অনলাইন ডেস্ক | ০৮ জুন ২০২৬ মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার চলমান তীব্র সামরিক উত্তেজনার মাঝেই এক নজিরবিহীন কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিয়েছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ইসরায়েলকে ইরানের ওপর নতুন করে আর কোনো পাল্টা বা প্রতিশোধমূলক হামলা না চালানোর জন্য কঠোর ও সরাসরি আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেহরানের পক্ষ থেকে ইসরায়েলি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের
অনলাইন ডেস্ক | ০৮ জুন ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার চলমান তীব্র সামরিক উত্তেজনার মাঝেই এক নজিরবিহীন কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিয়েছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ইসরায়েলকে ইরানের ওপর নতুন করে আর কোনো পাল্টা বা প্রতিশোধমূলক হামলা না চালানোর জন্য কঠোর ও সরাসরি আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেহরানের পক্ষ থেকে ইসরায়েলি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের পরপরই একাধিক শীর্ষস্থানীয় আন্তর্জাতিক ও মার্কিন গণমাধ্যমে দেওয়া ফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ওয়াশিংটনের এই অনমনীয় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই প্রকাশ্য বারণ ও অনুরোধ সত্ত্বেও রোববার (৭ জুন) মধ্যরাতে ইরানের রাজধানী তেহরানসহ একাধিক কৌশলগত শহরে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল, যা ওয়াশিংটন ও তেলআবিবের দ্বিপাক্ষিক কন্ডিশনিংকে (Bilateral Conditioning) এক চরম টানাপোড়েনের মুখে দাঁড় করিয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফোন কলের মাধ্যমে সরাসরি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সাথে কথা বলেন এবং যুদ্ধের পরিধি আর না বাড়াতে কড়া নির্দেশনা দেন। মার্কিন প্রেসিডেন্টের বরাতে গণমাধ্যমগুলো দাবি করেছে, ইরান যে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে তাতে ইসরায়েলের কেউ হতাহত বা বড় ধরণের জখম হয়নি। ফলে এই পরিস্থিতিতে নতুন করে ইরানের মূল ভূখণ্ডে হামলা চালিয়ে যুদ্ধকে আঞ্চলিক মহাযুদ্ধে রূপ দেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। ডোনাল্ড ট্রাম্প আরও কড়া মন্তব্য করে বলেছেন, “এই মুহূর্তে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনতে এবং বৃহত্তর বিপর্যয় এড়াতে ইরানের সাথে একটি কূটনৈতিক চুক্তি (Diplomatic Deal) মেনে নেওয়া ছাড়া বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সামনে আর দ্বিতীয় কোনো বিকল্প বা রাস্তা খোলা নেই।”
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই জরুরি বার্তার কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানেই মার্কিন কন্ডিশনিংকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে ইরানের ওপর চড়াও হয় ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (IDF)। রোববার মধ্যরাত থেকে শুরু হওয়া এই আকস্মিক ও বিধ্বংসী হামলায় কেঁপে ওঠে ইরানের রাজধানী তেহরান, পারমাণবিক স্থাপনা সমৃদ্ধ ইসফাহান এবং উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর তাবরিজ। ইরানি রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ (IRNA) এবং আইআরআইবি (IRIB) তেহরানে অন্তত দুটি এবং ইসফাহানে তিনটি শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ নিশ্চিত করেছে। অপরদিকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তারা পশ্চিম ও মধ্য ইরানের সুনির্দিষ্ট সামরিক লক্ষ্যবস্তুগুলোতে নিখুঁত আঘাত হেনেছে।
আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ডোনাল্ড ট্রাম্প যেখানে সরাসরি যুদ্ধ থামানোর এবং চুক্তিতে আসার তাগিদ দিচ্ছেন, সেখানে ইসরায়েলের এই আগ্রাসী পুশব্যাক (Pushback) প্রমাণ করে যে নেতানিয়াহু প্রশাসন ওয়াশিংটনের শতভাগ নিয়ন্ত্রণে নেই। ট্রাম্পের মতো একজন প্রভাবশালী মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রকাশ্য আহ্বানকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে খোদ তেহরানের বুকে হামলা চালানোয় বিশ্বমঞ্চে ইসরায়েলের কূটনৈতিক অবস্থান আরও সংকীর্ণ হতে পারে। মার্কিন প্রশাসনের এই যুদ্ধবিরোধী অবস্থান এবং ইসরায়েলের একগুঁয়েমি কন্ডিশনিং আগামী দিনগুলোতে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে ইসরায়েলের সামরিক সহায়তা ও যুদ্ধকালীন নীতি নির্ধারণে বড় ধরণের নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
Channel July 36 

















Leave a Comment
Your email address will not be published. Required fields are marked with *