অনলাইন ডেস্ক | ০৪ জুন ২০২৬ মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি রক্তক্ষয়ী সংঘাত ও চরম মানবিক বিপর্যয়ের অবসান ঘটিয়ে আবারও পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে সম্মত হয়েছে লেবানন ও ইসরায়েল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে দুপক্ষের শীর্ষ নীতিনির্ধারকদের মধ্যে নিবিড় ও সফল দ্বিপাক্ষিক আলোচনার পর আজ এক বিশেষ যৌথ বিবৃতির মাধ্যমে এই ঐতিহাসিক চুক্তিটি নিশ্চিত করেছে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট। আন্তর্জাতিক
অনলাইন ডেস্ক | ০৪ জুন ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি রক্তক্ষয়ী সংঘাত ও চরম মানবিক বিপর্যয়ের অবসান ঘটিয়ে আবারও পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে সম্মত হয়েছে লেবানন ও ইসরায়েল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে দুপক্ষের শীর্ষ নীতিনির্ধারকদের মধ্যে নিবিড় ও সফল দ্বিপাক্ষিক আলোচনার পর আজ এক বিশেষ যৌথ বিবৃতির মাধ্যমে এই ঐতিহাসিক চুক্তিটি নিশ্চিত করেছে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট। আন্তর্জাতিক বার্তাসংস্থা রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে যে, বৈরুত ও তেল আবিবের এই যৌথ সম্মতি সীমান্ত অঞ্চলে চলমান তীব্র বিমান হামলা ও রকেট নিক্ষেপ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করার ক্ষেত্রে একটি সুদূরপ্রসারী আইনি ভিত্তি তৈরি করেছে। বৈশ্বিক কূটনৈতিক থিংক-ট্যাংক এবং আন্তর্জাতিক মহলের দাবি, এই যুদ্ধবিরতি কেবল যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলেই স্বস্তি ফিরিয়ে আনবে না, বরং এটি সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যের সামষ্টিক নিরাপত্তা ও ভূরাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে এক নতুন নীতিনির্ধারণী অধ্যায়ের সূচনা করবে।
চুক্তির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত শর্ত অনুযায়ী, সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ তাদের সমস্ত সামরিক কার্যক্রম ও সদস্যদের দক্ষিণ লিতানি নদী সংলগ্ন এলাকা থেকে সম্পূর্ণরূপে সরিয়ে নিতে সম্মত হয়েছে। একই সাথে, সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলোকে স্থায়ীভাবে সুরক্ষিত ও নিরস্ত্রীকরণ করার লক্ষ্যে হিজবুল্লাহর মতো প্রভাবশালী সশস্ত্র গোষ্ঠীকে হটিয়ে ওই অঞ্চলের একক প্রশাসনিক ও সামরিক নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করবে লেবাননের রাষ্ট্রীয় সশস্ত্র বাহিনী (Armed Forces)। উল্লেখ্য, এই শান্তি আলোচনার পূর্ববর্তী পটভূমিতে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে একযোগে যৌথ সামরিক হামলা চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল, যার ধারাবাহিকতায় মার্চ মাস থেকে দক্ষিণ লেবানন সীমান্তে নতুন করে ব্যাপক স্থল অভিযান শুরু করে ইসরায়েলি ডিফেন্স ফোর্স। এর বিপরীতে হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকেও ইসরায়েলের অভ্যন্তরে তীব্র পাল্টা আঘাত ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হলে সীমান্ত পরিস্থিতি চরম উদ্বেগজনক রূপ ধারণ করে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সাম্প্রতিক এই কয়েক মাসের প্রলয়ংকরী ও বর্বরোচিত সংঘাতের জেরে অন্তত ১ হাজারেরও বেশি নিরীহ লেবাননি নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন এবং লক্ষাধিক মানুষ অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। এই নজিরবিহীন জানমালের ক্ষয়ক্ষতি ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের তীব্র উদ্বেগের মাঝেই মার্কিন প্রশাসনের বিশেষ মধ্যস্থতা দুই পক্ষকে একটি অভিন্ন সমঝোতায় পৌঁছাতে বাধ্য করেছে। বিজ্ঞ নীতিনির্ধারকদের মতে, জাতিসংঘের পূর্ববর্তী রেজুলেশন ও আন্তর্জাতিক আইনি বিধিমালা কঠোরভাবে অনুসরণ করে যদি লেবানন সেনাবাহিনী সীমান্তে তাদের পূর্ণ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে পারে, তবে এই যুদ্ধবিরতি দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আর মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে মাঠপর্যায়ে এই চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হলে তা মধ্যপ্রাচ্যের ভঙ্গুর অর্থনীতি ও মানবতা রক্ষায় এক বিশাল মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে, যার দিকে এখন গভীর আগ্রহে নজর রাখছে সমগ্র সচেতন বিশ্ব সমাজ।
Channel July 36 

















Leave a Comment
Your email address will not be published. Required fields are marked with *