আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ২২ মে ২০২৬ মধ্য আফ্রিকার দেশ কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে প্রাণঘাতী ‘ইবোলা’ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব এখন এক ভয়াবহ মানবিক ও সামাজিক বিপর্যয়ে রূপ নিয়েছে। ভাইরাসের বিস্তার রোধে ইবোলায় আক্রান্ত হয়ে মৃত এক যুবকের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অস্বীকৃতি জানালে দেশটিতে এক নজিরবিহীন মেগা সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। উত্তেজিত ও বিক্ষুব্ধ জনতা হাসপাতালের ইবোলা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ২২ মে ২০২৬
মধ্য আফ্রিকার দেশ কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে প্রাণঘাতী ‘ইবোলা’ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব এখন এক ভয়াবহ মানবিক ও সামাজিক বিপর্যয়ে রূপ নিয়েছে। ভাইরাসের বিস্তার রোধে ইবোলায় আক্রান্ত হয়ে মৃত এক যুবকের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অস্বীকৃতি জানালে দেশটিতে এক নজিরবিহীন মেগা সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। উত্তেজিত ও বিক্ষুব্ধ জনতা হাসপাতালের ইবোলা রোগীদের জন্য নির্ধারিত বিশেষ কোয়ারেন্টাইন ও আইসোলেশন তাঁবুতে (Isolation Camp) অগ্নিসংযোগ করে তা সম্পূর্ণ পুড়িয়ে দিয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার (২১ মে) কঙ্গোর একটি প্রধান শহরে এই ঘটনা ঘটে বলে আজ শুক্রবার (২২ মে) যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম বিবিসি (BBC) এক বিশেষ প্রতিবেদনে নিশ্চিত করেছে।
কঙ্গো প্রশাসন ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, সম্প্রতি স্থানীয় এক যুবক ইবোলা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। চিকিৎসা বিজ্ঞান ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য প্রটোকল অনুযায়ী, ইবোলা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত ব্যক্তির শরীর অত্যন্ত সংক্রামক হয়ে থাকে এবং মরদেহ থেকে ভাইরাসটি দ্রুত সাধারণ মানুষের মাঝে ছড়িয়ে পড়ার মেগা ঝুঁকি থাকে। এই কারণে ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে হাসপাতাল প্রশাসন দাফনের জন্য মরদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর না করে কঠোর সুরক্ষায় দাফন করার সিদ্ধান্ত নেয়। এতে চরম ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন মৃতের আত্মীয়-স্বজন এবং শত শত স্থানীয় বাসিন্দা।
একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতা লাঠিসোঁটা নিয়ে হাসপাতালের ভেতরে জোরপূর্বক প্রবেশ করে ব্যাপক ভাঙচুর শুরু করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং হাসপাতাল স্টাফ ও চিকিৎসকদের সুরক্ষায় স্থানীয় পুলিশ বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে উপর্যুপরি টিয়ারশেল (কাদানে গ্যাস) নিক্ষেপ করে। এতে সংঘর্ষ আরও তীব্র আকার ধারণ করে এবং একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতা হাসপাতালের মূল চত্বরে অবস্থিত ইবোলা আক্রান্ত ও সন্দেহভাজন রোগীদের আলাদা রাখার বিশেষ কোয়ারেন্টাইন তাঁবুগুলোতে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুনে আইসোলেশন সেন্টারের বিপুল পরিমাণ জরুরি চিকিৎসাসামগ্রী ও তাঁবু সম্পূর্ণ ছাই হয়ে গেছে।
কঙ্গোর এই চরম স্বাস্থ্য সহিংসতার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)। সংস্থাটির সর্বশেষ মেগা তথ্য অনুযায়ী, কঙ্গোতে চলমান ইবোলা আউটব্রেকে এ পর্যন্ত অন্তত ১৩৯ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং সন্দেহভাজন আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ইতিমধ্যেই ৬০০ ছাড়িয়ে গেছে। ডব্লিউএইচও (WHO) স্পষ্ট করেছে যে, ইবোলা রোগীদের আইসোলেশন ক্যাম্প পুড়িয়ে দেওয়ার এই ঘটনা স্থানীয়ভাবে ভাইরাসের মেগা বিস্তারকে আরও বহু গুণ বাড়িয়ে দিতে পারে। কঙ্গো সরকার আক্রান্ত জেলাগুলোতে অতিরিক্ত সেনা ও পুলিশ মোতায়েন করে হাসপাতালের নিরাপত্তা জোরদার করেছে এবং সাধারণ মানুষকে ইবোলার ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতন হতে বারবার অনুরোধ জানাচ্ছে।
Channel July 36 
















Leave a Comment
Your email address will not be published. Required fields are marked with *