোলাপাড়া গ্রামে ঘটেছে অকল্পনীয় এক পুনর্মিলনের ঘটনা। ১৯৯২ সালের ভয়াবহ বন্যার পর নিখোঁজ হওয়া মোবারক হোসেন (৮৫) দীর্ঘ ৩৩ বছর পর জীবিত ফিরেছেন পরিবারের কাছে। তাঁকে মৃত ভেবে মৃত্যু সনদও করেছিলেন স্বজনরা। হঠাৎ তাঁর ফিরে আসায় এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে আনন্দের বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস।মোবারক হোসেন স্থানীয় আলী আহমদের বড় ছেলে। ১৯৯২ সালে

 

ফেনীর পরশুরাম উপজেলার দক্ষিণ কোলাপাড়া গ্রামে ঘটেছে অকল্পনীয় এক পুনর্মিলনের ঘটনা। ১৯৯২ সালের ভয়াবহ বন্যার পর নিখোঁজ হওয়া মোবারক হোসেন (৮৫) দীর্ঘ ৩৩ বছর পর জীবিত ফিরেছেন পরিবারের কাছে। তাঁকে মৃত ভেবে মৃত্যু সনদও করেছিলেন স্বজনরা। হঠাৎ তাঁর ফিরে আসায় এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে আনন্দের বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস।মোবারক হোসেন স্থানীয় আলী আহমদের বড় ছেলে। ১৯৯২ সালে একদিন বাড়ি থেকে বেরিয়ে বলেছিলেন, থানার ওসি বাহার ভাই বদলি হচ্ছেন, তার সঙ্গে দেখা করে আসি। এরপর আর ফেরেননি। স্বজনরা দেশের বিভিন্ন স্থানে খুঁজেছেন, প্রায় তিন লাখ টাকা খরচ করেছেন, কিন্তু কোনো সন্ধান মেলেনি। শেষে সম্পত্তি ও কাগজপত্রের জটিলতা নিষ্পত্তির জন্য পরশুরাম পৌরসভা থেকে মৃত্যু সনদ সংগ্রহ করেন।কয়েকদিন আগে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার রাজবাড়ী এলাকায় এক এনজিওকর্মীর চোখে পড়েন মোবারক। ওই কর্মী আগে পরশুরামে কাজ করতেন এবং পরিবারের সঙ্গে পরিচিত ছিলেন। তিনি মোবারকের পরিচয় নিশ্চিত করে স্থানীয় এক ব্যবসায়ী ও পরিবারের সদস্যদের খবর দেন। পরিবার তাৎক্ষণিক ময়মনসিংহ গিয়ে তাঁকে বাড়ি নিয়ে আসেন।জানা গেছে, মোবারকের তিনটি সংসার। প্রথম স্ত্রী আঁখি আক্তারের পাঁচ ছেলে ও দুই মেয়ে, দ্বিতীয় স্ত্রী আনোয়ারা বেগমের তিন ছেলে ও দুই মেয়ে। ময়মনসিংহে তৃতীয় বিয়ে করেন, সেখানে কোনো সন্তান নেই। বার্ধক্যজনিত রোগে আক্রান্ত মোবারকের চিকিৎসা চলছে।বড় মেয়ে মঞ্জু আক্তার বলেন, “বাবা বলেছিলেন ওসি বাহারের সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছি। তারপর আর খোঁজ নেই। আজ ফিরে পেয়ে মনে হয় আল্লাহ চাইলে সবই সম্ভব।”বড় ছেলে জামাল উদ্দিন বলেন, “বাবাকে খুঁজতে তিন লাখ টাকার মতো খরচ হয়েছে। মৃত্যু সনদও করেছি। এটা আল্লাহর অশেষ রহমত।”প্রতিবেশী নুর ইসলাম (৭৮) বলেন, “একসঙ্গে বড় হয়েছি। ভেবেছিলাম মারা গেছেন। জীবনের শেষে হলেও ফিরে এসেছেন—এটাই সবচেয়ে বড় সৌভাগ্য। রাখে আল্লাহ, মারে কে।”মোবারক হোসেনের এই ফেরা শুধু পরিবার নয়, গোটা পরশুরামে আলোড়ন তুলেছে। সামাজিক মাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়েছে এই অবিশ্বাস্য পুনর্মিলনের খবর।

Posts Carousel

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked with *

Latest Posts

Top Authors

Most Commented

Featured Videos