আদালত ও বিচারালয় ডেস্ক | ২২ মে ২০২৬ রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে সাত বছরের নিষ্পাপ শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে গলা কেটে মাথা বিচ্ছিন্ন করে হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় আসামিপক্ষে কোনো আইনজীবী মামলা পরিচালনা করবেন না। ঢাকা আইনজীবী সমিতি (ঢাকা বার) এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক মেগা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। আজ শুক্রবার (২২ মে) সকালে
আদালত ও বিচারালয় ডেস্ক | ২২ মে ২০২৬
রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে সাত বছরের নিষ্পাপ শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে গলা কেটে মাথা বিচ্ছিন্ন করে হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় আসামিপক্ষে কোনো আইনজীবী মামলা পরিচালনা করবেন না। ঢাকা আইনজীবী সমিতি (ঢাকা বার) এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক মেগা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। আজ শুক্রবার (২২ মে) সকালে ঢাকা বারের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মোহাম্মদ কালাম খান তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক প্রোফাইলে দেওয়া এক বিশেষ পোস্টে এই চাঞ্চল্যকর আইনি বয়কটের তথ্যটি দেশবাসীকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ঢাকা বারের কার্যনির্বাহী কমিটির জরুরি সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, তাদের সমিতির কোনো রেজিস্টার্ড বা বিজ্ঞ আইনজীবী এই বর্বরোচিত হত্যা মামলার আসামিদের পক্ষে আদালতে আইনি লড়াইয়ে অংশ নেবেন না।
আইনজীবী সমিতির এই মেগা সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে সাধারণ মানুষ ও ক্ষুব্ধ নাগরিক সমাজ। এর আগে গত মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে পল্লবী এলাকার একটি আবাসিক ফ্ল্যাটের খাটের নিচ থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী শিশু রামিসার মস্তকবিহীন রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরবর্তীতে ওই ফ্ল্যাটেরই বাথরুমের ভেতরে রাখা একটি প্লাস্টিকের বালতির ভেতর থেকে তার বিচ্ছিন্ন মাথাটি উদ্ধার করা হলে পুরো দেশজুড়ে তীব্র মেগা ক্ষোভ ও আলোড়ন সৃষ্টি হয়। এই নজিরবিহীন ও লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের পর পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়, যেখানে ইতিমধ্যেই দেশের আইনমন্ত্রী দ্রুততম সময়ে তদন্ত শেষের ডেডলাইন দিয়েছেন এবং স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী ভুক্তভোগী পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন।
তদন্তসংশ্লিষ্ট পুলিশ ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, ঘটনার দিন সকালে রামিসা তার বাসা থেকে স্কুলের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার পর পাশের ফ্ল্যাটের প্রধান ভীতিপ্রদ ও কুখ্যাত অভিযুক্ত সোহেল রানা তাকে ফুসলিয়ে নিজের নির্জন কক্ষে ডেকে নেয়। প্রাথমিক তদন্ত ও অভিযোগ অনুযায়ী, সেখানেই শিশু রামিসাকে পাশবিক নির্যাতনের পর গলা কেটে হত্যা করা হয় এবং পরবর্তীতে আলামত লণ্ডভণ্ড ও মরদেহ গোপন করার চেষ্টা চালানো হয়। হত্যাকাণ্ডের পরপরই স্থানীয় সাহসী জনতা সোহেল রানার স্ত্রী ও এই মেগা অপরাধের সহযোগী স্বপ্না আক্তারকে আটকে রাখলেও, প্রধান ঘাতক সোহেল জানালার গ্রিল কেটে কৌশলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
পরবর্তীতে পুলিশ প্রথমে স্বপ্না আক্তারকে গ্রেফতার করে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকায় এক মেগা ঝটিকা অভিযান চালিয়ে মূল ঘাতক সোহেল রানাকে লোহার খাঁচায় বন্দি করে। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারের পর বিজ্ঞ আদালতে হাজির করা হলে নরপশু সোহেল রানা শিশু রামিসাকে নির্মমভাবে ধর্ষণ ও ধড় থেকে মাথা আলাদা করে হত্যার লোমহর্ষক বিবরণ দিয়ে নিজের জঘন্য অপরাধ স্বীকার করে মেগা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে। ঢাকা বারের এই ঐতিহাসিক আইনি বয়কটের সিদ্ধান্তের ফলে ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রীর দ্রুততম সময়ে আদালতের কাঠগড়ায় সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি নিশ্চিত হওয়ার পথ আরও সহজ ও সুগম হলো।
Channel July 36 

















Leave a Comment
Your email address will not be published. Required fields are marked with *