728 x 90

সীমান্তে বিএসএফের একযোগে বড় পুশইন আতঙ্ক: লালমনিরহাট, নওগাঁ ও হিলিতে ৫৫ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার অপচেষ্টা রুখে দিল বীরত্বপূর্ণ বিজিবি

সীমান্তে বিএসএফের একযোগে বড় পুশইন আতঙ্ক: লালমনিরহাট, নওগাঁ ও হিলিতে ৫৫ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার অপচেষ্টা রুখে দিল বীরত্বপূর্ণ বিজিবি

অনলাইন ডেস্ক | ০৬ জুন ২০২৬ বাংলাদেশের উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় সীমান্ত জেলাগুলোতে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) পক্ষ থেকে একযোগে ও সুপরিকল্পিতভাবে বড় ধরনের পুশইনের (Push-in) এক নজিরবিহীন ও সংবেদনশীল চক্রান্ত নস্যাৎ করে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। গত ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে লালমনিরহাট, নওগাঁ এবং দিনাজপুরের হিলি সীমান্ত দিয়ে অন্তত ৫৫ জন ভারতীয় নাগরিককে জোরপূর্বক বাংলাদেশের

অনলাইন ডেস্ক | ০৬ জুন ২০২৬

বাংলাদেশের উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় সীমান্ত জেলাগুলোতে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) পক্ষ থেকে একযোগে ও সুপরিকল্পিতভাবে বড় ধরনের পুশইনের (Push-in) এক নজিরবিহীন ও সংবেদনশীল চক্রান্ত নস্যাৎ করে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। গত ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে লালমনিরহাট, নওগাঁ এবং দিনাজপুরের হিলি সীমান্ত দিয়ে অন্তত ৫৫ জন ভারতীয় নাগরিককে জোরপূর্বক বাংলাদেশের ভূখণ্ডে ঠেলে দেওয়ার তীব্র উস্কানি সৃষ্টি করে বিএসএফ। তবে সীমান্তে নিয়োজিত বিজিবির বিভিন্ন ব্যাটালিয়নের কঠোর অবস্থান, নিখুঁত রণকৌশল এবং জিরো লাইনে অনড় প্রতিরক্ষামূলক কন্ডিশনিংয়ের মুখে বিএসএফের সমস্ত অপকৌশল ভেস্তে গেছে। বিজিবির লোহার প্রাচীর ভেদ করতে না পেরে দীর্ঘ সময় পর অনুপ্রবেশকারীদের পুনরায় নিজেদের ভূখণ্ডের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। দেশের ভিন্ন ভিন্ন সীমান্তে বিএসএফের এমন আকস্মিক ও একযোগে পুশইন মহড়া ঢাকার উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারক ও ভূরাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও গভীর নিরাপত্তা উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

লালমনিরহাটের ৪ পয়েন্টে ৩৩ জনকে পুশইনের চেষ্টা

লালমনিরহাট প্রতিনিধি জানান, জেলার চারটি পৃথক কৌশলগত সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে একযোগে ৩৩ জন নারী-পুরুষকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা চালায় বিএসএফ। তিস্তা ব্যাটালিয়নের (৬১ বিজিবি) বড়খাতা সীমান্তে ১১ জন, পাটগ্রাম উপজেলার পঁয়ষট্টিবাড়ী সীমান্তে ১০ জন এবং আদিতমারী উপজেলার দিঘлটারী-দুর্গাপুর সীমান্ত এলাকায় ১২ জন অনুপ্রবেশকারীকে বাংলাদেশের সীমানার দিকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। বিজিবি বিষয়টি টের পাওয়া মাত্রই সীমান্তে অতিরিক্ত মেগা কন্টিনজেন্ট মোতায়েন করে কৌশলগত অবস্থান নেয়। এর ফলে দিনভর ওই ৩৩ জন সন্দেহভাজন ব্যক্তি আন্তর্জাতিক শূন্যরেখায় (Zero Line) অবরুদ্ধ থাকলেও বাংলাদেশের মাটিতে পা রাখতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত বিজিবির অনড় মনোভাবের কাছে নতি স্বীকার করে বিএসএফ তাদের নিজেদের ভূখণ্ডে ফিরিয়ে নেয়। বর্তমানে ১৫ বিজিবির মিডিয়া সেল জানিয়েছে, লালমনিরহাটের তিনটি পয়েন্টেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

নওগাঁর হাঁপানীয়া সীমান্তে ১৯ ঘণ্টার শ্বাসরুদ্ধকর স্নায়ুযুদ্ধ

নওগাঁ থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, সাপাহার উপজেলার হাঁপানীয়া সীমান্তের আন্তর্জাতিক ২৩৮/এমপি পিলার এলাকা দিয়ে ১৭ জন নিরপরাধ নারী, পুরুষ ও শিশুকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে ঢোকানোর চেষ্টা করে ভারতের পান্নাছড়া ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা। এই ১৭ জনের মধ্যে ৬ জন পুরুষ, ৬ জন নারী এবং ৫ জন অবুঝ শিশু ছিলেন। খবর পেয়ে নওগাঁ ১৬ ব্যাটালিয়নের বিজিবি জওয়ানেরা দ্রুত জিরো লাইনে পজিশন নিলে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে টানা ১৯ ঘণ্টার এক শ্বাসরুদ্ধকর মুখোমুখি অবস্থান ও কড়া স্নায়ুযুদ্ধ তৈরি হয়। স্থানীয় বাসিন্দা মাহবুব আলম ঘটনার লোমহর্ষক বিবরণ দিয়ে জানান, “গভীর রাতে বিএসএফ সদস্যরা ভারতের কাঁটাতারের পাশের হাই-ভোল্টেজ লাইটগুলো হঠাৎ বন্ধ করে দেয়। অন্ধকার তৈরি করে তারা জিরো লাইনে আটকে থাকা ওই ১৭ জনকে টেনে-হিঁচড়ে জোরপূর্বক ভারতের অভ্যন্তরে নিয়ে যায়। ওই সময় অবুঝ শিশু ও নারীদের কান্নাকাটিতে সীমান্ত ভারী হয়ে উঠেছিল।” ১৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম আজ সকালে এই অনুপ্রবেশ রুখে দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

হিলির ঘাসুড়িয়া সীমান্তে ভোররাতের অ্যাকশন

হিলি স্টার্স করেসপনডেন্ট জানান, আজ শনিবার ভোররাত সাড়ে ৩টার দিকে গভীর অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে দিনাজপুরের হিলি’র ঘাসুড়িয়া সীমান্ত দিয়ে ৫ জন ভারতীয় নাগরিককে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করা হয়। বিষয়টি টের পাওয়া মাত্রই জয়পুরহাট-২০ বিজিবি ব্যাটালিয়নের ঘাসুড়িয়া ক্যাম্পের বিশেষ কন্ডিশনিং টিম সীমান্ত লাইনে অত্যন্ত শক্তিশালী ও কাউন্টার পজিশন গ্রহণ করে। বিজিবির এই তাত্ক্ষণিক ও সাহসী প্রতিরোধের মুখে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা পণ্ড হয়ে যায়। জয়পুরহাট-২০ বিজিবির অধিনায়ক লেঃ কর্নেল লতিফুল বারী জানান, অবৈধ পথে কোনো বহিরাগত যেন বাংলাদেশে প্রবেশ করতে না পারে, সেই লক্ষ্যে অরক্ষিত সীমান্তগুলোতে নিয়মিত পাহারার পাশাপাশি বিশেষ গোয়েন্দা নজরদারি বহুগুণ বৃদ্ধি করা হয়েছে।

কড়া প্রতিবাদ ও সর্বোচ্চ সতর্কতা

আন্তর্জাতিক ও সামরিক নীতিনির্ধারকদের মতে, উৎসব পরবর্তী সময়ে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং দ্বিপাক্ষিক সীমান্ত শান্তি চুক্তি অক্ষুণ্ন রাখতে ভিন্ন ভিন্ন সীমান্তে বিজিবির এই বীরত্বপূর্ণ ও নিখুঁত প্রতিরোধ নজিরবিহীন। বিএসএফের এই আন্তর্জাতিক আইন পরিপন্থী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অলরেডি বিজিবির পক্ষ থেকে বিএসএফ কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিক ও কড়া প্রতিবাদ লিপি (Protest Letter) পাঠানো হয়েছে এবং কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে জরুরি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সম্ভাব্য যেকোনো ধরণের নতুন অনুপ্রবেশের কন্ডিশনিং রুখতে সীমান্ত সংলগ্ন গ্রামগুলোতে স্থানীয় সচেতন সাধারণ মানুষকে সাথে নিয়ে বিজিবির বিশেষ উঠান বৈঠক ও সতর্কতামূলক পেট্রোলিং বহুগুণ জোরদার করা হয়েছে।

Posts Carousel

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked with *

Latest Posts

Top Authors

Most Commented

Featured Videos

Categories