অনলাইন ডেস্ক | ১১ জুন ২০২৬ জাতীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং বর্তমান বৈশ্বিক মন্দার মাঝে দেশীয় অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখার লজিস্টিকস প্রত্যয় নিয়ে নতুন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট অনুমোদন করেছে বর্তমান সরকারের মন্ত্রিসভা। আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনের বিশেষ মন্ত্রিসভা কক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ বৈঠকে এই ঐতিহাসিক ও বিশাল বাজেট
অনলাইন ডেস্ক | ১১ জুন ২০২৬
জাতীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং বর্তমান বৈশ্বিক মন্দার মাঝে দেশীয় অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখার লজিস্টিকস প্রত্যয় নিয়ে নতুন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট অনুমোদন করেছে বর্তমান সরকারের মন্ত্রিসভা। আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনের বিশেষ মন্ত্রিসভা কক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ বৈঠকে এই ঐতিহাসিক ও বিশাল বাজেট প্রস্তাবের অনুমোদন দেওয়া হয়। দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক কন্ডিশন বিবেচনা করে বিত্তশালীদের ওপর করের পরিধি বৃদ্ধি, প্রান্তিক মানুষের ওপর চাপ কমানো এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতকে সম্পূর্ণ আধুনিকায়ন করার মতো অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়গুলোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এই নতুন বাজেট লজিস্টিকস তৈরি করা হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদের এই বিশেষ অনুমোদনের পর নিয়মতান্ত্রিক প্রটোকল অনুযায়ী বাজেট বিলটি জাতীয় সংসদের মূল অধিবেশনে উপস্থাপনের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।
এবারের নতুন বাজেটে সাধারণ ও মধ্যবিত্ত করদাতাদের জন্য এক বিশাল এবং স্বস্তিদায়ক ঘোষণা দিয়ে বার্ষিক করমুক্ত আয়সীমা বাড়িয়ে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। দেশের বর্তমান বাজার কন্ডিশন ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্য বিবেচনা করে মধ্যবিত্ত সমাজকে করের বোঝা থেকে সুরক্ষা দিতেই জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR) এই মানবিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে এর বিপরীতে বিত্তশালীদের ওপর করের কঠোর কন্ডিশনিং আরোপ করা হয়েছে; এখন থেকে বার্ষিক ৩ কোটি টাকার বেশি ব্যক্তিগত আয়ের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ আয়কর হার একলাফে ২৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩৫ শতাংশ করার প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। একই সাথে দেশের তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ খাতকে প্রান্তিক জনগণের কাছে সহজলভ্য করতে নতুন সিম কার্ড ক্রয়ের ওপর আরোপিত সমস্ত কর ও শুল্ক সম্পূর্ণ এবং স্থায়ীভাবে প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা ডিজিটাল আর্থিক লেনদেন ও লজিস্টিকস সেবা প্রসারে বড় ভূমিকা রাখবে।
শিক্ষা ও নারী ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে এই বাজেটে এক ঐতিহাসিক ও বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনা হয়েছে, যেখানে দেশের মাধ্যমিক পর্যায়ের অর্থাৎ ৬ষ্ঠ শ্রেণি থেকেই সকল শিক্ষার্থীর জন্য কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা সম্পূর্ণ বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। এর পাশাপাশি দেশের নারী সমাজকে উচ্চশিক্ষায় আরও বেশি উদ্বুদ্ধ করতে দেশের সমস্ত সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে মেয়েদের জন্য স্নাতক স্তর পর্যন্ত পড়ালেখা সম্পূর্ণ অবৈতনিক বা বিনা মূল্যে করার যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে সরকার। যোগাযোগ খাতে দেশের প্রবীণ ও জ্যেষ্ঠ নাগরিকদের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী জোরদার করতে ৬৫ বছরের বেশি বয়সী নাগরিকদের জন্য বাংলাদেশ রেলওয়ের সমস্ত ট্রেনের যাতায়াত সম্পূর্ণ ফ্রি বা বিনামূল্যে করার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে এবং রাজধানীর আধুনিক মেট্রোরেলের ভাড়ার ক্ষেত্রেও জ্যেষ্ঠ নাগরিকদের জন্য ২৫ শতাংশ বিশেষ ছাড়ের লজিস্টিকস সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে, যা কার্যকর করতে ভ্রমণের কন্ডিশনে প্রবীণদের নিজস্ব জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) প্রদর্শন করতে হবে।
দেশের স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা খাতের অবকাঠামো আমূল বদলে দিতে সরকার দুটি অত্যন্ত যুগান্তকারী প্রফেশনাল পদক্ষেপ নিয়েছে। নতুন বাজেটে দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য একটি করে অনন্য ও ডিজিটাল ‘ই-হেলথ কার্ড’ (E-Health Card) সরবরাহ করার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে, যার ভেতর ব্যক্তির রক্তের গ্রুপ ও পূর্ববর্তী রোগবালাইসহ যাবতীয় মেডিকেল হিস্ট্রি ডিজিটাল উপায়ে সংরক্ষিত থাকবে। একই সাথে দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে মুমূর্ষু রোগীদের দ্রুততম সময়ে হাসপাতালে স্থানান্তরের কন্ডিশন সুগম করতে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ ও কেন্দ্রীয় ‘জাতীয় অ্যাম্বুলেন্স पूल ও জরুরি সেবা’ গঠন করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে সরকার। এছাড়া সরকারি চাকুরিজীবীদের জন্য বড় চমক দিয়ে জানানো হয়েছে যে, বাজেটে পৃথক কোনো থোক বরাদ্দ না রাখা হলেও, আগামী ১ জুলাই থেকেই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বহুল প্রত্যাশিত নতুন পে স্কেল বা বেতন কাঠামো অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ লজিস্টিকস চেইনের মাধ্যমে সফলভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।
সর্বশেষ, এই বিশাল ও জনকল্যাণমুখী বাজেটের ঘাটতি অর্থায়নে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহের একটি বড় ও কৌশলগত রোডম্যাপ অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। নতুন অর্থবছরের বাজেট ঘাটতি মেটাতে দেশের ব্যাংকিং খাত থেকে রেকর্ড ১ লাখ১২ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের সঞ্চয়ী লজিস্টিকস মাধ্যম অর্থাৎ জাতীয় সঞ্চয়পত্র বিক্রি থেকে আরও ১৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হয়েছে। আর্থিক খাতের বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৬ সালের এই বর্তমান বাজার কন্ডিশনে তারল্য সংকট ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করে এই বিশাল ব্যাংক ঋণ এবং প্রফেশনাল বাজেট লজিস্টিকস চেইন সফলভাবে পরিচালনা করা সরকারের জন্য একটি বড় পরীক্ষা হবে। মন্ত্রিসভা কর্তৃক শিক্ষার মাস্টারস্ট্রোক, চিকিৎসায় ডিজিটাল বিপ্লব এবং প্রবীণ ও মধ্যবিত্তদের সুরক্ষামূলক এই বাজেট প্রস্তাব অনুমোদনের খবরটি গণমাধ্যমে আসার পর থেকেই দেশজুড়ে সর্বস্তরের সাধারণ নাগরিকদের মাঝে এক অভূতপূর্ব আনন্দঘন পরিবেশ এবং স্বস্তির জোয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
Channel July 36 

















Leave a Comment
Your email address will not be published. Required fields are marked with *