728 x 90

৭ জেলায় বন্যা ও পাহাড়ধসে প্রাণহানি বেড়ে ৪৪, পানিবন্দি আড়াই লাখের বেশি পরিবার!

৭ জেলায় বন্যা ও পাহাড়ধসে প্রাণহানি বেড়ে ৪৪, পানিবন্দি আড়াই লাখের বেশি পরিবার!

সাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপ, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাব এবং ভারতের পাহাড়ি অঞ্চল থেকে নেমে আসা তীব্র পাহাড়ি ঢলের যৌথ প্রভাবে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জেলাগুলোতে এক নজিরবিহীন মানবিক বিপর্যয় নেমে এসেছে। কয়েক দিনের টানা রেকর্ডভাঙা মুষলধারে বৃষ্টিতে সৃষ্ট বন্যা, আকস্মিক প্লাবন ও ভয়াবহ পাহাড়ধসের কারণে প্রাণহানির সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে ৪৪ জনে দাঁড়িয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও

সাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপ, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাব এবং ভারতের পাহাড়ি অঞ্চল থেকে নেমে আসা তীব্র পাহাড়ি ঢলের যৌথ প্রভাবে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জেলাগুলোতে এক নজিরবিহীন মানবিক বিপর্যয় নেমে এসেছে। কয়েক দিনের টানা রেকর্ডভাঙা মুষলধারে বৃষ্টিতে সৃষ্ট বন্যা, আকস্মিক প্লাবন ও ভয়াবহ পাহাড়ধসের কারণে প্রাণহানির সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে ৪৪ জনে দাঁড়িয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ হালনাগাদ ও বিশেষ কন্ট্রোল রুমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ—এই সাতটি প্রধান জেলা এখন পুরোপুরি বা আংশিকভাবে বন্যার কবলে পড়েছে। সরকারি হিসাব মতে, এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ৫৮টি উপজেলার ৩৮৬টি ইউনিয়ন ও ১১টি পৌরসভা প্লাবিত হয়েছে, যার ফলে ১০ লাখ ২২ হাজার ৯৬৩ জন মানুষ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং চরম খাদ্য ও পানির সংকটে ২ লাখ ৬৭ হাজার ৯১৮টি পরিবার সম্পূর্ণ পানিবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।

ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির দিক থেকে সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে পর্যটন নগরী কক্সবাজারে; যেখানে পাহাড়ধস, মাটির দেয়াল ধসে এবং বন্যার পানিতে ভেসে গিয়ে সর্বোচ্চ ২৩ জন মারা গেছেন, যাদের মধ্যে ১০ জন স্থানীয় বাসিন্দা এবং ১৩ জন উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন ক্যাম্পে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা নাগরিক। এছাড়া কক্সবাজারে চোট পেয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন আরও ২৪ জন। বিভাগীয় শহর চট্টগ্রাম ও এর আশেপাশের এলাকায় বন্যা এবং দেয়ালধসের পৃথক পৃথক মর্মান্তিক ঘটনায় ১১ জন নিহত ও ১২ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। তিন পার্বত্য জেলার মধ্যে বান্দরবানে মাতামুহুরী ও সাঙ্গু নদীর উপচে পড়া ঢলের পানিতে ভেসে এবং পাহাড়ধসে ৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং রাঙামাটিতে পাহাড়ধসের মাটি চাপা পড়ে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জেলা মৌলভীবাজারে মনু ও কুশিয়ারা নদীর বাঁধ ভেঙে সৃষ্ট বন্যায় ১ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে প্রশাসন। উপদ্রুত দুর্গম এলাকাগুলোতে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে উদ্ধার অভিযান এবং স্পিডবোটের মাধ্যমে শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানি বিতরণ কার্যক্রম জোরদার করা হলেও, বহু সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় এবং মোবাইল নেটওয়ার্ক ডাউন থাকায় লাখো মানুষ এখনো সাহায্যহীন অবস্থায় আটকা পড়ে আছেন। বৈরী আবহাওয়া ও বৃষ্টিপাত আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকার পূর্বাভাসের কারণে উপদ্রুত অঞ্চলের মানুষের মধ্যে নতুন করে পাহাড়ধস ও পানিবাহিত রোগের চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

Posts Carousel

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked with *

Latest Posts

Top Authors

Most Commented

Featured Videos

Categories