দেশজুড়ে মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়া হাম রোগের সংক্রমণে কোমলমতি শিশুদের প্রাণহানির পেছনে এক ভয়াবহ ও নির্মম বাস্তবতা উন্মোচিত হয়েছে। রাজধানীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া ৪৭টি শিশুর তথ্য ও তাদের পারিবারিক ইতিহাস বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, মৃত শিশুদের মধ্যে প্রায় ৬১ শতাংশেরই মূলত হামের টিকা নেওয়ার আইনানুগ বয়সই হয়নি। অর্থাৎ, হাসপাতালে মৃত
দেশজুড়ে মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়া হাম রোগের সংক্রমণে কোমলমতি শিশুদের প্রাণহানির পেছনে এক ভয়াবহ ও নির্মম বাস্তবতা উন্মোচিত হয়েছে। রাজধানীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া ৪৭টি শিশুর তথ্য ও তাদের পারিবারিক ইতিহাস বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, মৃত শিশুদের মধ্যে প্রায় ৬১ শতাংশেরই মূলত হামের টিকা নেওয়ার আইনানুগ বয়সই হয়নি। অর্থাৎ, হাসপাতালে মৃত ৪৭ জনের মধ্যে ২৯ জন শিশুর বয়স ছিল সরকারের নির্ধারিত টিকাদান বয়সসীমার নিচে, যার মধ্যে এক মাসের শিশুও রয়েছে। বাকিদের মধ্যে বয়স হলেও টিকা পায়নি ১৩ জন, মাত্র এক ডোজ পেয়েছে ২ জন এবং অসুস্থতার কারণে টিকা নিতে পারেনি অনেকে। অথচ দেশে বর্তমানে সরকারি নিয়মে ৯ মাস এবং ১৫ মাস বয়সে শিশুদের হামের টিকা দেওয়া হয়। এই ভয়াবহ পরিস্থিতি সত্ত্বেও টিকার বয়সসীমা বা শিডিউল এগিয়ে আনা হবে কি না, তা নিয়ে সরকারের নীতিনির্ধারণী মহলে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
এই স্বাস্থ্য সংকটের মাঠ পর্যায়ের চিত্র কতটা ভয়াবহ, তার এক করুণ উদাহরণ শিশু জুবায়ের। হামে আক্রান্ত হওয়ার মাত্র চার দিনের মাথায় জুবায়ের মারা যাওয়ার এক সপ্তাহ পর তার মায়ের মোবাইলে স্বাস্থ্যকর্মী ফোন করেন টিকার জন্য, অথচ এর আগে টিকা না থাকায় হাসপাতাল থেকে তাদের ফেরত দেওয়া হয়েছিল। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) বৈশ্বিক পরিসংখ্যানও এই অভ্যন্তরীণ চিত্রের সত্যতা নিশ্চিত করে জানায়, হামে মোট মৃত্যুর ৫১ শতাংশই ঘটে ৯ মাস বয়সের আগে এবং ৪৪ শতাংশের মৃত্যু হয় ৯ মাস থেকে ৪ বছর বয়সের মধ্যে, যাদের বেশিরভাগই অপুষ্টি বা অন্য জটিল রোগে ভুগছিল। তবে স্বস্তির বিষয় এই যে, দুই ডোজ পূর্ণ টিকা পাওয়া কোনো শিশুর হামে মারা যাওয়ার তথ্য এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আসমা খান জানান, প্রাথমিক পর্যায়ে মায়েরা হামের উপসর্গ চিনতে না পেরে সাধারণ জ্বর ভেবে ভুল চিকিৎসা করান, ফলে সময় নষ্ট হয়ে কাশির তীব্রতা বৃদ্ধি পায় এবং পরবর্তীতে নিউমোনিয়া থেকে শিশুদের অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। সার্বিক বিষয়ে চিকিৎসাবিজ্ঞানী অধ্যাপক লিয়াকত আলী বলেন, শিশু ও মায়ের পুষ্টিহীনতা এবং বুকের দুধ সঠিকভাবে না পাওয়ায় শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা মারাত্মকভাবে ভেঙে পড়ছে; ফলে জন্মের পর প্রথম ছয় মাসের মধ্যে শিশুরা যে প্রাকৃতিক ইমিউনিটি বা সুরক্ষা পায় বলে আমরা ধরে নিই, বাস্তবে তা কতটুকু কার্যকর হচ্ছে তা নতুন করে খতিয়ে দেখার সময় এসেছে।
Channel July 36 

















Leave a Comment
Your email address will not be published. Required fields are marked with *