অর্থনীতি ডেস্ক | ১৫ জুন ২০২৬ দীর্ঘদিনের সামরিক উত্তেজনা, নিষেধাজ্ঞা এবং হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ থাকার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে একটি ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তিতে পৌঁছেছে পরাশক্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম শক্তিশালী দেশ ইরান। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রফেশনাল প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুই দেশের এই সমঝোতা নিশ্চিত হওয়ার সরাসরি প্রভাবে সোমবার বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরণের পতন লক্ষ্য
অর্থনীতি ডেস্ক | ১৫ জুন ২০২৬
দীর্ঘদিনের সামরিক উত্তেজনা, নিষেধাজ্ঞা এবং হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ থাকার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে একটি ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তিতে পৌঁছেছে পরাশক্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম শক্তিশালী দেশ ইরান। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রফেশনাল প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুই দেশের এই সমঝোতা নিশ্চিত হওয়ার সরাসরি প্রভাবে সোমবার বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরণের পতন লক্ষ্য করা গেছে। বৈশ্বিক তেল সরবরাহের প্রধান ধমনী বা লজিস্টিকস রুটগুলো সচল হওয়ার প্রবল সম্ভাবনায় আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩ দশমিক ৫৮ ডলার বা ৪ দশমিক ১০ শতাংশ কমে ৮৩ দশমিক ৭৫ ডলারে নেমে এসেছে। একই সাথে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডব্লিউটিআই (WTI) তেলের দামও ৪ দশমিক ০১ ডলার বা ৪ দশমিক ৭২ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ৮০ দশমিক ৮৭ ডলারে এসে দাঁড়িয়েছে, যা বিশ্ব অর্থনীতির সাপ্লাই চেইনের জন্য একটি বড় স্বস্তির খবর।
আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ও লজিস্টিকস সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে যে, মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের আন্তরিক প্রচেষ্টায় এই সমঝোতা সফল হয়েছে এবং আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডের মাটিতে দুই দেশের মধ্যে এই আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষরের প্রফেশনাল প্রটোকল সম্পন্ন হবে। কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার এই অর্থনৈতিক কন্ডিশন নিয়ে জানিয়েছেন, দীর্ঘদিনের যুদ্ধের কারণে তেলের বাজারের সাথে যুক্ত যে ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল, তা এখন দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে। ব্যবসায়ীরা এখন বিশ্ববাজারে তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার বিষয়টিকে ইতিবাচক কন্ডিশনে বিবেচনা করছেন, যার ফলে বাজারের এই বড় লজিস্টিকস কারেকশন সম্ভব হয়েছে।
উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার জেরে বিগত তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে লাখ লাখ ব্যারেল তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) বৈশ্বিক লজিস্টিকস চেইন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছিল। বিশ্বের মোট তেল ও এলএনজি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ বা ২০ শতাংশ পরিবহন এই পথ দিয়েই নিয়ন্ত্রিত হয়। ইরানের আধা-সরকারি মেহর সংবাদ সংস্থার প্রফেশনাল খসড়া চুক্তি রিপোর্ট অনুযায়ী, আগামী ৩০ দিনের মধ্যে ইরানের নিজস্ব তত্ত্বাবধানে হরমুজ প্রণালী পুনরায় সম্পূর্ণ খুলে দেওয়া হবে। ২০২৬ সালের এই মধ্যবর্তী সময়ে এই জ্বালানি কন্ডিশনিংয়ের উন্নতি কেবল মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখবে না, বরং আন্তর্জাতিক শিপিং লজিস্টিকস ও বৈশ্বিক বাণিজ্যে এক অভূতপূর্ব স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনবে।
Channel July 36 

















Leave a Comment
Your email address will not be published. Required fields are marked with *