ঢাকার সচিবালয়ের নতুন ক্যাবিনেট ভবনের অষ্টম তলায় আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। রোববার (৩০ নভেম্বর ২০২৫) দুপুর সাড়ে বারোটার দিকে এই ঘটনা ঘটে, যখন ভবনে কর্মচারীরা স্বাভাবিক কাজকর্মে ব্যস্ত ছিলেন। আগুনের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের তিনটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অগ্নিনির্বাপণে কাজ শুরু করে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রায় এক ঘণ্টার মধ্যে সক্রিয়তা দেখা
ঢাকার সচিবালয়ের নতুন ক্যাবিনেট ভবনের অষ্টম তলায় আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। রোববার (৩০ নভেম্বর ২০২৫) দুপুর সাড়ে বারোটার দিকে এই ঘটনা ঘটে, যখন ভবনে কর্মচারীরা স্বাভাবিক কাজকর্মে ব্যস্ত ছিলেন। আগুনের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের তিনটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অগ্নিনির্বাপণে কাজ শুরু করে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রায় এক ঘণ্টার মধ্যে সক্রিয়তা দেখা যায়, কিন্তু পুরোপুরি নিভাতে আরও সময় লাগতে পারে। ভাগ্যক্রমে, আগুন লাগার পরপরই ভবনের কর্মীরা সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়ে নিরাপদে নিচে নেমে আসেন, ফলে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। সচিবালয়ের কর্মকর্তারা জানান, অষ্টম তলায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কিছু অফিস রয়েছে, যেখানে গুরুত্বপূর্ণ নথি-পত্র সংরক্ষিত। আগুনের কারণ এখনও স্পষ্ট নয়, তবে প্রাথমিক অনুমানে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটকে দায়ী করা হচ্ছে। ফায়ার সার্ভিসের অগ্নিনিরাপত্তা বিভাগের সহকারী পরিচালক মো. আল আমিন বলেন, “আগুন ছোট পরিসরে সীমাবদ্ধ ছিল, তাই দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। তদন্ত করে কারণ নির্ণয় করা হবে।” এই ঘটনার পর সচিবালয়ের অন্যান্য ভবনগুলোতে সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে এবং কর্মীরা ফায়ার ড্রিলের মাধ্যমে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। প্রসঙ্গত, সচিবালয়ে আগুনের ঘটনা নতুন নয়; ২০১৯ সালের জুলাই মাসে ৬ নম্বর ভবনে বৈদ্যুতিক বোর্ডরুমে আগুন লাগে, যা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। ২০২১ সালের ডিসেম্বরে গ্যাস লাইন থেকে ক্লিনিকের পেছনে আগুনের ঘটনা ঘটে এবং ২০১৮ সালে ৪ নম্বর ভবনের সপ্তম তলায় অনুরূপ ঘটনা ঘটে। এই ঘটনাগুলোর পর সরকার সচিবালয়ের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার জন্য উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করে, যাতে স্প্রিঙ্কলার সিস্টেম, ফায়ার অ্যালার্ম এবং ইমার্জেন্সি ইভ্যাকুয়েশন প্ল্যান অন্তর্ভুক্ত। তবে, নতুন ক্যাবিনেট ভবনটি ২০১৯ সালে নির্মিত হলেও, এর অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, “আগুনের পর অফিসের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত, কিন্তু কোনো গুরুত্বপূর্ণ নথি ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি।” এই ঘটনা সরকারি ভবনগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্বিবেচনার দাবি তুলে ধরেছে, বিশেষ করে বৈদ্যুতিক ও গ্যাস সংযোগের নিয়মিত পরিদর্শনের প্রয়োজনীয়তা। ফায়ার সার্ভিসের মতে, ঢাকায় প্রতি বছর হাজার হাজার আগুনের ঘটনা ঘটে, যার অধিকাংশই বৈদ্যুতিক ত্রুটির কারণে। সচিবালয় কর্তৃপক্ষ এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘটনার তদন্ত করে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করবে বলে জানিয়েছে।
Channel July 36 

















Leave a Comment
Your email address will not be published. Required fields are marked with *