রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) র্যাগিংয়ের এক বীভৎস ঘটনায় প্রথম বর্ষের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী দ্বীন ইসলাম শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বিজয়-২৪ হলের ছাদে ‘ম্যানার শেখানোর’ অজুহাতে সিনিয়ররা তাকে মারধর করেন, যা ২০২৫ সালের ২৩ নভেম্বর রবিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঘটে। এ ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, যার নেতৃত্বে
রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) র্যাগিংয়ের এক বীভৎস ঘটনায় প্রথম বর্ষের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী দ্বীন ইসলাম শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বিজয়-২৪ হলের ছাদে ‘ম্যানার শেখানোর’ অজুহাতে সিনিয়ররা তাকে মারধর করেন, যা ২০২৫ সালের ২৩ নভেম্বর রবিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঘটে। এ ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, যার নেতৃত্বে রয়েছেন সহকারী প্রভোস্ট ড. এ.টি.এম. জিন্নাতুল বাসার; অন্য সদস্যরা সহকারী প্রভোস্ট সাইফুদ্দীন খালেদ এবং সহকারী প্রক্টর মো. ফায়সাল-ই-আলম। হলের প্রভোস্ট আমির শরিফ বলেন, “কমিটি গঠন করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। রিপোর্ট পেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. ফেরদৌস রহমান জানান, “র্যাগিংয়ে জিরো টলারেন্স; কেউ ছাড় পাবে না। শৃঙ্খলা বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুসারে ব্যবস্থা হবে।”
প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীরা জানান, রাত সাড়ে ৯টায় বাংলা বিভাগের ১৭ ব্যাচের (প্রথম বর্ষ) কয়েকজনকে ‘ম্যানার শেখানোর’ কথা বলে ছাদে ডেকে নেন অভিযুক্ত সিনিয়ররা—১৬ ব্যাচের আব্দুল্লাহ আল মামুন, রাফি আহমেদ, মো. মনিরুজ্জামান ও সাইদুল সাকিল। নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগ তুলে তারা মামুন ও দ্বীনকে কানে থাপ্পড় মারেন। দ্বীন কান্নায় ভেঙে পড়লে হলের অন্যান্য আবাসিকরা ছুটে আসে, যাতে দুজন অভিযুক্ত পালিয়ে যায়। খবর ছড়াতে ছড়াতে বাংলা বিভাগের অন্যরা ঘটনাস্থলে যায় এবং প্রক্টর ও হল প্রশাসনকে জানায়। সহকারী প্রভোস্টের নেতৃত্বে একটি টিম প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য নেয়। আবাসিকরা অভিযুক্তদের দ্রুত বিচার ও আজীবন বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছে।
অভিযুক্ত মামুন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “তেমন কিছু হয়নি। ছেলেটি অভিনয় করেছে; হলের ভাইয়েরা আসার পরই কান্নাকাটি শুরু করে।” বিজয়-২৪ হল, যা ৩০০-এর বেশি ছেলেদের আবাসন, এ ধরনের বুলিংয়ের শিকার হচ্ছে বলে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছে। ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত বেরোবি, বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের নামে নামকরণকৃত, আগেও শিক্ষার্থী নিরাপত্তা নিয়ে সমালোচিত—২০২৪-এ কোটা সংস্কার আন্দোলনে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পর বহিষ্কার হয়েছে। এ ঘটনা অ্যান্টি-র্যাগিং নিয়ম কঠোরভাবে প্রয়োগের চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেছে। তদন্ত চলাকালীন শিক্ষার্থীরা নজরদারি ও কাউন্সেলিং প্রোগ্রামের দাবি জানাচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে এমন নির্যাতন না ঘটে।
Channel July 36 

















Leave a Comment
Your email address will not be published. Required fields are marked with *