728 x 90

সংসদে হাসনাতের বক্তব্যে উত্তেজনা: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মধ্যরাতে মাদরাসাছাত্রদের ঝটিকা বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ মিছিল

সংসদে হাসনাতের বক্তব্যে উত্তেজনা: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মধ্যরাতে মাদরাসাছাত্রদের ঝটিকা বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ মিছিল

জাতীয় সংসদ অধিবেশনে গান-বাজনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ বন্ধের বিষয়ে সরকারের সমালোচনা করে প্রদত্ত বক্তব্যের প্রতিবাদে সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ ও তার রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) বয়কটের ঘোষণা দিয়ে চরম বিক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থীরা। শুক্রবার (২৮ আগস্ট ২০২৬) দিনগত মধ্যরাতে শহরের কান্দিপাড়া এলাকায় জামিয়া ইউনুসিয়া মাদ্রাসার সামনে থেকে

জাতীয় সংসদ অধিবেশনে গান-বাজনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ বন্ধের বিষয়ে সরকারের সমালোচনা করে প্রদত্ত বক্তব্যের প্রতিবাদে সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ ও তার রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) বয়কটের ঘোষণা দিয়ে চরম বিক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থীরা। শুক্রবার (২৮ আগস্ট ২০২৬) দিনগত মধ্যরাতে শহরের কান্দিপাড়া এলাকায় জামিয়া ইউনুসিয়া মাদ্রাসার সামনে থেকে এই আকস্মিক প্রতিবাদ কর্মসূচির সূচনা ঘটে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের ব্যানারে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে একাধিক মাদরাসার শত শত শিক্ষার্থী অংশ নেন এবং গভীর রাতে শহরের রাজপথ উত্তাল করে তোলেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রের তথ্যানুযায়ী, রাত আনুমানিক ১২টার দিকে শিক্ষার্থীরা সংহত হয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ শুরু করেন। পরে সেখান থেকে একটি বিশাল প্রতিবাদ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সামনে গিয়ে শেষ হয় এবং সেখানে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। মিছিল ও সমাবেশ চলাকালে আন্দোলনকারীরা ‘বয়কট হাসনাত আবদুল্লাহ’, ‘বয়কট, বয়কট, এনসিপি বয়কট’ এবং ‘শাহবাগীর ঠিকানা, এই বাংলায় হবে না’সহ নানা ধরনের উত্তপ্ত স্লোগান দেন। কওমি ছাত্র ঐক্যের নেতারা স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেন, সম্প্রতি জাতীয় সংসদ অধিবেশনে কিশোরগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও নৌকাবাইচ বন্ধের প্রসঙ্গ টেনে হাসনাত আবদুল্লাহ যে বক্তব্য প্রদান করেছেন, তা স্থানিক সংস্কৃতি ও আলেম-ওলামাদের ভাবমূর্তির সঙ্গে চরমভাবে সাংঘর্ষিক। তারা হাসনাত আবদুল্লাহকে তার এই বক্তব্য অনতিবিলম্বে প্রত্যাহার করে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান; অন্যথায় এনসিপির সমস্ত রাজনৈতিক কর্মসূচি প্রতিহত ও বর্জন করার হুঁশিয়ারি দেন।

এই বিক্ষোভ ও বয়কটের ঘোষণা এমন এক সময়ে এল, যখন শনিবার বিকেলেই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে এনসিপির সাংগঠনিক সমন্বয় সভা ও রাজনৈতিক কর্মশালা আয়োজনের চূড়ান্ত প্রস্তুতি চলছে। নির্ধারিত ওই অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের পাশাপাশি এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের জ্যেষ্ঠ নেতাদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। কওমি শিক্ষার্থীদের তীব্র অবস্থান এবং এনসিপির নির্ধারিত রাজনৈতিক কর্মসূচির মুখোমুখি দাঁড়িয়ে এই মুহূর্তে পুরো ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে থমথমে উত্তেজনা ও ব্যাপক কৌতুহলের সৃষ্টি হয়েছে।

Posts Carousel

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked with *

Latest Posts

Top Authors

Most Commented

Featured Videos

Categories