পৃথিবীতে মাত্র ৫০ জন মানুষের শরীরে আছে ‘আরএইচ-নাল’ (Rh-null) রক্ত – যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে ‘গোল্ডেন ব্লাড’ বা ‘স্বর্ণালি রক্ত’ বলা হয়। প্রতি ৬০ লাখ মানুষের মধ্যে মাত্র একজনের শরীরে এই রক্ত পাওয়া যায়।এই রক্তের বিশেষত্ব হলো – এতে আরএইচ সিস্টেমের কোনো ৬১টি অ্যান্টিজেনের একটিও থাকে না। ফলে দুটো চরম পরিণতি হয়:আরএইচ-নাল ব্যক্তি শুধু অন্য আরএইচ-নাল ব্যক্তির
পৃথিবীতে মাত্র ৫০ জন মানুষের শরীরে আছে ‘আরএইচ-নাল’ (Rh-null) রক্ত – যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে ‘গোল্ডেন ব্লাড’ বা ‘স্বর্ণালি রক্ত’ বলা হয়। প্রতি ৬০ লাখ মানুষের মধ্যে মাত্র একজনের শরীরে এই রক্ত পাওয়া যায়।এই রক্তের বিশেষত্ব হলো – এতে আরএইচ সিস্টেমের কোনো ৬১টি অ্যান্টিজেনের একটিও থাকে না। ফলে দুটো চরম পরিণতি হয়:আরএইচ-নাল ব্যক্তি শুধু অন্য আরএইচ-নাল ব্যক্তির রক্তই নিতে পারেন। দুর্ঘটনা বা বড় অস্ত্রোপচারে রক্তের প্রয়োজন হলে প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে তাকে বাঁচানো। তাই তাদের নিজেদের রক্ত জমিয়ে বা ফ্রিজে রেখে দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।তাদের রক্ত প্রায় সবাইকে দেওয়া যায় – বিশেষ করে যাদের রক্তের গ্রুপ খুব জটিল বা বিরল। কোনো অ্যালার্জি বা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ভয় থাকে না। এ কারণেই এটি ‘গোল্ডেন ব্লাড’ নামে পরিচিত।
১৯৬১ সালে অস্ট্রেলিয়ার এক আদিবাসী নারীর শরীরে প্রথম এই রক্ত শনাক্ত হয়। এটি তৈরি হয় অত্যন্ত বিরল জিনগত মিউটেশনের কারণে।ব্রিস্টল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক অ্যাশ টয়ে বলেন, “যাদের শরীরে আরএইচ অ্যান্টিজেন নেই, তাদের রক্ত সবার জন্য নিরাপদ।”বর্তমানে O-নেগেটিভকে সার্বজনীন ডোনার বলা হলেও তাতে অনেক আরএইচ অ্যান্টিজেন থাকে এবং বিরল গ্রুপের রোগীদের ক্ষেত্রে মারাত্মক প্রতিক্রিয়া হতে পারে।বিজ্ঞানীরা এখন ল্যাবে আরএইচ-নাল রক্ত তৈরির চেষ্টা করছেন। ২০১৮ সালে অধ্যাপক টয়ের দল ক্রিসপার জিন এডিটিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে সফলভাবে এই রক্তকণিকা তৈরি করেছেন। যুক্তরাজ্য, আমেরিকা, কানাডা ও স্পেনে একাধিক কোম্পানি স্টেম সেল থেকে এই রক্ত উৎপাদনের কাজ করছে।যতদিন ল্যাবের রক্ত বাজারে না আসছে, ততদিন এই ৫০ জন মানুষ একই সঙ্গে সবচেয়ে ঝুঁকিতে এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানের কাছে সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হয়ে থাকবেন।
Channel July 36 

















Leave a Comment
Your email address will not be published. Required fields are marked with *