জাতীয় ও যোগাযোগ ডেস্ক | ২১ মে ২০২৬ ঢাকার অভ্যন্তরীণ যানজট নিরসন এবং নগরবাসীকে স্বস্তি দেওয়ার লক্ষ্যে নির্মিত দেশের প্রথম মেগা প্রকল্প ‘ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে’র নির্মাণকাজে এক বড় ধরণের গতিশীলতা ফিরে এসেছে। শেয়ারসংক্রান্ত আইনি জটিলতা ও দ্বন্দ্বের কারণে দীর্ঘ প্রায় দুই বছর স্থবির বা সম্পূর্ণ বন্ধ থাকার পর আবারও শুরু হয়েছে এই এক্সপ্রেসওয়ের বাকি অংশের
জাতীয় ও যোগাযোগ ডেস্ক | ২১ মে ২০২৬
ঢাকার অভ্যন্তরীণ যানজট নিরসন এবং নগরবাসীকে স্বস্তি দেওয়ার লক্ষ্যে নির্মিত দেশের প্রথম মেগা প্রকল্প ‘ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে’র নির্মাণকাজে এক বড় ধরণের গতিশীলতা ফিরে এসেছে। শেয়ারসংক্রান্ত আইনি জটিলতা ও দ্বন্দ্বের কারণে দীর্ঘ প্রায় দুই বছর স্থবির বা সম্পূর্ণ বন্ধ থাকার পর আবারও শুরু হয়েছে এই এক্সপ্রেসওয়ের বাকি অংশের মূল নির্মাণকাজ। আজ বৃহস্পতিবার (২১ মে) সেতু বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ সালের ডিসেম্বর নাগাদ পুরো এক্সপ্রেসওয়ের কাজ সফলভাবে শেষ করে এটি যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার চূড়ান্ত লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (PPP) ভিত্তিতে চীনা প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নে নির্মিত এই এক্সপ্রেসওয়ের বিমানবন্দর থেকে ফার্মগেট অংশ ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে এবং এফডিসি গেট সংলগ্ন কারওয়ান বাজার র্যাম্প ২০২৪ সালে চালু করা হয়েছিল। বর্তমানে এই চালু অংশ দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ৫৫ থেকে ৬০ হাজার যানবাহন চলাচল করছে। তবে এক্সপ্রেসওয়ে কর্তৃপক্ষের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, টোলপ্লাজাগুলোতে এখনো মূলত সনাতন বা ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে টোল আদায়ের কারণে তীব্র ধীরগতি ও যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে অনেক চালক এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহারে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে সরকারের সম্ভাব্য রাজস্ব আয়ের ওপর।
চুক্তি অনুযায়ী, এক্সপ্রেসওয়ে চালুর পর ২৫ বছর পর্যন্ত প্রতিদিন প্রথম ৮০ হাজার গাড়ির টোল পাবে অর্থায়নকারী বিদেশী প্রতিষ্ঠান। এর বেশি গাড়ি চলাচল করলে অতিরিক্ত টোল আয়ের ২৫ শতাংশ পাবে বাংলাদেশ সরকার। কিন্তু চালুর পর থেকে এখন পর্যন্ত মাত্র ৩ দিন এই এক্সপ্রেসওয়েতে ৮০ হাজারের বেশি গাড়ি চলাচল করেছে। যদিও চলতি বছরের এপ্রিলে ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন (ETC) চালু করা হয়েছে, তবে এখন পর্যন্ত মাত্র ৯ হাজারের কিছু বেশি ইটিসি ডিভাইস বিক্রি হওয়ায় বেশিরভাগ টোল এখনো ম্যানুয়াল পদ্ধতিতেই আদায় হচ্ছে।
সেতু বিভাগের সচিব মো. আবদুর রউফ প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “আগামী ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে পুরো এক্সপ্রেসওয়ের কাজ শেষ হলে যানবাহনের সংখ্যা এক লাফে অনেক বাড়বে, যা সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখবে। এছাড়া আমরা এক্সপ্রেসওয়ের মূল নকশার বাইরে গিয়ে ৩০০ ফিট, মহাখালী বাসস্ট্যান্ড ও মগবাজারের যানজট পরিস্থিতি অ্যাড্রেস করতে আরও ৪টি নতুন র্যাম্প যুক্ত করার পরিকল্পনা করছি, যার সম্ভাব্যতা যাচাই (Feasibility Study) চলছে।”
তবে মূল নকশায় এই ধরনের পরিবর্তনের বিষয়ে সরকারের দূরদর্শী সিদ্ধান্তের তাগিদ দিয়ে বিশিষ্ট যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামান সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, “মূল নকশায় আকস্মিক পরিবর্তন আনলে প্রকল্প ব্যয় এবং তা বাস্তবায়নের সময়—দুটোই অনেক বেড়ে যাবে। বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের আর্থিক লাভের জন্য সব গাড়ি এক্সপ্রেসওয়েতে তুলতে চাইবে। তবে মূল অবকাঠামো, নতুন র্যাম্প এবং নিচের সড়কগুলোর সেই অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ নেওয়ার সক্ষমতা আছে কিনা, তা নিখুঁতভাবে যাচাই করা জরুরি।” উল্লেখ্য, ২০২০ সালের জানুয়ারিতে শুরু হওয়া এই মেগা প্রকল্পের কাজ শেয়ারসংক্রান্ত আইনি দ্বন্দ্বে উচ্চ আদালত পর্যন্ত গড়ালে গত দুই বছর ধরে এর দ্বিতীয় ও তৃতীয় ফেজের কাজ সম্পূর্ণ থমকে ছিল।
Channel July 36 

















Leave a Comment
Your email address will not be published. Required fields are marked with *