728 x 90

৭ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট ও বিশাল ঘাটতি, রাজস্ব লক্ষ্য অর্জন নিয়ে অর্থনীতিবিদদের গভীর সংশয়

৭ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট ও বিশাল ঘাটতি, রাজস্ব লক্ষ্য অর্জন নিয়ে অর্থনীতিবিদদের গভীর সংশয়

দেশে চলমান তীব্র অর্থনৈতিক সংকট, ডলার সংকট এবং লাগামহীন মূল্যস্ফীতির মাঝেই নতুন অর্থবছরের জন্য ৭ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার একটি বিশাল এবং উচ্চাভিলাষী বাজেট পেশ করার প্রস্তুতি চূড়ান্ত করেছে নতুন সরকার। তবে দেশের সাধারণ মানুষের আয়-ব্যয়ের হিসাব যেখানে মেলা কঠিন হয়ে পড়েছে, সেখানে সরকারের এই বিশাল বাজেটের আয় ও ব্যয় কাঠামোর সমীকরণ মেলানো নিয়েও

দেশে চলমান তীব্র অর্থনৈতিক সংকট, ডলার সংকট এবং লাগামহীন মূল্যস্ফীতির মাঝেই নতুন অর্থবছরের জন্য ৭ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার একটি বিশাল এবং উচ্চাভিলাষী বাজেট পেশ করার প্রস্তুতি চূড়ান্ত করেছে নতুন সরকার। তবে দেশের সাধারণ মানুষের আয়-ব্যয়ের হিসাব যেখানে মেলা কঠিন হয়ে পড়েছে, সেখানে সরকারের এই বিশাল বাজেটের আয় ও ব্যয় কাঠামোর সমীকরণ মেলানো নিয়েও বড় ধরণের জটিলতা তৈরি হয়েছে। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মে মাসে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ১৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ ৯ দশমিক ৪২ শতাংশে পৌঁছানোয় দেশের প্রায় ৪ থেকে ৫ কোটি মানুষ সরাসরি ব্যয়ের চরম চাপে পড়েছে। এমন বাস্তবতায় নিম্নবিত্ত ও সর্বহারা মানুষদের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করে স্বস্তি দেওয়াই হবে এই বাজেটের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। নতুন এই বাজেটে পরিচালন ব্যয়েই বরাদ্দ রাখা হচ্ছে প্রায় ৬৭ শতাংশ অর্থ, যার ফলে উন্নয়নমূলক কাজের চেয়ে রুটিন খরচেই সিংহভাগ অর্থ চলে যাবে। সবকিছু ঠিক থাকলে প্রস্তাবিত বাজেটে ঘাটতির অংক দাঁড়াতে পারে প্রায় ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা, যা অভ্যন্তরীণ ঋণ, এনবিআরের রাজস্ব আদায় এবং বৈদেশিক ঋণের ওপর ভিত্তি করে পূরণের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

বাজেটের এই বিশাল ব্যয় নির্বাহের জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (NBR) ওপর যেমন আকাশচুম্বী কর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা চাপানো হচ্ছে, তেমনি ব্যাংক খাত থেকে ১ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকার একটি বড় ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য ঠিক করছে সরকার। সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান এই পরিস্থিতিকে মূল্যায়ন করে জানিয়েছেন যে, কোভিডকাল থেকে অর্থনীতিতে চলমান কাঠামোগত সংকটের কারণেই মূলত দারিদ্র্যের হার কমছে না; এটি রাতারাতি দূর করা সম্ভব নয় বিধায় সরকারকে নতুন চিন্তাভাবনা ও প্রবৃদ্ধির নতুন উৎস তৈরি করতে হবে। অন্যদিকে, অর্থনীতিবিদ ড. মোস্তফা কে মুজেরি বর্তমান পরিস্থিতিতে এই ধরণের বড় ব্যয়ের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেছেন যে, রাজস্ব আদায় রাতারাতি বাড়ানো যেখানে অসম্ভব, সেখানে ব্যয়ের লাগাম টানা জরুরি ছিল। কর-জিডিপি হারের দিক থেকে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়া তথা সারা বিশ্বেই নিচের সারিতে রয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে এই বাজেটকে অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং সাধারণ মানুষের জন্য কল্যাণকর দাবি করে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী বাড়ানোর কথা বলা হচ্ছে, তবে দীর্ঘ সময় ধরে সাধারণ মানুষের প্রকৃত আয় না বাড়ায় এই বিশাল বাজেট সাধারণ জনগণের জীবনযাত্রায় কতটুকু ইতিবাচক কন্ডিশনিং তৈরি করতে পারবে, তা নিয়ে গভীর সংশয় প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

Posts Carousel

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked with *

Latest Posts

Top Authors

Most Commented

Featured Videos

Categories