728 x 90

রায়পুরের সেই বর্বরোচিত ট্র্যাজেডি, কুমিল্লার হোমনায় পাশাপাশি ৪ কবরে চিরনিদ্রায় মা ও তিন মেয়ে, বাকরুদ্ধ একমাত্র সন্তান সিফাত

রায়পুরের সেই বর্বরোচিত ট্র্যাজেডি, কুমিল্লার হোমনায় পাশাপাশি ৪ কবরে চিরনিদ্রায় মা ও তিন মেয়ে, বাকরুদ্ধ একমাত্র সন্তান সিফাত

আঞ্চলিক প্রতিবেদক | ২৭ জুন ২০২৬ লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার মা শাহীনুর বেগম ও তাঁর তিন মেয়েকে কুমিল্লার হোমনা উপজেলায় তাঁদের নিজ গ্রামে পাশাপাশি চারটি কবরে সমাহিত করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার (২৬ জুন) রাত সাড়ে ১০টার দিকে দ্বিতীয় দফা জানাজা শেষে অশ্রুসিক্ত নয়নে লটিয়া গ্রামে তাঁদের দাফন সম্পন্ন হয়। হোমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)

আঞ্চলিক প্রতিবেদক | ২৭ জুন ২০২৬

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার মা শাহীনুর বেগম ও তাঁর তিন মেয়েকে কুমিল্লার হোমনা উপজেলায় তাঁদের নিজ গ্রামে পাশাপাশি চারটি কবরে সমাহিত করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার (২৬ জুন) রাত সাড়ে ১০টার দিকে দ্বিতীয় দফা জানাজা শেষে অশ্রুসিক্ত নয়নে লটিয়া গ্রামে তাঁদের দাফন সম্পন্ন হয়। হোমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) টমাস বড়ুয়া এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এই মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক ঘটনায় পুরো এলাকা জুড়ে এখন গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

এর আগে শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টায় মা শাহীনুর বেগম (৩৮), তাঁর বড় মেয়ে সায়মা আক্তার (২১), মেজ মেয়ে নাফিসা আক্তার ইকরা (১৭) ও ছোট মেয়ে ফাতেমা আক্তার শিফার (১০) মরদেহ ঢাকা ও লক্ষ্মীপুর থেকে গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়। এ সময় স্বজনদের আহাজারি আর কান্নায় চারপাশের বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। মা-বোনদের হারিয়ে এই পুরো পরিবারে এখন একমাত্র জীবিত সদস্য হিসেবে অবশিষ্ট রয়েছে কিশোর মো. সিফাত। এবার এসএসসি পরীক্ষা দেওয়া এই কিশোরই একা হাতে ঢাকা ও লক্ষ্মীপুর থেকে মা ও তিন বোনের লাশ গ্রামে বয়ে নিয়ে আসে। ঘটনার সময় সে বাসার বাইরে থাকায় অলৌকিকভাবে বেঁচে গেলেও, চোখের সামনে পুরো পরিবারকে হারিয়ে সিফাত এখন সম্পূর্ণ বাকরুদ্ধ ও স্তব্ধ হয়ে পড়েছে।

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার সকালে রায়পুর পৌরসভার ধানহাটা নদীর পাড় এলাকায় একটি পাঁচ তলা ভবনের নিচতলার বাসায় ঢুকে এই চারজনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। তাঁদের চিৎকার শুনে স্থানীয় এক নারী বুদ্ধিমত্তার সাথে বাসার মূল গেটটি বাইরে থেকে বন্ধ করে দেন। এতে ভবনের ভেতরেই আটকে পড়েন অন্তর মজুমদার নামের এক ফল ব্যবসায়ী, যিনি আগে ওই ভবনের পাঁচ তলায় ভাড়াটিয়া হিসেবে থাকতেন। পরবর্তীতে অন্তর ছাদ দিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে স্থানীয় জনতা তাঁকে আটকে গণপিটুনি দেয় এবং পরে তিনিও মারা যান। নিহত শাহীনুরের ছোট ভাই ছানা উল্লাহ জানান, অন্তর জানতো বাসা ভাড়ার টাকা শাহীনুরের কাছে জমা থাকত এবং তাঁর কাছে কিছু স্বর্ণালংকারও ছিল। মূলত সেই স্বর্ণ ও টাকা লুট করতেই এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। স্বজন ও এলাকাবাসী এই ঘটনার পেছনে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা বের করতে প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

Posts Carousel

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked with *

Latest Posts

Top Authors

Most Commented

Featured Videos

Categories