অনলাইন ডেস্ক | ০৪ জুন ২০২৬ পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটিতে রাজধানী ঢাকা যখন অনেকটাই জনশূন্য, ঠিক সেই সুযোগেই পশ্চিম ঢাকার অন্যতম ব্যস্ত আবাসিক এলাকা মোহাম্মদপুরের সাত মসজিদ রোডের একটি বহুতল ভবনের ফ্ল্যাটে এক দুর্ধর্ষ ও নির্মম চুরির ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারটি ঈদের আনন্দ উদযাপনে গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার সুযোগে অজ্ঞাতপরিচয় চোরচক্র বারান্দার লোহার গ্রিল কেটে
অনলাইন ডেস্ক | ০৪ জুন ২০২৬
পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটিতে রাজধানী ঢাকা যখন অনেকটাই জনশূন্য, ঠিক সেই সুযোগেই পশ্চিম ঢাকার অন্যতম ব্যস্ত আবাসিক এলাকা মোহাম্মদপুরের সাত মসজিদ রোডের একটি বহুতল ভবনের ফ্ল্যাটে এক দুর্ধর্ষ ও নির্মম চুরির ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারটি ঈদের আনন্দ উদযাপনে গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার সুযোগে অজ্ঞাতপরিচয় চোরচক্র বারান্দার লোহার গ্রিল কেটে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে। গতকাল বুধবার (৩ জুন) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে ভুক্তভোগী বাসিন্দারা গ্রাম থেকে ফ্ল্যাটে ফিরে ঘরের এই লণ্ডভণ্ড অবস্থা সশরীরে প্রত্যক্ষ করেন। চোরচক্র কেবল ঘরের ভেতরেই প্রবেশ করেনি, বরং ভেতরের বিভিন্ন কক্ষের তালা ভেঙে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে প্লাস্টিকের আলমারিতে রক্ষিত নগদ প্রায় সাত লক্ষ টাকা এবং বিপুল পরিমাণ মূল্যবান স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে চম্পট দিয়েছে, যা উৎসবের আমেজের মাঝে ওই পরিবারে চরম বিপর্যয় ডেকে এনেছে।
এই অনভিপ্রেত ঘটনার শিকার ও ফ্ল্যাটের বাসিন্দা ভুক্তভোগী তরুণ আপন অত্যন্ত আবেগঘন কণ্ঠে গণমাধ্যমকে জানান যে, লুণ্ঠিত এই বিপুল পরিমাণ অর্থ কোনো সাধারণ সঞ্চয় ছিল না, বরং তাঁর নিজের একটি অত্যন্ত জটিল ও জরুরি অস্ত্রোপচারের (Surgery) চিকিৎসার জন্য তিনি দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত কষ্ট করে এই টাকা জমিয়েছিলেন। চিকিৎসার এই জমানো শেষ সম্বলটুকু ঘরের নিরাপদ আলমারিতে রেখেই তিনি সপরিবারে গ্রামের বাড়িতে ঈদ করতে গিয়েছিলেন, কিন্তু ফিরে এসে দেখেন চোরের দল তাঁর জীবন বাঁচানোর সেই শেষ অবলম্বনটুকুও কেড়ে নিয়েছে। এক মুহূর্তের ব্যবধানে নিজের সর্বস্ব হারিয়ে বর্তমানে চরম মানসিক ও আর্থিক সংকটের মুখে পড়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে পুরো পরিবারটি, যা স্থানীয় সমাজ ও নাগরিক মহলে তীব্র ক্ষোভ ও গভীর সহানুভূতির সৃষ্টি করেছে।
চুরির খবর পাওয়ার পর পরই মোহাম্মদপুর থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল ও অপরাধ তদন্ত বিভাগের (CID) ক্রাইম সিন ইউনিট ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছে এবং প্রাথমিক আইনি কন্ডিশনিং ও তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করে। আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, চোরচক্রের এই গ্রিল কাটার ধরণ দেখে ধারণা করা হচ্ছে এটি কোনো পেশাদার ও স্থানীয় চোর সিন্ডিকেটের কাজ এবং তারা পূর্ব থেকেই এই ফ্ল্যাটের বাসিন্দাদের যাতায়াতের ওপর নজর রাখছিল। ওই এলাকার এবং ভবনের আশেপাশের নিরাপত্তা ক্যামেরার (CCTV) ফুটেজ সংগ্রহ করে অপরাধীদের দ্রুততম সময়ে শনাক্তকরণ এবং লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারের জন্য পুলিশি অভিযান জোরদার করা হয়েছে। বিজ্ঞ নীতিনির্ধারকদের মতে, ঈদের ছুটিতে ঢাকার ফাঁকা বাড়িগুলোর নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার টহল ব্যবস্থা আরও জোরদার করা অত্যন্ত জরুরি, যাতে ভবিষ্যতে এমন কোনো মানবিক বিপর্যয়ের পুনরাবৃত্তি না ঘটে।
Channel July 36 

















Leave a Comment
Your email address will not be published. Required fields are marked with *