728 x 90

পল্লবীর শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় সোহেল ও তার স্ত্রীর মৃত্যুদণ্ডের ঐতিহাসিক রায়

পল্লবীর শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় সোহেল ও তার স্ত্রীর মৃত্যুদণ্ডের ঐতিহাসিক রায়

অনলাইন ডেস্ক | ০৭ জুন ২০২৬ বাংলাদেশের বিচারিক ইতিহাসে এক নজিরবিহীন, দ্রুততম ও ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করে রাজধানীর পল্লবীর আলোচিত শিশু রামিসা আক্তার (৮) ধর্ষণ ও হত্যা মামলার চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করা হয়েছে। চাঞ্চল্যকর এই মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা এবং তাকে পালাতে সহযোগিতার অপরাধে তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুন—উভয়কেই সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই

অনলাইন ডেস্ক | ০৭ জুন ২০২৬

বাংলাদেশের বিচারিক ইতিহাসে এক নজিরবিহীন, দ্রুততম ও ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করে রাজধানীর পল্লবীর আলোচিত শিশু রামিসা আক্তার (৮) ধর্ষণ ও হত্যা মামলার চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করা হয়েছে। চাঞ্চল্যকর এই মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা এবং তাকে পালাতে সহযোগিতার অপরাধে তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুন—উভয়কেই সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সাথে রায়ে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে ৫ লাখ টাকা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা জরিমানা করা হয়েছে। আজ রবিবার (৭ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিজ্ঞ বিচারক মাসরুর সালেকীন জনাকীর্ণ আদালতে প্রায় ৪০ মিনিট ধরে রায় পড়ে শুনিয়ে এই যুগান্তকারী আদেশ দেন। দেশের আইনি কন্ডিশনিংয়ের ইতিহাসে এটিই প্রথম কোনো স্পর্শকাতর ধর্ষণ ও হত্যা মামলা, যার সম্পূর্ণ বিচারিক প্রক্রিয়া মাত্র চার কার্যদিবসের মধ্যে সম্পন্ন হলো।

বিজ্ঞ বিচারক তার রায়ের পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেন, মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী শিশু রামিসাকে হত্যার পূর্বে পাশবিকভাবে ধর্ষণ করেছে, যা চিকিৎসকের প্রতিবেদন ও বৈজ্ঞানিক প্রমাণে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। বিজ্ঞ আদালত স্পষ্ট করে বলেন, “আসামিদের এই জঘন্য অপরাধ কোনোভাবেই সংশোধনযোগ্য নয়। এমন পরিস্থিতিতে আসামিদের যথাযথ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না দিলে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ব্যাহত হবে এবং আদালত নিজের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হবে।” রায় ঘোষণার সময় কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা দুই আসামির অপরাধ স্বীকারোক্তি এবং পরবর্তীতে তা প্রত্যাহারের আবেদন না করার বিষয়টিও আদালত আমলে নেন। উভয় আসামির অপরাধের মাত্রা সমান হওয়ায় আদালত কাউকেই ছাড় দেননি।

আজ সকাল থেকেই এই মামলার রায়কে কেন্দ্র করে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণ ও এর চারপাশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা বহুগুণ জোরদার করা হয়। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে কড়া পুলিশি পাহারায় সোহেল ও স্বপ্নাক আদালতে এনে হাজতখানায় রাখা হয়। বেলা বাড়ার সাথে সাথে আদালত চত্বরে গণমাধ্যমকর্মী, আইনজীবী এবং সাধারণ উৎসুক জনতার ভিড় জমতে শুরু করে। রাষ্ট্রপক্ষের আইনি উইং ও আইনজীবীরা আদালতের এই রায়কে স্বাগত জানিয়ে একে দেশের অপরাধ দমনের ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী মাইলফলক হিসেবে বর্ণনা করেছেন। অন্যদিকে, বিবাদী বা আসামিপক্ষের রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন করার আবেদন করলেও আদালত তা নাকচ করে দেন।

মামলার বিবরণে জানা যায়, গত ১৯ মে ২০২৬ তারিখে রাজধানীর পল্লবী এলাকায় প্রতিবেশী সোহেল রানার বন্ধ বাসা থেকে ৮ বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারের শিরশ্ছেদ করা নৃশংস মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পরদিনই রামিসার বাবা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনার মাত্র ৭ ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ চিরুনি অভিযান চালিয়ে ঘাতক দম্পতিকে গ্রেফতার করে এবং অত্যন্ত দক্ষতার সাথে তদন্ত শেষ করে মাত্র ৬ দিনের মাথায় আদালতে অভিযোগপত্র (Chargesheet) দাখিল করে। এরপর ১ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে মামলার বিচার শুরু হয় এবং ২ জুন রামিসার পরিবার, প্রত্যক্ষদর্শী, পুলিশ, চিকিৎসক ও তদন্তকারী কর্মকর্তাসহ মোট ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। গত বৃহস্পতিবার উভয় পক্ষের দীর্ঘ যুক্তিতর্ক শেষে আদালত আজকের দিনটি রায় ঘোষণার জন্য নির্ধারণ করেছিলেন। ঘটনার মাত্র ১৯ দিনের মাথায় এমন নৃশংস অপরাধের চূড়ান্ত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার পেয়ে রামিসার পরিবার অশ্রুসিক্ত চোখে আদালতের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে।

Posts Carousel

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked with *

Latest Posts

Top Authors

Most Commented

Featured Videos

Categories