728 x 90

‘চিৎকার শুনেছিলাম, তবে বুঝতে পারিনি সেটি ছিল আমার মেয়ের’— পল্লবীতে নিহত রামিসার মায়ের আকুতি

‘চিৎকার শুনেছিলাম, তবে বুঝতে পারিনি সেটি ছিল আমার মেয়ের’— পল্লবীতে নিহত রামিসার মায়ের আকুতি

অপরাধ ও জাতীয় ডেস্ক | ২১ মে ২০২৬ রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে সাত বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যার সেই রোমহর্ষক ঘটনার ঠিক পূর্বমুহূর্তের এক কলিজা কাঁপানো ও হৃদয়বিদারক বর্ণনা দিয়েছেন তার মা পারভীন আক্তার। ঘটনার সময় পাশের ফ্ল্যাট থেকে একটি গোঙানি বা চিৎকারের শব্দ পেলেও সেটি যে তাঁর নিজের আদরের সন্তানের

অপরাধ ও জাতীয় ডেস্ক | ২১ মে ২০২৬

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে সাত বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যার সেই রোমহর্ষক ঘটনার ঠিক পূর্বমুহূর্তের এক কলিজা কাঁপানো ও হৃদয়বিদারক বর্ণনা দিয়েছেন তার মা পারভীন আক্তার। ঘটনার সময় পাশের ফ্ল্যাট থেকে একটি গোঙানি বা চিৎকারের শব্দ পেলেও সেটি যে তাঁর নিজের আদরের সন্তানের ছিল, তা কোনোভাবেই আঁচ করতে পারেননি ভাগ্যাহত এই মা। আজ বৃহস্পতিবার (২১ মে) দুপুরে একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলকে (যমুনা টিভি) দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে অশ্রুসিক্ত চোখে সেই ভয়াল মুহূর্তের কথা স্মরণ করেন তিনি।

মা পারভীন আক্তার বুকফাটা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমি রামিসাকে দুপুরে স্কুলে পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। ওকে বলছিলাম— মা, দ্রুত দাঁত ব্রাশ করে মুখ ধুয়ে তোমার স্কুলের ড্রেসটা পরে নাও। মায়ের কথা শুনে ও পাশের রুমে যায় দাঁত ব্রাশ করতে।” তিনি আরও জানান, ওই সময়ই রামিসার বড় বোন পাশের ফ্ল্যাটে থাকা চাচার বাসায় যাচ্ছিল। রামিসাও তার বোনের পেছনে পেছনে যেতে চাইলে বড় বোন তাকে মানা করে এবং নিজের বাসায় অপেক্ষা করতে বলে। বড় বোন যখন দরজা খুলে বাইরে বের হয়, রামিসা তখন মূল দরজার ভেতরেই দাঁড়িয়ে ছিল। আর ঠিক তখনই ওত পেতে থাকা পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া নরপশু সোহেল রানা দরজা খোলার সুযোগে মুহূর্তের মধ্যে রামিসাকে টেনে-হিঁচড়ে তার ফ্ল্যাটের ভেতরে নিয়ে যায়।

ঘটনার আকস্মিকতা বর্ণনা করতে গিয়ে পারভীন আক্তার বলেন, “কিছুক্ষণ পর বাইরে তাকিয়ে দেখি দরজার সামনে রামিসার একটা জুতো পড়ে আছে, কিন্তু আরেকটা জুতো নেই। এরপর দেখি ওর বড় বোন চাচার বাসা থেকে একাই ফিরে আসছে। তখন আমার মনে প্রথম খটকা লাগে এবং সন্দেহ হয়। এর মাঝেই আমি পাশের ফ্ল্যাট থেকে একটা গোঙানির মতো চিৎকারও শুনেছিলাম। কিন্তু আমি বুঝতে পারি নাই যে ওই তীব্র চিৎকার আমার রামিসার ছিল! আমি ভাবছিলাম পাশের ফ্ল্যাটের অন্য কোনো বাচ্চা হয়তো কান্না করছে বা চিৎকার করছে।”

পারভীন আক্তার জানান, মনে গভীর সন্দেহ তৈরি হওয়ার সাথে সাথেই তিনি দৌড়ে গিয়ে পাশের ফ্ল্যাটের দরজায় উপর্যুপরি ধাক্কা দিতে থাকেন এবং জোরে জোরে ডাকতে থাকেন। কিন্তু ভেতর থেকে ঘাতক সোহেল রানা বা তার স্ত্রী কেউ দরজা খোলেনি। ঘাতকদের সাথে তাদের কোনো পূর্বশত্রুতা বা তেমন কোনো পরিচয় ও কথাবার্তা ছিল না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার (১৯ মে) পল্লবীর ওই বাসা থেকে শিশু রামিসার রক্তাত্ব ও গলা কাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার মাত্র ৭ ঘণ্টার মাথায় তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে মূল অভিযুক্ত ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতারের পর গতকালই আদালতে নিজের জঘন্য ও বর্বরোচিত অপরাধের কথা স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে ঘাতক সোহেল রানা। আজ খোদ আইনমন্ত্রীও এই মামলায় এক সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমার মেগা কড়া নির্দেশ দিয়েছেন। মায়ের এই লোমহর্ষক সাক্ষাৎকার দেশবাসীর মনে তীব্র ক্ষোভ ও খুনিদের দ্রুততম সময়ে ফাঁসির দাবিকে আরও বেগবান করেছে।

Posts Carousel

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked with *

Latest Posts

Top Authors

Most Commented

Featured Videos

Categories