রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদে গত এক বছর ধরে নিষ্ক্রিয় অবস্থায় রয়েছে চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিভাসু) প্রথম ভাসমান গবেষণা জাহাজ। দুটি ইঞ্জিন বিকল হওয়ার কারণে এই জাহাজটি এখন শুধুমাত্র স্থির ল্যাবরেটরি হিসেবে সীমিত পরিসরে ব্যবহার করা হচ্ছে। ২০১৮ সালে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের অর্থায়নে ৩ কোটি ৮৭ লাখ টাকা ব্যয়ে সুইডেনের একটি শিপবিল্ডিং কোম্পানির মাধ্যমে
রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদে গত এক বছর ধরে নিষ্ক্রিয় অবস্থায় রয়েছে চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিভাসু) প্রথম ভাসমান গবেষণা জাহাজ। দুটি ইঞ্জিন বিকল হওয়ার কারণে এই জাহাজটি এখন শুধুমাত্র স্থির ল্যাবরেটরি হিসেবে সীমিত পরিসরে ব্যবহার করা হচ্ছে।
২০১৮ সালে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের অর্থায়নে ৩ কোটি ৮৭ লাখ টাকা ব্যয়ে সুইডেনের একটি শিপবিল্ডিং কোম্পানির মাধ্যমে নির্মিত এই জাহাজটি ১৭ মিটার দীর্ঘ, ৭ মিটার প্রস্থ এবং দ্বিতলা। জলজ গবেষণার জন্য বিশেষভাবে ডিজাইন করা এই জাহাজে তিনটি উন্নত ল্যাবরেটরি রয়েছে। কিন্তু গত পাঁচ বছরে বারবার যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এটি চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।
সিভাসুর উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ লুতফুর রহমান জানান, বর্তমানে জাহাজটি শুধুমাত্র ল্যাব স্টেশন হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “কচুরিপানা জমে যাওয়ার কারণে চলাচলে সমস্যা হয়। এছাড়া জাহাজের ড্রাফটের সমস্যাও রয়েছে।” এই সমস্যা সমাধানের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় একটি কমিটি গঠন করেছে, যাতে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ শিক্ষকও রয়েছেন। কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে ইউজিসির কাছে অতিরিক্ত অর্থের জন্য আবেদন করা হবে।
জাহাজের ইঞ্জিন চালক সুমিত চাকমা জানান, সুইডেনের নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, বাংলাদেশে ব্যবহৃত অপরিশোধিত জ্বালানির কারণেই ইঞ্জিন বারবার নষ্ট হচ্ছে। এছাড়া জাহাজের ৬ মিটার ড্রাফট কাপ্তাই হ্রদের উঁচু-নিচু তলতলে চলাচলের জন্য উপযুক্ত নয়। ফলে শুষ্ক মৌসুমে জাহাজটি প্রায়ই আটকে যায় এবং বছরের অর্ধেকেরও বেশি সময় চলানো সম্ভব হয় না।
বর্তমানে গবেষকদের নমুনা সংগ্রহের জন্য স্পিডবোটে করে হ্রদের গভীরে যেতে হয় এবং সংগৃহীত নমুনা বিশ্লেষণের জন্য নোঙর করা জাহাজে ফিরে আসতে হয়। এই প্রক্রিয়ায় সময় এবং অর্থের অপচয় হচ্ছে। ফিশারিজ অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. এসকে আহমদ আল নাহিদ বলেন, “জাহাজটি সচল থাকলে হ্রদের দূরবর্তী অংশেও সরাসরি গবেষণা করা সম্ভব হতো।”
জাহাজটিতে রয়েছে ডিজিজ ল্যাব, ইকোলজি ল্যাব এবং বাথিমেট্রি ও ফিশিং টেকনোলজি ল্যাব। এই ল্যাবগুলো ব্যবহার করে ইতোমধ্যে ১৫টি গবেষণা সম্পন্ন হয়েছে। তবে জাহাজটি চলাচল করতে না পারায় এর পূর্ণ সুবিধা গ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছে না। এই জাহাজের মাধ্যমে কাপ্তাই হ্রদের মাটি, পানি এবং জীববৈচিত্র্য নিয়ে বিস্তৃত গবেষণার কথা ছিল, যা বিলুপ্তপ্রায় মাছের প্রজনন এবং হ্রদের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারত।
বর্তমানে জাহাজটি রাঙামাটির জলযান ঘাটে নোঙর করা অবস্থায় রয়েছে এবং এর সচল করার জন্য কাঠামোগত পরিবর্তন এবং অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।
Channel July 36 

















Leave a Comment
Your email address will not be published. Required fields are marked with *