৪৫তম বিসিএস (বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস) পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফলে পুলিশ ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন রাইসুল ইসলাম, যিনি ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থীদের উপর হামলার অভিযোগে বহিষ্কৃত ছাত্রলীগের একজন নেতা। সরকারি কর্মকর্তা কমিশন (পিএসসি) গত বুধবার (২৬ নভেম্বর) এই পরীক্ষার ফল প্রকাশ করে, যাতে মোট ১,৮০৭ জন প্রার্থীকে বিভিন্ন ক্যাডারে সাময়িকভাবে সুপারিশ করা হয়েছে। এর
৪৫তম বিসিএস (বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস) পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফলে পুলিশ ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন রাইসুল ইসলাম, যিনি ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থীদের উপর হামলার অভিযোগে বহিষ্কৃত ছাত্রলীগের একজন নেতা। সরকারি কর্মকর্তা কমিশন (পিএসসি) গত বুধবার (২৬ নভেম্বর) এই পরীক্ষার ফল প্রকাশ করে, যাতে মোট ১,৮০৭ জন প্রার্থীকে বিভিন্ন ক্যাডারে সাময়িকভাবে সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে পুলিশ ক্যাডারে রাইসুল ইসলামের নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। রাইসুল ময়মনসিংহ জেলার স্থায়ী বাসিন্দা এবং ঢাবির স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের ২০১৪-১৫ সেশনের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি নিষিদ্ধ সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের মাস্টারদা সূর্য সেন হল শাখার সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। ২০২৪ সালের ১৫ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় ঢাবি ক্যাম্পাসে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উপর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের হামলায় তিনি সরাসরি জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এই হামলায় প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থী আহত হন এবং গণমাধ্যমের ভিডিও ফুটেজে রাইসুলকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপর লাঠিচার্জ করতে দেখা যায়। পরবর্তীকালে, ১৭ মার্চ ২০২৫-এ ঢাবি প্রশাসনের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট ১২৮ জনকে সাময়িক বহিষ্কার করে, যাদের মধ্যে ৭২ নম্বরে রাইসুল ইসলামের নাম ছিল। প্রশাসনের সুপারিশে বলা হয়েছে, “১৫ জুলাই ২০২৪-এ সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপর হামলায় রাইসুল সরাসরি জড়িত।” এই ঘটনার পর ঢাবি কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)-এর সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) মহিউদ্দিন খান ফেসবুকে লিখেছেন, “নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী রাইসুল ইসলাম ৪৫তম বিসিএসে পুলিশ ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত। গত বছরের ১৫ জুলাই ঢাবির শিক্ষার্থীদের উপর ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী হামলায় সে সরাসরি জড়িত ছিল।” এই সুপারিশের বিরুদ্ধে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা উঠেছে, যেখানে অনেকে পুলিশ ক্যাডারের নির্বাচন প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ তুলেছেন। পিএসসি সূত্রে জানা গেছে, সুপারিশপ্রাপ্তদের মধ্যে পুলিশ ক্যাডারে ২৫০-এর বেশি প্রার্থীর নাম রয়েছে, কিন্তু রাইসুলের মতো বিতর্কিত প্রোফাইলের ক্ষেত্রে বিশেষ যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। জুলাই অভ্যুত্থানের পর সরকার নিষিদ্ধ সংগঠনগুলোর সদস্যদের সরকারি চাকরিতে নিয়োগ নিষিদ্ধ করার নির্দেশনা দিয়েছে, কিন্তু এই সুপারিশটি সেই নির্দেশনার সাথে সাংঘর্ষিক বলে মনে করা হচ্ছে। ডাকসু এবং অন্যান্য ছাত্র সংগঠন এই ঘটনায় তদন্তের দাবি জানিয়েছে এবং পুলিশ ক্যাডারে রাইসুলের সুপারিশ বাতিলের আওয়ামী আন্দোলন শুরু করার হুমকি দিয়েছে। এই ঘটনা বিসিএস প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা এবং রাজনৈতিক নিরপেক্ষতার প্রশ্ন তুলে ধরেছে, বিশেষ করে নতুন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে। পিএসসি কর্তৃপক্তা এখনও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি, কিন্তু তদন্ত কমিটি গঠনের সম্ভাবনা রয়েছে।
Channel July 36 

















Leave a Comment
Your email address will not be published. Required fields are marked with *