অনলাইন ডেস্ক | ১০ জুন ২০২৬ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিবিসির এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, হরমুজ প্রণালির আকাশসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যাধুনিক অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত করার তীব্র প্রতিক্রিয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ও ইরানি সামরিক বাহিনীর মধ্যে সরাসরি যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি নির্দেশে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরানের মূল ভূখণ্ডের সামরিক লজিস্টিকস ও
অনলাইন ডেস্ক | ১০ জুন ২০২৬
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিবিসির এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, হরমুজ প্রণালির আকাশসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যাধুনিক অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত করার তীব্র প্রতিক্রিয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ও ইরানি সামরিক বাহিনীর মধ্যে সরাসরি যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি নির্দেশে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরানের মূল ভূখণ্ডের সামরিক লজিস্টিকস ও রাডার লক্ষ্য করে হামলা চালানোর পর, এর ভয়াবহ প্রতিশোধ হিসেবে বাহরাইন, কুয়েত এবং জর্ডানে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি প্রধান সামরিক ঘাঁটিতে একযোগে দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের সাহায্যে প্রলয়ঙ্করী পাল্টা আঘাত হেনেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ইরনার বরাতে আইআরজিসি দাবি করেছে, জর্ডানের আল-আজরাক এলাকায় অবস্থিত মার্কিন বিমানঘাঁটিতে তাদের ছোঁড়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলো নিখুঁতভাবে আঘাত হেনেছে এবং সেখানে থাকা মার্কিন বিমান বাহিনীর অন্যতম প্রধান শক্তি এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমানের কৌশলগত অবস্থান ও একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার সম্পূর্ণ ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে।
সামরিক এই আকস্মিক সংঘাতের পর পুরো মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক ও সামরিক কন্ডিশনিং চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। জর্ডানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোঁড়া পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র তারা তাদের নিজস্ব উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে আকাশেই প্রতিহত ও ভূপাতিত করেছে, যার ধ্বংসাবশেষ আল-আজরাক অঞ্চলের জর্ডানি ভূখণ্ডে গিয়ে পড়েছে। তবে এই ঘটনায় জর্ডানের কোনো বেসামরিক বা সামরিক নাগরিক হতাহত হয়নি। অন্যদিকে, কুয়েতের সেনাবাহিনী এবং তাদের জেনারেল স্টাফ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক জরুরি পোস্টে নিশ্চিত করেছে যে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বর্তমানে সক্রিয় কন্ডিশনে রয়েছে এবং সীমানায় প্রবেশ করা যেকোনো ‘শত্রু’ লক্ষ্যবস্তু ও ড্রোন শনাক্ত করে তা ধ্বংস করার জন্য কাজ করে যাচ্ছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মার্কিন প্রশাসনকে চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন যে, যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সামরিক দৃঢ়তা পরীক্ষা করতে এসেছে, যার পরিণতি হবে অত্যন্ত ভয়াবহ এবং মার্কিনীদের যদি নিরাপদ থাকতে হয়, তবে অবিলম্বে তাদের মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল ছেড়ে চলে যাওয়া উচিত।
এর আগে মার্কিন গণমাধ্যম অ্যাক্সিওসের গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স প্রতিবেদক বারাক রাভিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালির আশপাশে অবস্থিত ইরানের বেশ কয়েকটি স্পর্শকাতর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং রাডার স্থাপনা ধ্বংস করার জন্য মার্কিন সেন্টকম মঙ্গলবার বিকেল থেকে তাদের আত্মরক্ষামূলক অপারেশন শুরু করে। ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে দাবি করেছিলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক একটি অ্যাপাচি হেলিকপ্টারকে টহলরত অবস্থায় আগের রাতে ইরান বেআইনিভাবে ভূপাতিত করায় এই মার্কিন বিমান হামলা অনিবার্য হয়ে উঠেছিল। তবে ওয়াশিংটনের একজন উচ্চ-পদস্থ কর্মকর্তা সিএনএন-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কিছুটা নরম সুর প্রকাশ করে জানিয়েছেন, মার্কিন বাহিনীর এই হামলা মূলত ইরানকে একটি কঠোর সতর্কবার্তা দেওয়ার জন্য পরিচালিত হয়েছিল এবং তারা মনে করেন না যে এই সামরিক কন্ডিশনিংয়ের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘস্থায়ী শান্তি আলোচনা বা যুদ্ধ বন্ধের কূটনৈতিক লজিস্টিকস চেইন ব্যাহত হবে। তা সত্ত্বেও, দুই দেশের শীর্ষ সামরিক নেতৃত্বের পাল্টাপাল্টি যুদ্ধংদেহী অবস্থান পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা কাঠামোকে এক চরম অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে।
Channel July 36 

















Leave a Comment
Your email address will not be published. Required fields are marked with *