আন্তর্জাতিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক | ১৯ মে ২০২৬ ভারতীয় ধনকুবের গৌতম আদানির বিরুদ্ধে আনা বিলিয়ন ডলারের জালিয়াতি, ঘুষ ও ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের মতো গুরুতর সব ফৌজদারি অভিযোগ ট্রাম্প প্রশাসন কর্তৃক প্রত্যাহারের পেছনে এক চাঞ্চল্যকর নেপথ্য কাহিনী উঠে এসেছে। ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা ‘রয়টার্স’ (Reuters)-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এই ঐতিহাসিক আইনি
আন্তর্জাতিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক | ১৯ মে ২০২৬
ভারতীয় ধনকুবের গৌতম আদানির বিরুদ্ধে আনা বিলিয়ন ডলারের জালিয়াতি, ঘুষ ও ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের মতো গুরুতর সব ফৌজদারি অভিযোগ ট্রাম্প প্রশাসন কর্তৃক প্রত্যাহারের পেছনে এক চাঞ্চল্যকর নেপথ্য কাহিনী উঠে এসেছে। ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা ‘রয়টার্স’ (Reuters)-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এই ঐতিহাসিক আইনি নাটক ও রফাদফার মূল নেপথ্য কারিগর বা ‘কমন নাউন’ হচ্ছেন স্বয়ং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যক্তিগত আইনজীবী, যিনি একই সাথে গৌতম আদানিরও প্রধান আইনি পরামর্শক হিসেবে কাজ করছেন।
আজ মঙ্গলবার (১৯ মে) আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের চুলচেরা বিশ্লেষণে জানা গেছে, গত মাসে আদানির এই প্রভাবশালী আইনজীবী মার্কিন আদালতে একটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব বা যুক্তি তুলে ধরেছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন, তাঁর মক্কেল গৌতম আদানি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে জ্বালানি ও অবকাঠামো খাতে সরাসরি ১০ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা) মেগা বিনিয়োগ করতে আগ্রহী, যা দেশটির অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে বিশাল ভূমিকা রাখবে। তবে এই সব ফৌজদারি মামলা ও আইনি জটিলতা সচল থাকায় আদানি গ্রুপ এই বিপুল পুঁজি বিনিয়োগ করতে পারছে না। আইনজীবীর এই বিবৃতির ঠিক কয়েক সপ্তাহের মাথায় গতকাল সোমবার (১৮ মে) মার্কিন বিচার বিভাগ (DOJ) নজিরবিহীনভাবে আদানির মামলা বাতিলের চূড়ান্ত উদ্যোগ নেয়।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আমলে নেওয়া বড় বড় করপোরেট মামলার সিদ্ধান্ত থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বর্তমান প্রশাসনের সরে আসার এটিই সবচেয়ে বড় ও আলোচিত উদাহরণ। এর মাধ্যমে কেবল ২৬৫ মিলিয়ন ডলারের ঘুষ কেলেঙ্কারির মামলাই নয়, বরং আদানির একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ইরানের ওপর মার্কিন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের যে অতি-স্পর্শকাতর অভিযোগ ছিল, সেটিও সম্পূর্ণ নিষ্পত্তি করে দিয়েছে ট্রাম্পের বিচার বিভাগ।
উল্লেখ্য, নিউ ইয়র্কের আদালতের আগের অভিযোগে বলা হয়েছিল, আদানি গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘আদানি গ্রিন এনার্জি’-কে ভারতের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের কাজ পাইয়ে দিতে ভারতীয় সরকারি কর্মকর্তাদের ২৬৫ মিলিয়ন (২৬.৫ কোটি) ডলার ঘুষ দেওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছিলেন গৌতম আদানি ও তাঁর সহযোগীরা। প্রসিকিউটরদের দাবি ছিল, আদানি এই দুর্নীতির তথ্য সম্পূর্ণ গোপন করে আন্তর্জাতিক ঋণদাতা ও মার্কিন বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে জালিয়াতির মাধ্যমে ৩ বিলিয়ন (৩০০ কোটি) ডলারের বেশি অর্থ সংগ্রহ করেছিলেন। তবে শুরু থেকেই সব ধরনের অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগ কঠোরভাবে অস্বীকার করে আসছিল আদানি গ্রুপ। ট্রাম্পের ব্যক্তিগত আইনজীবীর সরাসরি মধ্যস্থতা ও ১০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগের ওয়াদায় এই মেগা অপরাধের অভিযোগ ধামাচাপা পড়ার ঘটনায় আন্তর্জাতিক আইনি অঙ্গনে এখন নতুন করে তুমুল বিতর্কের ঝড় উঠেছে।
Channel July 36 

















Leave a Comment
Your email address will not be published. Required fields are marked with *