যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিবিসির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন, যার পরিমাণ ১ থেকে ৫ বিলিয়ন ডলার। এই ঘটনার মূলে রয়েছে ২০২৪ সালের একটি প্যানোরামা ডকুমেন্টারিতে তার ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ভাষণের সম্পাদনা, যা সহিংসতার ডাক দেওয়ার মতো ধারণা তৈরি করেছে বলে অভিযোগ। বিবিসি দুঃখ প্রকাশ করলেও ক্ষতিপূরণ দিতে অস্বীকার করায় ট্রাম্প এই পদক্ষেপ
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিবিসির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন, যার পরিমাণ ১ থেকে ৫ বিলিয়ন ডলার। এই ঘটনার মূলে রয়েছে ২০২৪ সালের একটি প্যানোরামা ডকুমেন্টারিতে তার ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ভাষণের সম্পাদনা, যা সহিংসতার ডাক দেওয়ার মতো ধারণা তৈরি করেছে বলে অভিযোগ। বিবিসি দুঃখ প্রকাশ করলেও ক্ষতিপূরণ দিতে অস্বীকার করায় ট্রাম্প এই পদক্ষেপ নিয়েছেন।
শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে ট্রাম্প বলেন, “সম্ভবত আগামী সপ্তাহে আমরা বিবিসির বিরুদ্ধে এক থেকে পাঁচ বিলিয়ন ডলারের মামলা করবো।” তিনি অভিযোগ করেন যে বিবিসি তার ভাষণকে ‘বদলে দিয়েছে’ এবং এটি নির্বাচনী হস্তক্ষেপের মতো। তিনি আরও জানান, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টার্মারের সঙ্গে এখনও কথা হয়নি, কিন্তু সপ্তাহান্তে ফোন করবেন।
২০২১ সালের ৬ জানুয়ারির ভাষণে ট্রাম্প প্রথমে বলেছিলেন, “আমরা ক্যাপিটলের দিকে হেঁটে যাব এবং আমাদের সাহসী সেনেটর ও কংগ্রেস সদস্যদের উৎসাহ দেব।” প্রায় ৫০ মিনিট পর তিনি বলেন, “আমরা লড়ব। আমরা প্রাণপণ লড়াই করব।” কিন্তু প্যানোরামার ডকুমেন্টারিতে এই দুটি অংশকে পাশাপাশি যুক্ত করে দেখানো হয়েছে: “আমরা ক্যাপিটলের দিকে হেঁটে যাব… আর আমি তোমাদের সঙ্গে থাকব। এবং আমরা লড়ব। প্রাণপণ লড়াই করব।” এই সম্পাদনা সরাসরি সহিংসতার ডাকের ধারণা তৈরি করে।
বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) বিবিসি একটি ‘সংশোধন ও স্পষ্টীকরণ’ নোটে স্বীকার করে যে সম্পাদনাটি ভুল বোঝাবুঝির সুযোগ সৃষ্টি করেছে এবং এটি ভাষণের ধারাবাহিক অংশ নয়। তারা দুঃখ প্রকাশ করে বলেছে, “এটি অনিচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তিকর হয়েছে।” কিন্তু ক্ষতিপূরণের দাবি প্রত্যাখ্যান করে। বিবিসি জানিয়েছে, তার আইনজীবীরা ট্রাম্পের আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন এবং ডকুমেন্টারিটি আর প্রচার করবে না।
এই বিতর্কের চাপে বিবিসির মহাপরিচালক টিম ডেভি এবং বার্তা প্রধান ডেবোরাহ টার্নেস পদত্যাগ করেন। একটি লিক হওয়া অভ্যন্তরীণ রিপোর্টে বলা হয়েছে, সম্পাদনাটি দর্শকদের ‘সম্পূর্ণভাবে বিভ্রান্ত’ করেছে।
শনিবার (১৫ নভেম্বর) একটি সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “বিবিসির বিরুদ্ধে মামলা করা আমার দায়িত্ব। না করলে এ ধরনের ঘটনা অন্যদের সঙ্গেও ঘটতেই থাকবে।” তিনি এটিকে ‘অত্যন্ত গুরুতর’ বলে অভিহিত করেন এবং এটিকে সিবিএস-এর ‘৬০ মিনিটস’ সাক্ষাৎকারের চেয়ে ‘খারাপ’ বলে মন্তব্য করেন, যেখানে প্যারামাউন্ট গ্লোবাল ১.৬ কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ দিয়েছে।
শুক্রবার রাত পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল বা ফ্লোরিডা আদালতে কোনো মামলা দায়েরের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিবিসির চেয়ারম্যান সামির শাহ বলেছেন, সম্পাদনাটি ‘বিচারের ভুল’ ছিল এবং তার জন্য ক্ষমা চেয়েছেন। ব্রিটেনের লিবারেল ডেমোক্র্যাট নেতা স্যার এড ডেভি প্রধানমন্ত্রীকে ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলে বিবিসির স্বাধীনতা রক্ষা করার আহ্বান জানিয়েছেন।
এই ঘটনা ট্রাম্পের মিডিয়া-বিরোধী অভিযানের অংশ, যেখানে তিনি ইতিমধ্যে সিবিএস এবং এবিসি-এর সঙ্গে মামলা নিষ্পত্তি করেছেন। বিবিসির আইনজীবীরা যুক্তরাষ্ট্রে ডকুমেন্টারির প্রচারের অভাব উল্লেখ করে মামলার ভিত্তি খণ্ডন করেছেন।
Channel July 36 

















Leave a Comment
Your email address will not be published. Required fields are marked with *