অনলাইন ডেস্ক | ০৮ জুন ২০২৬ চলমান যুদ্ধবিরতির চুক্তিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে আবারও পূর্ণমাত্রার রক্তক্ষয়ী সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে ইরান ও ইসরায়েল। এই সংঘাতের রেশ ধরে এবার সৌদি আরবে অবস্থিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান সামরিক স্থাপনা ‘প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটি’তে (Prince Sultan Air Base) জোরালো বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। তবে অত্যন্ত স্পর্শকাতর এই সামরিক ঘাঁটিতে কোনো ধরনের
অনলাইন ডেস্ক | ০৮ জুন ২০২৬
চলমান যুদ্ধবিরতির চুক্তিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে আবারও পূর্ণমাত্রার রক্তক্ষয়ী সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে ইরান ও ইসরায়েল। এই সংঘাতের রেশ ধরে এবার সৌদি আরবে অবস্থিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান সামরিক স্থাপনা ‘প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটি’তে (Prince Sultan Air Base) জোরালো বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। তবে অত্যন্ত স্পর্শকাতর এই সামরিক ঘাঁটিতে কোনো ধরনের হামলা চালানোর অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছে ইরান। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ‘মিডল ইস্ট আই’ (Middle East Eye) এই চাঞ্চল্যকর বিস্ফোরণের খবরটি বিশ্বমঞ্চে প্রকাশ করেছে।
আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা সূত্র ও গণমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর সাম্প্রতিক আগ্রাসনের জড়ালো জবাব দিতে রবিবার রাতে ইসরায়েলের অভ্যন্তরে একযোগে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র অভিযান পরিচালনা করে ইরান। ঠিক এই অভিযানের সমসাময়িক সময়েই সৌদি আরবের মার্কিন বিমানঘাঁটিতে একাধিক ভয়াবহ বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যায়। ইরান থেকে মিসাইল ছোঁড়ার পরপরই সৌদি সিভিল ডিফেন্স তাদের জরুরি প্রোটোকল ও সতর্কতা ব্যবস্থার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দা ও সামরিক কন্ডিশনিং কর্মীদের সম্ভাব্য বিপদের বিষয়ে অ্যালার্ট জারি করে। তবে এই বিস্ফোরণ কোনো ড্রোন বা মিসাইল হামলার কারণে নাকি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ইন্টারসেপশনের ফলে ঘটেছে—তা নিয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে সুনির্দিষ্ট কোনো পক্ষকে দায়ী না করে রহস্যময় নীরবতা বজায় রেখেছে।
এদিকে হামলার পরপরই মার্কিন ঘাঁটিতে আক্রমণের দায় সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি (IRIB) দেশের একজন উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তার বরাতে নিশ্চিত করেছে যে, ইরান ওই মার্কিন স্থাপনা লক্ষ্য করে কোনো মিসাইল বা দূরপাল্লার অস্ত্র ছোড়েনি। অপরদিকে, এই ঘটনার কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ইসরায়েলি বিমানবাহিনীও ইরানের অভ্যন্তরে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণ করেছে। ইসরায়েলের এই বিধ্বংসী হামলায় ইরানের কৌশলগত শহর ইস্ফাহান (Isfahan) এবং তাবরিজে (Tabriz) একাধিক বিস্ফোরণের বিকট শব্দ পাওয়া গেছে, যা পুরো অঞ্চলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ যুদ্ধকালীন কন্ডিশনিংয়ে (Wartime Conditioning) নিয়ে গেছে।
ভূরাজনৈতিক নীতিনির্ধারক ও সামরিক থিংক-ট্যাংকগুলোর মতে, সৌদি আরবের মাটিতে মার্কিন ঘাঁটিতে এই বিস্ফোরণ অত্যন্ত ইঙ্গিতপূর্ণ। যদি এটি ইরানের কোনো প্রক্সি নেটওয়ার্কের কাজ হয়ে থাকে, তবে তা আমেরিকার সরাসরি এই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। মাত্র কয়েকদিন আগের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি নস্যাৎ করে দুই পারমাণবিক ও সামরিক শক্তিধর দেশের এই পুশ-ব্যাক ও ডিরেক্ট স্ট্রাইক মধ্যপ্রাচ্যকে এক দীর্ঘমেয়াদি ও অনিয়ন্ত্রিত আঞ্চলিক মহাযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্বনেতারা।
Channel July 36 

















Leave a Comment
Your email address will not be published. Required fields are marked with *