অনলাইন ডেস্ক | ১০ জুন ২০২৬ কানাডার জাতীয় বিমান সংস্থা এয়ার কানাডার এক সিনিয়র পাইলটের বিরুদ্ধে দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে ভুয়া লাইসেন্স ব্যবহার করে বোয়িংসহ বিভিন্ন দূরপাল্লার যাত্রীবাহী বিমান চালানোর এক নজিরবিহীন ও ভয়ংকর জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক বিশেষ প্রতিবেদনে কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, ৫৯ বছর বয়সী ওই পাইলটের নাম জিওফ্রি
অনলাইন ডেস্ক | ১০ জুন ২০২৬
কানাডার জাতীয় বিমান সংস্থা এয়ার কানাডার এক সিনিয়র পাইলটের বিরুদ্ধে দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে ভুয়া লাইসেন্স ব্যবহার করে বোয়িংসহ বিভিন্ন দূরপাল্লার যাত্রীবাহী বিমান চালানোর এক নজিরবিহীন ও ভয়ংকর জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক বিশেষ প্রতিবেদনে কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, ৫৯ বছর বয়সী ওই পাইলটের নাম জিওফ্রি ওয়াল, যিনি কানাডার অন্টারিও প্রদেশের বাসিন্দা। পিল রিজিওনাল পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে যে, ১৯৯৮ সালে এয়ার কানাডায় যোগ দেওয়া জিওফ্রি ওয়াল ২০০৯ সালে ক্যাপ্টেন হিসেবে পদোন্নতি পাওয়ার পর থেকেই সম্পূর্ণ জাল নথিপত্র ব্যবহার করে ককপিটে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। আন্তর্জাতিক এভিয়েশন প্রটোকল অনুযায়ী ক্যাপ্টেন পদের জন্য নির্দিষ্ট পরীক্ষা ও যোগ্যতা প্রদর্শনপূর্বক ‘এয়ারলাইন ট্রান্সপোর্ট পাইলট লাইসেন্স’ (ATPL) থাকা বাধ্যতামূলক হলেও, জিওফ্রি ওয়ালের তা ছিল না। এই ভয়াবহ জালিয়াতির ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর কানাডাসহ পুরো বিশ্বজুড়ে এভিয়েশন সিকিউরিটি ও পাইলট কন্ডিশনিং নিয়ে তীব্র তোলপাড় ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তাদের লজিস্টিকস ও অনুসন্ধান তথ্য অনুযায়ী, বিগত ১৭ বছরে অভিযুক্ত এই পাইলট বোয়িংসহ বিভিন্ন ধরনের বিমান চালিয়ে প্রায় ৯০০টি অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন এবং এই দীর্ঘ সময়ে ভুয়া পরিচয়ে বহাল থেকে বিমান সংস্থা থেকে মিলিয়ন ডলারের বেতন-ভাতা ও লজিস্টিকস সুবিধা ভোগ করেছেন। পিল রিজিওনাল পুলিশের ডেপুটি চিফ নিক মিলিনোভিচ এই অপরাধের তীব্রতা বোঝাতে গিয়ে মন্তব্য করেছেন যে, এই ঘটনাটি চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ঠিক তেমন, যেন কেউ একজন সাধারণ পারিবারিক চিকিৎসকের লাইসেন্স নিয়ে রোগীর মস্তিষ্কে জটিল অস্ত্রোপচার করছেন। গত বছর বিমান সংস্থাটির একটি সাধারণ ও নিয়মিত কন্ডিশনিং মূল্যায়নের সময় জিওফ্রি ওয়ালের লাইসেন্সে বড় ধরণের অসঙ্গতি ধরা পড়ে এবং পরবর্তীতে কানাডার পরিবহন নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘ট্রান্সপোর্ট কানাডা’ ও পুলিশের যৌথ অনুসন্ধানে তাঁর লাইসেন্সটি সম্পূর্ণ জাল বলে প্রমাণিত হয়। এই নজিরবিহীন জালিয়াতির অপরাধে জুনের প্রথম দিনেই তাঁর বিরুদ্ধে প্রতারণা, জাল নথি তৈরি এবং ভুয়া পরিচয় ব্যবহারসহ মোট সাতটি গুরুতর ফৌজদারি অপরাধের চার্জ গঠন করা হয়েছে।
এদিকে এয়ার কানাডা কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে এক বিবৃতি প্রকাশ করে জানিয়েছে যে, বিষয়টি অডিটে ধরা পড়ার সাথে সাথেই ওই পাইলটকে তাঁর উড্ডয়ন লজিস্টিকস ও ডিয়ুটি থেকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। তবে বিমান সংস্থাটি দাবি করেছে যে, অভিযুক্তের একটি সাধারণ কমার্শিয়াল পাইলট লাইসেন্স থাকায় এবং সমস্ত পাইলট প্রতি ছয় মাস অন্তর কঠোর দক্ষতা যাচাই কন্ডিশনিং ও সিমুলেটর প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে যাওয়ায়, ফ্লাইটে থাকা যাত্রীদের নিরাপত্তা কখনোই সরাসরি ঝুঁকির মুখে ছিল না। পুলিশ প্রশাসন অবশ্য জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক অপরাধীরা অত্যন্ত সতর্কভাবে তাদের পরিচয় লুকিয়ে রাখায় এই ধরণের প্রাতিষ্ঠানিক প্রতারণা দীর্ঘদিন ধরে আড়ালে থেকে যাওয়া খুব একটা অস্বাভাবিক নয়। এয়ার কানাডার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ১৭ বছর আকাশে রাজত্ব করা এই অভিযুক্ত পাইলটকে আগামী ২৯ জুন কানাডার স্থানীয় আদালতে হাজির করা হবে, যেখানে এই বিশাল এভিয়েশন জালিয়াতির চূড়ান্ত আইনি ফয়সালা হবে।
Channel July 36 

















Leave a Comment
Your email address will not be published. Required fields are marked with *