728 x 90

কঙ্গো-উগান্ডায় ইবোলা ভাইরাসে ৮০ জনের মৃত্যু, বিশ্বজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা

কঙ্গো-উগান্ডায় ইবোলা ভাইরাসে ৮০ জনের মৃত্যু, বিশ্বজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা

আন্তর্জাতিক ও স্বাস্থ্য ডেস্ক | ১৭ মে ২০২৬ আফ্রিকার দেশ গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র (ডিআর কঙ্গো) ও প্রতিবেশী দেশ উগান্ডায় প্রাণঘাতী ইবোলা ভাইরাসের (Ebola Virus) ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় এই প্রাদুর্ভাবকে ‘আন্তর্জাতিক উদ্বেগের জনস্বাস্থ্যে জরুরি অবস্থা’ (PHEIC) ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি-র এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। আফ্রিকার

আন্তর্জাতিক ও স্বাস্থ্য ডেস্ক | ১৭ মে ২০২৬

আফ্রিকার দেশ গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র (ডিআর কঙ্গো) ও প্রতিবেশী দেশ উগান্ডায় প্রাণঘাতী ইবোলা ভাইরাসের (Ebola Virus) ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় এই প্রাদুর্ভাবকে ‘আন্তর্জাতিক উদ্বেগের জনস্বাস্থ্যে জরুরি অবস্থা’ (PHEIC) ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি-র এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

আফ্রিকার শীর্ষ স্বাস্থ্য সংস্থা ‘আফ্রিকা সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন’ (আফ্রিকা সিডিসি) জানিয়েছে, ডিআর কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি প্রদেশে ইবোলার প্রাদুর্ভাবে এখন পর্যন্ত প্রায় ২৪৬ জন আক্রান্ত হয়েছেন এবং এর মধ্যে ৮০ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে ৪ জনের শরীরে ল্যাব পরীক্ষার মাধ্যমে শতভাগ ইবোলা নিশ্চিত হওয়া গেছে। আক্রান্তদের বেশিরভাগই স্বর্ণখনি অধ্যুষিত মঙ্গওয়ালু ও রওয়াম্পারা শহরের বাসিন্দা। এছাড়া ইতুরির প্রাদেশিক রাজধানী বুনিয়াতেও নতুন করে সন্দেহভাজন রোগী শনাক্তের খবর পাওয়া গেছে।

দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার ৫৯ বছর বয়সী এক ব্যক্তি আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান, যার নমুনায় পরবর্তীতে ইবোলা ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া যায়। মঙ্গওয়ালুর খনিশিল্প এবং শহুরে ঘনবসতির কারণে এই সংক্রমণ উগান্ডাসহ পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলোতে আরও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার উচ্চ ঝুঁকি রয়েছে বলে সতর্ক করেছে আফ্রিকা সিডিসি।

চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, ১৯৭৬ সালে বর্তমান ডিআর কঙ্গো অঞ্চলে প্রথম ইবোলা ভাইরাসের সন্ধান মেলে, যা মূলত বাদুড় থেকে মানুষের শরীরে ছড়ায়। এটি দেশটিতে ইবোলার ১৭তম প্রাদুর্ভাব। আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরের তরল পদার্থ (লালা, রক্ত ইত্যাদি) এবং ক্ষতস্থানের সরাসরি সংস্পর্শের মাধ্যমে এই ভাইরাস একজন থেকে অন্যজনে ছড়ায়। প্রাথমিক উপসর্গের মধ্যে রয়েছে তীব্র জ্বর, পেশিতে ব্যথা, ক্লান্তি, মাথাব্যথা ও গলাব্যথা। পরবর্তীতে বমি, ডায়রিয়া, চামড়ায় র‍্যাশ এবং একপর্যায়ে তীব্র অভ্যন্তরীণ-বাহ্যিক রক্তক্ষরণ ও অঙ্গ বিকল হতে শুরু করে। ডব্লিউএইচও-র তথ্য অনুযায়ী, ইবোলার এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই এবং এই রোগে গড়ে মৃত্যুহার প্রায় ৫০ শতাংশ।

উল্লেখ্য, গত ৫০ বছরে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে ইবোলা ভাইরাসে প্রায় ১৫ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এর আগে ২০১৮ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে কঙ্গোতে হওয়া সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাদুর্ভাবে ২ হাজার ৩০০ মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন।

Posts Carousel

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked with *

Latest Posts

Top Authors

Most Commented

Featured Videos

Categories