অনলাইন ডেস্ক | ০৩ জুন ২০২৬ রাজধানীর মিরপুর-১১ এলাকায় একটি অবহেলাপূর্ণ ও পরিত্যক্ত প্রায় বাসা থেকে ৭৫ বছর বয়সী বৃদ্ধা নুরজাহান বেগমের রহস্যজনক মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় সুনির্দিষ্ট ও নিরপেক্ষ তদন্তের নির্দেশনা চেয়ে মহামান্য হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দায়ের করা হয়েছে। আজ বুধবার দুপুরে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শরীফ সরকার জনস্বার্থে এই অত্যন্ত সংবেদনশীল রিটটি দায়ের করেন,
অনলাইন ডেস্ক | ০৩ জুন ২০২৬
রাজধানীর মিরপুর-১১ এলাকায় একটি অবহেলাপূর্ণ ও পরিত্যক্ত প্রায় বাসা থেকে ৭৫ বছর বয়সী বৃদ্ধা নুরজাহান বেগমের রহস্যজনক মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় সুনির্দিষ্ট ও নিরপেক্ষ তদন্তের নির্দেশনা চেয়ে মহামান্য হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দায়ের করা হয়েছে। আজ বুধবার দুপুরে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শরীফ সরকার জনস্বার্থে এই অত্যন্ত সংবেদনশীল রিটটি দায়ের করেন, যেখানে নুরজাহান বেগমের সাথে কোনো প্রকার মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে কি না তা খতিয়ে দেখার জন্য বিজ্ঞ আদালতের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে। রিটের পক্ষে আইনি লড়াই পরিচালনার জন্য যুক্ত হয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের প্রখ্যাত আইনজীবী ব্যারিস্টার এইচ এম সানজিদ সিদ্দিকী, যা এই মৃত্যুর ঘটনাকে একটি গভীর আইনি ও মানবিক নীতিনির্ধারণী পর্যালোচনার দিকে নিয়ে গেছে। উল্লেখ্য, গত ৩১ মে পুলিশ ওই বাসা থেকে এই বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার করে, যা দেশের নাগরিক সমাজ এবং প্রবীণ নাগরিকদের সুরক্ষার প্রশ্নে এক উদ্বেগজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে।
পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাসান বাসির গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে নুরজাহান বেগম মূলত তাঁর মেয়ের বাসায় অবস্থান করছিলেন এবং উদ্ধারের সময় দেখা যায় যে সম্পূর্ণ বাসস্থানটি অত্যন্ত নোংরা ও বসবাসের অযোগ্য অবস্থায় ছিল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অনুসন্ধানে আরও একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে যে, ভুক্তভোগী নুরজাহান বেগমের সন্তানেরা প্রত্যেকেই সমাজে অত্যন্ত প্রতিষ্ঠিত এবং উচ্চবিত্ত হওয়া সত্ত্বেও মায়ের এমন করুণ ও মর্মান্তিক পরিণতি কেন হলো, তা নিয়ে স্থানীয় জনসাধারণের মনে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। এই ঘটনায় ইতিমধ্যে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নুরজাহান বেগমের স্বজন ও পরিবারের সদস্যদের থানায় তলব করা হয়েছে, তবে তিনি ঠিক কবে এবং কোন পরিস্থিতিতে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছিলেন, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য এখনও পুলিশ প্রশাসন নিশ্চিত করতে পারেনি।
আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসা কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করেছে যে, মরদেহটি ইতিমধ্যেই ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছিল এবং ময়নাতদন্তের আনুষ্ঠানিক ও চূড়ান্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং আইনি ধারা সুনির্দিষ্ট করা সম্ভব হবে। তবে জনস্বার্থে দায়েরকৃত এই রিটের মাধ্যমে মহামান্য আদালত যদি বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ প্রদান করে, তবে তা দেশের সামগ্রিক পারিবারিক ও সামাজিক মূল্যবোধ সুরক্ষায় এবং প্রবীণদের মানবাধিকার নিশ্চিতকরণে একটি কঠোর নীতিনির্ধারণী বার্তা হিসেবে কাজ করবে। বিজ্ঞ নীতিনির্ধারকদের মতে, প্রতিষ্ঠিত সন্তানদের এমন চরম অবহেলার কারণে কোনো প্রবীণ নাগরিকের মৃত্যু হলে তা দেশের প্রচলিত দণ্ডবিধি অনুযায়ী একটি জঘন্যতম অপরাধ এবং এই স্পর্শকাতর মামলার সার্বিক বিচারিক অগ্রগতির দিকে এখন গভীর নজর রাখছে দেশের সচেতন নাগরিক সমাজ।
Channel July 36 

















Leave a Comment
Your email address will not be published. Required fields are marked with *