সিরাজগঞ্জ, ৩০ নভেম্বর ২০২৫ – বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের (বৈছা আন্দোলন) জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে সিরাজগঞ্জ জেলা ইউনিটের ৫০ জন নেতা রবিবার একযোগে পদত্যাগ করেছেন, যা কেন্দ্রীয় কমিটির নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণার মাত্র দুই দিনের মধ্যে ঘটেছে। সিরাজগঞ্জ প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে নেতারা নতুন কমিটিকে ‘অবৈধ, অগণতান্ত্রিক এবং অস্বচ্ছ’ বলে আখ্যা দেন,
সিরাজগঞ্জ, ৩০ নভেম্বর ২০২৫ – বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের (বৈছা আন্দোলন) জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে সিরাজগঞ্জ জেলা ইউনিটের ৫০ জন নেতা রবিবার একযোগে পদত্যাগ করেছেন, যা কেন্দ্রীয় কমিটির নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণার মাত্র দুই দিনের মধ্যে ঘটেছে। সিরাজগঞ্জ প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে নেতারা নতুন কমিটিকে ‘অবৈধ, অগণতান্ত্রিক এবং অস্বচ্ছ’ বলে আখ্যা দেন, দাবি করেন যে পুরনো কমিটি বিলুপ্ত না করে গোপনে এটি গঠন করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কোনো আলোচনা করা হয়নি।
পদত্যাগকারীদের মধ্যে রয়েছেন সিনিয়র যুগ্ম সদস্য-সচিব ইয়াসির আরাফাত ইশান, যুগ্ম আহ্বায়ক আসির ইন্তেসার আয়ান, টিএম মুশফিক সাদ, রাহাত তালুকদার, সাদমান জাহিন, সংগঠক যুবায়ের আল ইসলাম সেজান, সিনিয়র সহ-মুখপাত্র সাদিয়া আহমেদ সিনহা এবং যুগ্ম মুখ্য সংগঠক আঞ্জারুল ইসলামসহ অন্যান্যরা। পদত্যাগপত্রে তারা অভিযোগ করেন যে, কেন্দ্রীয় সভাপতি রিফাত রশিদ, মুখ্য সমন্বয়ক হাসিব আল ইসলাম এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মইনুল ইসলামের নেতৃত্বে ২৮ নভেম্বর অনুমোদিত ২০৮ সদস্যের এই ছয় মাসের কমিটিতে এমন ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে যাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, মাদকসংশ্লিষ্টতা এবং প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের হয়ে কাজ করার অভিযোগ রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সংগঠনের নীতি-আদর্শ রক্ষার্থে তারা কমিটিতে থাকতে অসম্মতি প্রকাশ করেন।
‘আমরা আশা করেছিলাম গণতান্ত্রিক উপায়ে কমিটি গঠন হবে, কিন্তু এটি রাত ১২টার পর ঘোষণা করা হয়েছে,’ সংবাদ সম্মেলনে এক নেতা বলেন। ‘আমরা ঢাকায় গিয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলব—কত টাকার বিনিময়ে এই কমিটি অনুমোদন দেওয়া হলো, সেটাও জানতে চাইব।’ তারা সংগঠনের স্কুলিং মডেলসহ অন্যান্য সংস্কারের প্রতি প্রতিশ্রুতি বজায় রাখলেও এই ‘দাগী’ কমিটির সঙ্গে যুক্ত না হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
প্রতিক্রিয়ায় নতুন আহ্বায়ক মুনতাছির হাসান মেহেদী বলেন, কিছু সদস্যকে পুরনো সংশ্লিষ্টতার কারণে বাদ দেওয়া হয়েছে, কিন্তু পদত্যাগকারীদের ভালো পদ দেওয়া হয়েছে। ‘১০০ জনের মধ্যে ৫০ জন দুর্নাম করবে এটা স্বাভাবিক, কিন্তু এখানে মাত্র কয়েকজন সমস্যা সৃষ্টি করছে,’ তিনি সাংবাদিকদের বলেন। তিনি অভ্যন্তরীণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে এই পদত্যাগের কারণ বলে মনে করেন।
এই বিভক্তি এমন সময়ে ঘটেছে যখন বৈছা আন্দোলন নভেম্বরের শুরুতে সকল কমিটির স্থগিতাদেশ তুলে নিয়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম পুনরায় শুরু করেছে এবং সংস্কারের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। ২০২৪ সালের ছাত্র-নেতৃত্বাধীন আন্দোলনে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর উদ্ভূত এই আন্দোলন এখন অভ্যন্তরীণ বিভেদের মুখোমুখি, যা সিরাজগঞ্জের মতো যুব আন্দোলনের কেন্দ্রস্থলে প্রভাব ফেলতে পারে। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, স্বচ্ছতা ও অন্তর্ভুক্তির অভাব না দূর করলে এমন পদত্যাগ আরও বিভাজন সৃষ্টি করতে পারে।
Channel July 36 

















Leave a Comment
Your email address will not be published. Required fields are marked with *