চট্টগ্রাম ব্যুরো | ১৮ মে ২০২৬ এক সময়কার শীর্ষ সন্ত্রাসী ও অপরাধীদের দুর্ভেদ্য ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ‘জঙ্গল সলিমপুর’ এলাকায় ২টি বিশ্বমানের পুলিশ একাডেমি নির্মাণের মেগা উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। গত মার্চ মাসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চিরুনি অভিযানের পর পাহাড় ঘেরা এই বিশাল অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি প্রতিষ্ঠা করেছে প্রশাসন। এবার সেই জঙ্গল সলিমপুরকে কেন্দ্র করে
চট্টগ্রাম ব্যুরো | ১৮ মে ২০২৬
এক সময়কার শীর্ষ সন্ত্রাসী ও অপরাধীদের দুর্ভেদ্য ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ‘জঙ্গল সলিমপুর’ এলাকায় ২টি বিশ্বমানের পুলিশ একাডেমি নির্মাণের মেগা উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। গত মার্চ মাসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চিরুনি অভিযানের পর পাহাড় ঘেরা এই বিশাল অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি প্রতিষ্ঠা করেছে প্রশাসন। এবার সেই জঙ্গল সলিমপুরকে কেন্দ্র করে পুলিশ একাডেমির পাশাপাশি কেন্দ্রীয় কারাগারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা নির্মাণের মহাপরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
চট্টগ্রামের নতুন পুলিশ সুপার (SP) মাসুদ আলম আজ সোমবার (১৮ মে) সাংবাদিকদের এই উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সাম্প্রতিক পুলিশ সপ্তাহে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জঙ্গল সলিমপুর নিয়ে সরকারের বিশেষ দূরদর্শী পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেছেন এবং সেখানে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ২টি পুলিশ একাডেমি নির্মাণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন।
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার অধীন প্রায় ৩ হাজার ১০০ একর আয়তনের এই দুর্গম পাহাড়ি এলাকাটি কিছুদিন আগেও ছিল অপরাধীদের অভয়ারণ্য। স্থানীয় বা বহিরাগত কোনো প্রশাসন কিংবা সাধারণ পুলিশ সদস্যরা সেখানে সহজে প্রবেশ করতে পারতেন না বলে এই অঞ্চলকে সাধারণ মানুষ ‘দেশের ভেতর আরেক দেশ’ হিসেবে আখ্যায়িত করত। তবে গত মার্চ মাসে সেনাবাহিনী, র্যাব ও পুলিশের প্রায় ৪ হাজার সদস্যের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ বাহিনীর এক নজিরবিহীন ও সফল অভিযানের মাধ্যমে পুরো এলাকাটিকে সম্পূর্ণ দখলমুক্ত করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রামের বর্তমান অপরাধ পরিস্থিতি, বিশেষ করে রাউজান উপজেলার আইনশৃঙ্খলা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন নতুন পুলিশ সুপার মাসুদ আলম। তিনি বলেন, “বিগত ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে রাউজানে একের পর এক নৃশংস হত্যাকাণ্ড, অবৈধ অস্ত্রের প্রকাশ্য ব্যবহার, চাঁদাবাজি এবং অপহরণের ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। এই অপরাধীদের কঠোর হস্তে দমনে খুব শীঘ্রই সেনাবাহিনী, র্যাব, পুলিশ এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বয়ে জেলাজুড়ে একটি বড় ধরনের যৌথ অভিযান পরিচালনার জোর প্রস্তুতি চলছে।”
সামনে ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে কোরবানির পশুর হাটের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে এসপি জানান, চট্টগ্রাম জেলার স্থায়ী ও অস্থায়ী পশুর হাটগুলোতে সব ধরনের চাঁদাবাজি, অজ্ঞান পার্টি ও ছিনতাই রুখতে জেলা পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকবে। খামারি ও ব্যাপারীদের গরু যাতায়াতের পথে যেন কোনো মহাসড়ক বা স্পটে ডাকাতির ঘটনা না ঘটে, সেজন্য মহাসড়কে নিয়মিত টহল বাড়ানো হচ্ছে। প্রয়োজনে পশুর হাটের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ লাইন্স থেকে অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করা হবে বলে সাফ জানান তিনি।
Channel July 36 

















Leave a Comment
Your email address will not be published. Required fields are marked with *