728 x 90

কোস্টগার্ডের কাছে অস্ত্র জমা দিয়ে আত্মসমর্পণ করল সুন্দরবনের ‘ছোট সুমন বাহিনী’

কোস্টগার্ডের কাছে অস্ত্র জমা দিয়ে আত্মসমর্পণ করল সুন্দরবনের ‘ছোট সুমন বাহিনী’

মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি | ২১মে ২০২৬ সুন্দরবন উপকূলীয় অঞ্চলের জেলে, বাওয়ালি ও সাধারণ মানুষের মনে দীর্ঘদিনের ত্রাস সৃষ্টিকারী কুখ্যাত বনদস্যু ‘ছোট সুমন বাহিনী’র প্রধানসহ ৭ সদস্য বিপুল পরিমাণ দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদসহ কোস্টগার্ডের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করেছে। আজ বৃহস্পতিবার (২১ মে) দুপুরে কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের সদর দপ্তরে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে তারা কোস্টগার্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের

মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি | ২১মে ২০২৬

সুন্দরবন উপকূলীয় অঞ্চলের জেলে, বাওয়ালি ও সাধারণ মানুষের মনে দীর্ঘদিনের ত্রাস সৃষ্টিকারী কুখ্যাত বনদস্যু ‘ছোট সুমন বাহিনী’র প্রধানসহ ৭ সদস্য বিপুল পরিমাণ দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদসহ কোস্টগার্ডের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করেছে। আজ বৃহস্পতিবার (২১ মে) দুপুরে কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের সদর দপ্তরে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে তারা কোস্টগার্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হাতে অস্ত্র তুলে দিয়ে অপরাধের পথ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার মেগা ঘোষণা দেয়।

কোস্টগার্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আত্মসমর্পণ প্রক্রিয়ায় বাহিনীর ৭ জন সক্রিয় সদস্য কোস্টগার্ডের কাছে ৩টি দেশীয় একনলা বন্দুক, ২টি দেশীয় পাইপগান, ২৫ রাউন্ড তাজা কার্তুজ এবং ৩ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ সোপর্দ করেছে। আত্মসমর্পণকারী দস্যুরা হলেন— বাহিনীর প্রধান সুমন হাওলাদার (৩২), রবিউল মল্লিক (২৫), রফিক শেখ (২৯), সিদ্দিক হাওলাদার (৪০), গোলাম মল্লিক (৩৮), ইসমাইল খান (৩১) এবং মাহফুজ মল্লিক (৩৪)। কোস্টগার্ড নিশ্চিত করেছে যে, এদের মধ্যে ৬ জন বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার এবং ১ জন রামপাল উপজেলার স্থায়ী বাসিন্দা। তারা দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনের গহীন অরণ্য ও নদীপথগুলোতে জেলেদের জিম্মি করা, অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের মতো মেগা অপরাধের সাথে জড়িত ছিল।

অনুষ্ঠানে কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের জোনাল কমান্ডার ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেসবাউল ইসলাম আত্মসমর্পণকারীদের স্বাগত জানিয়ে এক কড়া হুঁশিয়ারি ও আশ্বাসের বার্তা দেন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ কোস্টগার্ড সব সময় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে। যারা নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে অস্ত্র জমা দিয়ে স্বাভাবিক ও সুন্দর জীবনে ফিরে আসতে চায়, সরকারের পক্ষ থেকে তাদের যথাযথ পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে। কিন্তু এই আহ্বানের পরও যারা সুন্দরবনে দস্যুবৃত্তি ও অপরাধের সাম্রাজ্য টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করবে, তাদের বিরুদ্ধে আমাদের বাহিনীর মেগা ও কঠোরতম অ্যাকশন অব্যাহত থাকবে।” তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, সুন্দরবনকে সম্পূর্ণ দস্যুমুক্ত রাখতে কোস্টগার্ডের টহল, বিশেষ অপারেশন এবং গোয়েন্দা নজরদারি দিনরাত চালু থাকবে।

উপকূলীয় অঞ্চলের মৎস্যজীবী ও বাওয়ালি অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ এই আত্মসমর্পণের খবরকে বড় স্বস্তির সংবাদ হিসেবে দেখছেন। সাধারণ জেলেরা বলছেন, কোস্টগার্ডের এই মেগা সফলতার কারণে সুন্দরবনের গহীন অঞ্চলে বাঘের ভয়ের চেয়েও বড় যে ‘মানুষের ভয়’ বা দস্যু আতঙ্ক ছিল, তা অনেকটাই কমে আসবে। আত্মসমর্পণকারী দস্যুদের আইনি প্রক্রিয়া শেষে পুনর্বাসনের জন্য স্থানীয় প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করার প্রস্তুতি চলছে।

Posts Carousel

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked with *

Latest Posts

Top Authors

Most Commented

Featured Videos

Categories