অনলাইন ডেস্ক | ০৮ জুন ২০২৬ চলমান যুদ্ধবিরতির চুক্তিকে সম্পূর্ণরূপে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের দুই প্রধান সামরিক পরাশক্তি ইরান ও ইসরায়েল এবার সরাসরি এবং পূর্ণমাত্রার রক্তক্ষয়ী সম্মুখ সমরে জড়িয়ে পড়েছে। রোববার (৭ জুন) মধ্যরাত থেকে ইরানের রাজধানী তেহরানসহ দেশের একাধিক কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ শহরে তীব্র বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (IDF)। ইরানি রাষ্ট্রীয়
অনলাইন ডেস্ক | ০৮ জুন ২০২৬
চলমান যুদ্ধবিরতির চুক্তিকে সম্পূর্ণরূপে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের দুই প্রধান সামরিক পরাশক্তি ইরান ও ইসরায়েল এবার সরাসরি এবং পূর্ণমাত্রার রক্তক্ষয়ী সম্মুখ সমরে জড়িয়ে পড়েছে। রোববার (৭ জুন) মধ্যরাত থেকে ইরানের রাজধানী তেহরানসহ দেশের একাধিক কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ শহরে তীব্র বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (IDF)। ইরানি রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এবং ইসরায়েলি সামরিক উইং যৌথভাবে এই নজিরবিহীন ও বিধ্বংসী আক্রমণের খবর নিশ্চিত করেছে। রোববার রাতে ইসরায়েলি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ইরানের ছোঁড়া ঝাঁকে ঝাঁকে মিসাইল হামলার কঠোর ও ডিরেক্ট জবাব দিতেই তেলআবিব এই পাল্টা কন্ডিশনিং স্ট্রাইক (Counter Conditioning Strike) পরিচালনা করেছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ (IRNA) এবং সম্প্রচারকারী সংস্থা আইআরআইবি (IRIB) তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, রোববার মধ্যরাতের পর আচমকাই তীব্র বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে ওঠে গোটা তেহরান। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী তেহরানের আকাশে অন্তত দুটি এবং পারমাণবিক ও সামরিক অবকাঠামো সমৃদ্ধ শহর ইস্ফাহানে (Isfahan) অন্তত তিনটি শক্তিশালী বিস্ফোরণের বিকট শব্দ শোনা গেছে। এছাড়া উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় ঐতিহাসিক শহর তাবরিজেও (Tabriz) একাধিক বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। বিস্ফোরণের পরপরই আক্রান্ত শহরগুলোর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (Air Defense Systems) সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং আকাশজুড়ে ট্র্যাকার মিসাইলের আলো দেখা যায়।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর (IDF) এক জরুরি বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, তাদের দূরপাল্লার যুদ্ধবিমান ও ক্ষেপণাস্ত্রগুলো মূলত পশ্চিম ও মধ্য ইরানের সুনির্দিষ্ট সামরিক লক্ষ্যবস্তু এবং ব্যাটালিয়ন কন্ডিশনিং সেন্টারগুলোকে নিশানা করে এই নিখুঁত অপারেশন চালিয়েছে। এই সংঘাতের সূত্রপাত হয়েছিল মূলত লেবাননে ইসরায়েলের আগ্রাসনকে কেন্দ্র করে। যুদ্ধবিরতি বহাল থাকা সত্ত্বেও রোববার লেবাননের রাজধানী বৈরুতে একটি বড় ধরণের বিধ্বংসী হামলা চালায় ইসরায়েল। এর তাৎক্ষণিক প্রতিশোধ হিসেবে রোববার রাতেই ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলীয় সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ঝাঁকে ঝাঁকে দূরপাল্লার মিসাইল ছুড়েছিল তেহরান। সেই ঘটনার মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে সরাসরি ইরানের মূল ভূখণ্ডে এই ভয়াবহ পাল্টা আঘাত হানলো তেলআবিব।
ভূরাজনৈতিক নীতিনির্ধারক ও আন্তর্জাতিক সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইতিহাসের অন্যতম বিপজ্জনক এই ডিরেক্ট পুশব্যাক (Direct Pushback) সমগ্র এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা কন্ডিশনিংকে এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড় করিয়েছে। খোদ তেহরানের বুকে এই হামলার পর ইরানের সর্বোচ্চ সামরিক কাউন্সিল ও ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) নতুন করে আরও বড় ধরণের পাল্টা আক্রমণের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে গুঞ্জন রয়েছে। এই ঘটনার রেশ ধরে ইতিমধ্যে বিশ্ব বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও অর্থনৈতিক রিজার্ভের গ্রাফে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে। ওয়াশিংটন ও জাতিসংঘের পক্ষ থেকে উভয় পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানানো হলেও, পরিস্থিতি এখন সম্পূর্ণভাবে একটি অনিয়ন্ত্রিত আঞ্চলিক মহাযুদ্ধের দিকে ধাবিত হচ্ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
Channel July 36 

















Leave a Comment
Your email address will not be published. Required fields are marked with *