বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি (বিএনপি)-এর মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশে চলমান বিভ্রান্তি ও অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা স্পষ্ট হয়েছে। তিনি সব রাজনৈতিক দলকে দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে একটি সত্যিকারের প্রতিনিধিত্বমূলক সংসদ গঠিত হয় এবং দেশের অমীমাংসিত সমস্যাগুলো সমাধান করা যায়। এইচকিউজির নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন
বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি (বিএনপি)-এর মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশে চলমান বিভ্রান্তি ও অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা স্পষ্ট হয়েছে। তিনি সব রাজনৈতিক দলকে দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে একটি সত্যিকারের প্রতিনিধিত্বমূলক সংসদ গঠিত হয় এবং দেশের অমীমাংসিত সমস্যাগুলো সমাধান করা যায়।
এইচকিউজির নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ঘোষণা অনুসারে, ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ নির্বাচনের পাশাপাশি জুলাই সনদের উপর সাংবিধানিক রেফারেন্ডামও অনুষ্ঠিত হবে। ফখরুল এই নির্বাচনকে দেশের ভবিষ্যৎ রোডম্যাপ নির্ধারণের সুযোগ হিসেবে দেখছেন এবং বলেছেন, “জনগণ রাষ্ট্রের প্রকৃত মালিক, তাই তাদের প্রতিনিধিরা সংসদে এসে দেশের অগ্রগতির পথ দেখাতে হবে।” তিনি যুক্তি দিয়েছেন, নির্বাচন যত তাড়াতাড়ি সম্পন্ন হয়, তত ভালো—এটি গণতান্ত্রিক যাত্রার নতুন অধ্যায় শুরু করবে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ফখরুল একাধিক অনুষ্ঠানে এই বিষয়ে কথা বলেছেন। ১৩ নভেম্বর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ ফাউন্ডেশনের আয়োজনে একটি সংলাপে তিনি বলেন, “এই নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা জুলাই-এর অ্যান্টি-ফ্যাসিস্ট আন্দোলনে যুক্ত দলগুলোর ঐক্য গঠন করে একটি জাতীয় সরকার তৈরি করব, যা মৌলিক বিষয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এগোবে।” তিনি আরও জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জাতিসংঘে বিরোধী দলগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন, যা জাতীয় ঐক্যের প্রতীক।
ফখরুল সতর্ক করেছেন, কিছু চক্রান্তকারী রেফারেন্ডামকে নির্বাচনের আগে স্থগিত করে বিলম্ব সৃষ্টির চেষ্টা করছে, যা জনগণ মেনে নেবে না। তিনি বলেন, “যদি রেফারেন্ডাম হয়, তাহলে তা নির্বাচনের দিনেই হতে হবে—ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।” এছাড়া, প্রপোর্শনাল রিপ্রেজেন্টেশন (পিআর) পদ্ধতির দাবিকে তিনি নির্বাচন বিলম্বের কৌশল হিসেবে চিহ্নিত করেছেন, যা সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।
বিএনপি নেতা ফখরুলের মতে, দেশে চলমান সংকট ইচ্ছাকৃত, কিন্তু গণতন্ত্র নিয়ে বর্তমান আলোচনা একটি নতুন আশার বাতাস তৈরি করেছে। তিনি যুবকদের উদ্দেশ্যে বলেন, “সাহসের সঙ্গে এগিয়ে যান, শহীদ কর্মীদের বলিদানকে সম্মান করে জয় নিশ্চিত করুন।” এই নির্বাচন বিএনপির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ১৯৯১ সালের পর প্রথমবারের মতো তারা জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে কোনো আনুষ্ঠানিক/অনানুষ্ঠানিক জোট ছাড়াই অংশ নেবে।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনুসও সাম্প্রতিক বিবৃতিতে নির্বাচনের সময়সীমা নিশ্চিত করেছেন, যা রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আস্থা বাড়িয়েছে। ফখরুলের এই বক্তব্য দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ইতিবাচক সংকেত দিয়েছে, যদিও বিভ্রান্তির মধ্যেও সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান তিনি করেছেন।
Channel July 36 

















Leave a Comment
Your email address will not be published. Required fields are marked with *