কলম্বিয়ার অফিসিয়ালরা ক্যারিবিয়ান সাগরের গভীরে ৩০০ বছর আগে ডুবে যাওয়া স্প্যানিশ যুদ্ধজাহাজ ‘সান হোসে’ থেকে প্রথমবারের মতো গুরুত্বপূর্ণ ধনরত্ন উদ্ধার করেছে। এই জাহাজটি ১৭০৮ সালের ৮ ডিসেম্বর কলম্বিয়ার কার্তাহেনা বন্দরের কাছে ব্রিটিশ রয়্যাল নেভির আক্রমণে বিস্ফোরণের ফলে ডুবে যায়, যাতে ৬২২ জনের মধ্যে ৩০০-এর বেশি নিহত হয়। উদ্ধারকৃত প্রধান বস্তুগুলোর মধ্যে রয়েছে একটি কামান, তিনটি
কলম্বিয়ার অফিসিয়ালরা ক্যারিবিয়ান সাগরের গভীরে ৩০০ বছর আগে ডুবে যাওয়া স্প্যানিশ যুদ্ধজাহাজ ‘সান হোসে’ থেকে প্রথমবারের মতো গুরুত্বপূর্ণ ধনরত্ন উদ্ধার করেছে। এই জাহাজটি ১৭০৮ সালের ৮ ডিসেম্বর কলম্বিয়ার কার্তাহেনা বন্দরের কাছে ব্রিটিশ রয়্যাল নেভির আক্রমণে বিস্ফোরণের ফলে ডুবে যায়, যাতে ৬২২ জনের মধ্যে ৩০০-এর বেশি নিহত হয়। উদ্ধারকৃত প্রধান বস্তুগুলোর মধ্যে রয়েছে একটি কামান, তিনটি সোনা ও ব্রোঞ্জের মুদ্রা এবং একটি চীনামাটির কাপ, যা গভীর সমুদ্র রোবটের মাধ্যমে বের করা হয়েছে। কলম্বিয়ার জাতীয় নৃতাত্ত্বিক ইনস্টিটিউটের পরিচালক আলহেনা কাইসেডো ফার্নান্দেজ বলেছেন, এই আবিষ্কারটি নাগরিকদেরকে সান হোসের ইতিহাসের সাথে সরাসরি যুক্ত করবে। জাহাজটি স্প্যানিশ ক্রাউনের মালিকানাধীন ছিল এবং এতে স্প্যানিশ আমেরিকা থেকে আনা ১১ মিলিয়নের বেশি সোনা-রুপার মুদ্রা, পান্না এবং অন্যান্য মূল্যবান সম্পদ ছিল, যার মোট মূল্য বিলিয়ন ডলারেরও বেশি হতে পারে। এই উদ্ধার অভিযানটি গবেষণামূলক, যা ইউরোপের ১৮শ শতাব্দীর অর্থনৈতিক-সামাজিক পরিস্থিতির সূত্র প্রদান করবে এবং কলম্বিয়ার সাংস্কৃতিক পরিচয়কে শক্তিশালী করবে।
সান হোসকে ‘শিপরেকের হোলি গ্রেইল’ বলা হয় কারণ এটি সমুদ্রের গভীরতম এবং সবচেয়ে মূল্যবান ধ্বংসাবশেষগুলোর একটি, যা ২০১৫ সালে কলম্বিয়ান গবেষকরা আবিষ্কার করেন। এর সঠিক অবস্থান রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা, কিন্তু আবিষ্কারের পর থেকে এটি আইনি এবং কূটনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক স্যালভেজ কোম্পানি সি সার্চ আর্মাডা দাবি করে যে তারা ৪০ বছর আগে এটি খুঁজে পেয়েছে এবং কলম্বিয়াকে জাতিসংঘের স্থায়ী আর্বিট্রেশন কোর্টে ১০ বিলিয়ন ডলার দাবি করে মামলা করেছে। স্পেনও জাহাজটির মালিকানা দাবি করেছে, কারণ এটি তাদের ক্রাউনের সম্পত্তি। কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোর সরকার জোর দিয়ে বলেছে যে এই অভিযানের উদ্দেশ্য গবেষণা এবং ডুবে যাওয়ার কারণ (বিস্ফোরণ নাকি হালের ক্ষতি) তদন্ত, সম্পদের দখল নয়। গভীর সমুদ্রের ক্যামেরায় আরও দেখা গেছে এ্যাঙ্কর, জগ, কাচের বোতল, পটারি এবং সোনার বস্তু, যা জাহাজের সমৃদ্ধ লোডিংয়ের প্রমাণ। এই উদ্ধারটি কলম্বিয়ার জাতীয় গর্বের প্রতীক, যা ঔপনিবেশিক ইতিহাসের একটি অধ্যায়কে নতুন করে আলোকিত করছে।
এই আবিষ্কারের প্রভাব কলম্বিয়ার অর্থনীতি এবং সাংস্কৃতিক জীবনে বিস্তৃত হবে, কারণ সান হোসের সম্পদ কলম্বিয়ার জাতীয় সম্পদ হিসেবে বিবেচিত এবং এর উদ্ধার আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে দেশের অধিকার নিশ্চিত করতে পারে। গবেষণা প্রকল্পটি গত বছর অনুমোদিত হয়েছে এবং এটি ইউরোপীয় ঔপনিবেশিকতার অর্থনৈতিক প্রভাবের সাক্ষ্য সংগ্রহ করবে। আলহেনা কাইসেডো বলেছেন, এই বস্তুগুলো মানুষকে ১৮শ শতাব্দীর ইউরোপের রাজনৈতিক-সামাজিক চিত্রের সাথে পরিচয় করাবে। তবে, আইনি লড়াই অব্যাহত থাকায় ভবিষ্যতের উদ্ধার অস্থির, এবং স্পেন ও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কূটনৈতিক আলোচনা চলছে। এই ঘটনা শুধু গুপ্তধনের নয়, বরং ইতিহাসের সংরক্ষণ এবং জাতীয় পরিচয়ের একটি মাইলফলক, যা কলম্বিয়াকে তার ঔপনিবেশিক অতীত থেকে উত্তরণের সুযোগ দেবে। আশা করা যায়, এই গবেষণা আরও বেশি ধনরত্ন উদ্ধার করে দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে সমৃদ্ধ করবে এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে শক্তিশালী করবে।
Channel July 36 

















Leave a Comment
Your email address will not be published. Required fields are marked with *