অনলাইন ডেস্ক | ০৩ জুন ২০২৬ দেশব্যাপী শিশুদের মধ্যে সংক্রামক ব্যাধি হামের প্রাদুর্ভাব এক চরম উদ্বেগজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে, যেখানে গত ২৪ ঘণ্টায় (মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮টা) হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও সাতটি শিশুর অনভিপ্রেত মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ মহামারী সংক্রান্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে
অনলাইন ডেস্ক | ০৩ জুন ২০২৬
দেশব্যাপী শিশুদের মধ্যে সংক্রামক ব্যাধি হামের প্রাদুর্ভাব এক চরম উদ্বেগজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে, যেখানে গত ২৪ ঘণ্টায় (মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮টা) হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও সাতটি শিশুর অনভিপ্রেত মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ মহামারী সংক্রান্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নতুন করে আরও ১ হাজার ২৬৫ জন শিশু হাম ও অনুরূপ উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসার্থে ভর্তি হয়েছে, যাদের মধ্যে ল্যাবরেটরি পরীক্ষার মাধ্যমে অন্তত ৫৫ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হামের উপস্থিতি শনাক্ত করা গেছে। স্বাস্থ্য খাতের নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে এই সংক্রামক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জরুরি জনস্বাস্থ্য নির্দেশিকা এবং বিশেষ নজরদারির ব্যবস্থা কার্যকর করা হলেও, প্রত্যন্ত অঞ্চলে আক্রান্ত ও ভর্তির এই ঊর্ধ্বমুখী হার সামষ্টিক স্বাস্থ্য খাতের জন্য একটি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সরকারি নীতিনির্ধারণী তথ্যের বিশদ বিশ্লেষণে দেখা যায় যে, চলতি বছরের গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু করে অদ্যাবধি দেশজুড়ে হাম ও এর আনুষঙ্গিক উপসর্গে সর্বমোট ৬০১ জন শিশুর প্রাণহানি ঘটেছে, যা শিশু স্বাস্থ্যের সুরক্ষায় একটি বড় ধাক্কা। এর মধ্যে ল্যাব টেস্টের মাধ্যমে সুনির্দিষ্টভাবে হাম শনাক্ত হওয়ার পর ৯০ জন শিশু মৃত্যুবরণ করেছে এবং অবশিষ্টাংশ ৫১১ জন শিশু তীব্র উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। একই সময়কালে দেশব্যাপী মোট ৭৪ হাজার ৫৭২ জন শিশুর শরীরে এই রোগের লক্ষণ ও উপসর্গ পরিলক্ষিত হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৬০,১৫৮ জন শিশুকে অত্যন্ত গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে জরুরি বিভাগ ও সাধারণ ওয়ার্ডে ভর্তি করতে হয়েছিল। তবে আশার কথা হলো, সরকারি ও বেসরকারি চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও যথাযথ চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার ফলশ্রুতিতে ইতিমধ্যে ৫৫,৯৪২ জন শিশু সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে স্ব স্ব পরিবারে প্রত্যাবর্তন করতে সক্ষম হয়েছে।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, বর্তমান আবহাওয়ার পরিবর্তন এবং টিকাদান কর্মসূচির কিছু কৌশলগত ঘাটতির কারণে এই রোগের সংক্রমণ সামাজিকভাবে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে, যা সামাল দিতে জাতীয় নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে টিকাদান ক্যাম্পেইন জোরদার করা আবশ্যক। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে এই পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে ল্যাব-টেস্টে প্রমাণিত হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ১৯১ জনে, যা দেশের চিকিৎসা কাঠামোর ওপর এক বিশাল আর্থিক ও প্রশাসনিক চাপ সৃষ্টি করছে। মহামান্য আদালত এবং দেশের নাগরিক সমাজ এই স্পর্শকাতর পরিস্থিতিকে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে প্রান্তিক পর্যায়ে জরুরি ওষুধ ও শিশু পুষ্টির নিশ্চয়তা বিধানের তাগিদ দিয়েছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আশ্বস্ত করেছে যে, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় বেড ও আইসোলেশন ইউনিটের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হচ্ছে, যাতে করে যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি পেশাদারিত্বের সাথে মোকাবিলা করা যায় এবং শিশু মৃত্যুর হার দ্রুততম সময়ে শূন্যে নামিয়ে আনা সম্ভব হয়।
Channel July 36 

















Leave a Comment
Your email address will not be published. Required fields are marked with *