ঢাকার উপকণ্ঠ কেরানীগঞ্জের এক সময়ের খরস্রোতা ‘শিং নদ’ (স্থানীয়ভাবে সিংহ নদ নামে পরিচিত) আজ অস্তিত্ব সংকটে। বিশ্ব নদী রক্ষা দিবসকে সামনে রেখে যমুনা টেলিভিশনের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই নদের করুণ চিত্র। এক সময় যে নদ দিয়ে বড় বড় নৌকা ও লঞ্চ চলাচল করত এবং যা ছিল ওই অঞ্চলের যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম, আজ তা
ঢাকার উপকণ্ঠ কেরানীগঞ্জের এক সময়ের খরস্রোতা ‘শিং নদ’ (স্থানীয়ভাবে সিংহ নদ নামে পরিচিত) আজ অস্তিত্ব সংকটে। বিশ্ব নদী রক্ষা দিবসকে সামনে রেখে যমুনা টেলিভিশনের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই নদের করুণ চিত্র। এক সময় যে নদ দিয়ে বড় বড় নৌকা ও লঞ্চ চলাচল করত এবং যা ছিল ওই অঞ্চলের যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম, আজ তা কোথাও সরু নালা, আবার কোথাও পুরোপুরি ভরাট হয়ে বসতবাড়িতে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় বয়োজ্যেষ্ঠদের মতে, নদের ঢেউয়ের শব্দ সিংহের গর্জনের মতো ছিল বলেই এর নাম হয়েছিল ‘সিংহ নদ’।
নথিপত্র অনুযায়ী, এই নদটি প্রায় ১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং সিএস খতিয়ানে এর গড় প্রস্থ ছিল ১২০ ফুটের বেশি। তবে আরএস খতিয়ানে দেখা যায় ভয়াবহ চিত্র; নদের বিশাল অংশ এখন ব্যক্তি মালিকানাধীন রেকর্ডভুক্ত। স্থানীয়দের অভিযোগ, একদিকে সাধারণ মানুষের দখলদারিত্ব, অন্যদিকে খোদ সরকারি উদ্যোগে নদের ওপর পাকা রাস্তা নির্মাণ করার ফলে এর প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে। এমনকি নদের উৎস মুখ ভরাট করে মাদ্রাসার মাঠ ও স্থাপনা তৈরির প্রমাণও মিলেছে সরেজমিনে। জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের তথ্যের সাথে স্থানীয় ভূমি অফিসের তথ্যেরও অমিল পাওয়া গেছে নদের উৎপত্তিস্থল নিয়ে।
এই বিষয়ে কেরানীগঞ্জের সহকারী কমিশনার (ভূমি) জান্নাতুল মাওয়া জানিয়েছেন, নদের গতিপথ পরিবর্তন করে রাস্তা বা স্থাপনা নির্মাণের কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি। অবৈধভাবে বালু ভরাটের কাজ ইতিমধ্যে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং মালিকানা যাচাই সাপেক্ষে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। তবে খননের কয়েক বছর পরও নদের প্রাণ ফিরে না আসায় জনমনে ক্ষোভ বিরাজ করছে। বিশেষজ্ঞ ও স্থানীয়দের দাবি, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এই প্রাকৃতিক জলপ্রবাহ উদ্ধার করা এখন সময়ের দাবি।
Channel July 36 
















Leave a Comment
Your email address will not be published. Required fields are marked with *