সাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপ, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাব এবং ভারতের পাহাড়ি অঞ্চল থেকে নেমে আসা তীব্র পাহাড়ি ঢলের যৌথ প্রভাবে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জেলাগুলোতে এক নজিরবিহীন মানবিক বিপর্যয় নেমে এসেছে। কয়েক দিনের টানা রেকর্ডভাঙা মুষলধারে বৃষ্টিতে সৃষ্ট বন্যা, আকস্মিক প্লাবন ও ভয়াবহ পাহাড়ধসের কারণে প্রাণহানির সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে ৪৪ জনে দাঁড়িয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও
সাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপ, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাব এবং ভারতের পাহাড়ি অঞ্চল থেকে নেমে আসা তীব্র পাহাড়ি ঢলের যৌথ প্রভাবে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জেলাগুলোতে এক নজিরবিহীন মানবিক বিপর্যয় নেমে এসেছে। কয়েক দিনের টানা রেকর্ডভাঙা মুষলধারে বৃষ্টিতে সৃষ্ট বন্যা, আকস্মিক প্লাবন ও ভয়াবহ পাহাড়ধসের কারণে প্রাণহানির সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে ৪৪ জনে দাঁড়িয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ হালনাগাদ ও বিশেষ কন্ট্রোল রুমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ—এই সাতটি প্রধান জেলা এখন পুরোপুরি বা আংশিকভাবে বন্যার কবলে পড়েছে। সরকারি হিসাব মতে, এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ৫৮টি উপজেলার ৩৮৬টি ইউনিয়ন ও ১১টি পৌরসভা প্লাবিত হয়েছে, যার ফলে ১০ লাখ ২২ হাজার ৯৬৩ জন মানুষ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং চরম খাদ্য ও পানির সংকটে ২ লাখ ৬৭ হাজার ৯১৮টি পরিবার সম্পূর্ণ পানিবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।
ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির দিক থেকে সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে পর্যটন নগরী কক্সবাজারে; যেখানে পাহাড়ধস, মাটির দেয়াল ধসে এবং বন্যার পানিতে ভেসে গিয়ে সর্বোচ্চ ২৩ জন মারা গেছেন, যাদের মধ্যে ১০ জন স্থানীয় বাসিন্দা এবং ১৩ জন উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন ক্যাম্পে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা নাগরিক। এছাড়া কক্সবাজারে চোট পেয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন আরও ২৪ জন। বিভাগীয় শহর চট্টগ্রাম ও এর আশেপাশের এলাকায় বন্যা এবং দেয়ালধসের পৃথক পৃথক মর্মান্তিক ঘটনায় ১১ জন নিহত ও ১২ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। তিন পার্বত্য জেলার মধ্যে বান্দরবানে মাতামুহুরী ও সাঙ্গু নদীর উপচে পড়া ঢলের পানিতে ভেসে এবং পাহাড়ধসে ৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং রাঙামাটিতে পাহাড়ধসের মাটি চাপা পড়ে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জেলা মৌলভীবাজারে মনু ও কুশিয়ারা নদীর বাঁধ ভেঙে সৃষ্ট বন্যায় ১ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে প্রশাসন। উপদ্রুত দুর্গম এলাকাগুলোতে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে উদ্ধার অভিযান এবং স্পিডবোটের মাধ্যমে শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানি বিতরণ কার্যক্রম জোরদার করা হলেও, বহু সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় এবং মোবাইল নেটওয়ার্ক ডাউন থাকায় লাখো মানুষ এখনো সাহায্যহীন অবস্থায় আটকা পড়ে আছেন। বৈরী আবহাওয়া ও বৃষ্টিপাত আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকার পূর্বাভাসের কারণে উপদ্রুত অঞ্চলের মানুষের মধ্যে নতুন করে পাহাড়ধস ও পানিবাহিত রোগের চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
Channel July 36 

















Leave a Comment
Your email address will not be published. Required fields are marked with *