আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ১৮ জুন ২০২৬ দীর্ঘদিনের বৈরিতা ও যুদ্ধাবস্থার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে কার্যকর হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার ঐতিহাসিক দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ)। ফ্রান্সের এভিয়ান-লে-বাঁ-এ অনুষ্ঠিত জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এই ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা বিবিসি হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তার বরাতে
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ১৮ জুন ২০২৬
দীর্ঘদিনের বৈরিতা ও যুদ্ধাবস্থার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে কার্যকর হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার ঐতিহাসিক দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ)। ফ্রান্সের এভিয়ান-লে-বাঁ-এ অনুষ্ঠিত জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এই ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা বিবিসি হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তার বরাতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। ট্রাম্প প্রশাসন এই চুক্তিকে একটি ‘শর্তসাপেক্ষ চুক্তি’ হিসেবে উল্লেখ করেছে, যার অর্থ চুক্তিপত্রের শর্তগুলো সঠিকভাবে পালন করলেই কেবল ইরান সব ধরণের আন্তর্জাতিক সুবিধা ও ছাড় পাবে।
মূলত ১৪টি প্রধান দফার ওপর ভিত্তি করে এই ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারকটি তৈরি করা হয়েছে। চুক্তির মূল শর্তগুলো নিচে সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
-
যুদ্ধের অবসান ও সার্বভৌমত্ব: যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং তাদের মিত্র দেশগুলো লেবাননসহ ‘সব ফ্রন্টে’ অবিলম্বে এবং স্থায়ীভাবে সব ধরণের সামরিক অভিযান বন্ধ করবে। কোনো পক্ষই একে অপরকে আর সামরিক হুমকি দেবে না এবং একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবে না।
-
অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার: চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর আগামী ৩০ দিনের মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দর ও নৌপথের ওপর আরোপিত সব অবরোধ পুরোপুরি তুলে নেবে। একই সাথে জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞাসহ সব ধরণের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ধাপে ধাপে প্রত্যাহার করা হবে।
-
হরমুজ প্রণালী উন্মুক্তকরণ: বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য ইরানকে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’ সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করে দিতে হবে। কোনো প্রকার বাড়তি ফি বা কর ছাড়াই আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে হবে।
-
পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণ: ইরান কখনোই কোনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা ক্রয় করবে না বলে সম্মত হয়েছে। তাদের বর্তমান সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-এর কঠোর নজরদারিতে থাকবে এবং চূড়ান্ত সমাধান না হওয়া পর্যন্ত নতুন কোনো পারমাণবিক কর্মসূচি চালানো যাবে না।
-
পুনর্গঠন তহবিল ও আটকে থাকা অর্থ: ইরানের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি বিশেষ পুনর্গঠন তহবিল গঠন করা হবে। তবে এই তহবিলে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি কোনো আর্থিক অবদান বাধ্যতামূলক থাকবে না। এছাড়া বিভিন্ন দেশে ইরানের আটকে থাকা অর্থ শর্তপূরণ সাপেক্ষে ধাপে ধাপে মুক্ত করা হবে।
আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহল এই চুক্তিকে বিশ্বশান্তির পথে একটি বিশাল বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। এই চুক্তির ফলে বিশ্ববাজারে ইতিমধ্যে জ্বালানি তেলের দাম কমতে শুরু করেছে এবং আন্তর্জাতিক শিপিং রুটগুলো নিরাপদ হয়েছে। চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য দুই দেশকে সর্বোচ্চ ৬০ দিনের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। চুক্তিটি সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে কি না, তা পর্যবেক্ষণের জন্য একটি বিশেষ আন্তর্জাতিক কমিটি গঠন করা হবে এবং পরবর্তীতে এটি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বাধ্যতামূলক প্রস্তাব হিসেবে পাস করা হবে।
Channel July 36 
















Leave a Comment
Your email address will not be published. Required fields are marked with *