জুলাই ২০২৪-এর বিপ্লবী আন্দোলনের মাঝে রিকশাচালক মোহাম্মদ সুজনের সেই স্যালুট-মুহূর্তটি এখনও দেশের স্মৃতিতে জ্বলজ্বল করে—যখন তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের প্রতি সম্মান জানিয়ে ভাইরাল হয়ে ওঠেন। এই সাধারণ কিন্তু সাহসী অঙ্গভঙ্গি সুজনকে সাধারণ মানুষের প্রতীক করে তোলে, যা সরকার পরিবর্তনের একটি অবিস্মরণীয় চিহ্ন হয়ে দাঁড়ায়। আজ, ২০ নভেম্বর ২০২৫-এ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নের
জুলাই ২০২৪-এর বিপ্লবী আন্দোলনের মাঝে রিকশাচালক মোহাম্মদ সুজনের সেই স্যালুট-মুহূর্তটি এখনও দেশের স্মৃতিতে জ্বলজ্বল করে—যখন তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের প্রতি সম্মান জানিয়ে ভাইরাল হয়ে ওঠেন। এই সাধারণ কিন্তু সাহসী অঙ্গভঙ্গি সুজনকে সাধারণ মানুষের প্রতীক করে তোলে, যা সরকার পরিবর্তনের একটি অবিস্মরণীয় চিহ্ন হয়ে দাঁড়ায়। আজ, ২০ নভেম্বর ২০২৫-এ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নের শেষ দিনে সুজন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করে রাজনৈতিক ময়দানে নামছেন। তবে, তার প্রার্থিত্বের আসন এখনও অঘোষিত—সাম্প্রতিক সংবাদে শুধু জানা গেছে যে তিনি ফর্ম কিনেছেন, কিন্তু কোন নির্দিষ্ট কনস্টিটুয়েন্সি থেকে লড়বেন, তা দলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়। এনসিপির মনোনয়ন প্রক্রিয়া ৬ নভেম্বর থেকে শুরু হয়েছে, এবং ৫৭ জনেরও বেশি ফর্ম সংগ্রহ হয়েছে, যার মধ্যে সুজনের মতো জুলাই যোদ্ধাদের অংশগ্রহণ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এই যাত্রা সাধারণ নাগরিকদের রাজনীতিতে প্রবেশের এক নতুন দ্বার উন্মোচন করছে।
এনসিপি, জুলাই বিপ্লবের ছাত্র-জনতার চেতনা থেকে জন্মগ্রহণকারী এই দলটি, ৩০০ আসনের মধ্যে ১৫০টিতে জয়ের লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে, এবং সাধারণ মানুষের প্রার্থীদের জন্য মনোনয়ন ফর্মের মূল্য মাত্র ২ হাজার টাকায় নামিয়ে দিয়েছে। সুজনের মনোনয়ন এই দলের মিশনকে প্রতিফলিত করে—রাজনীতিকে এলিটদের খেলা থেকে রাস্তার মানুষের অধিকারের লড়াইয়ে রূপান্তরিত করা। যদিও তার আসন নির্ধারণ হয়নি, সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ঢাকা-এর কোনো শহুরে আসন, হয়তো ঢাকা-৯ বা তার কাছাকাছি এলাকা (যেখানে অন্যান্য এনসিপি প্রার্থী যেমন তাসনিম জারা মনোনয়ন নিয়েছেন), তার জন্য বিবেচনাধীন। দলটি এখনও বিএনপির সাথে আসন-সমঝোতার আলোচনায় রয়েছে, যেখানে ২০টি আসনের দাবি উঠেছে, কিন্তু এনসিপি নিজস্ব শক্তিতে জয়ের উপর জোর দিচ্ছে। আপিল বিভাগের সাম্প্রতিক রায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহালের পর এই নির্বাচন স্বচ্ছতার পরীক্ষা, এবং সুজনের মতো প্রার্থী এতে নতুন গতি যোগাবে।
সুজনের এই রাজনৈতিক অভিযান বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করে তুলবে, কারণ তার যাত্রা প্রমাণ করে যে বিপ্লবের চেতনা শুধু রাস্তায় নয়, সংসদেও পৌঁছাতে পারে। যদি তিনি ঢাকা-এর কোনো আসন থেকে লড়েন, তাহলে তার সেই স্যালুটের অনুপ্রেরণা ভোটারদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়বে, বিশেষ করে যুবক-শ্রমিক শ্রেণির মধ্যে। তবে, চ্যালেঞ্জও কম নয়—অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল একজন রিকশাচালকের জন্য প্রচারণা চালানো কঠিন, কিন্তু তার সততা ও জনপ্রিয়তা তাকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। এনসিপির নিবন্ধন সম্প্রতি চূড়ান্ত হয়েছে, এবং দলটি ৩০০ আসনেই প্রার্থী দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে, যা রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনা সৃষ্টি করেছে। আশা করা যায়, সুজনের আসন অঘোষিত থাকলেও তার যাত্রা অনেক সাধারণ নাগরিককে উৎসাহিত করবে এবং নির্বাচনকে সত্যিকারের জনগণের উৎসবে পরিণত করবে, যা জুলাই বিপ্লবের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেবে।
Channel July 36 

















Leave a Comment
Your email address will not be published. Required fields are marked with *