গাইবান্ধার চরাঞ্চল ও প্রত্যন্ত এলাকার দরিদ্র যুবকদের টার্গেট করে কম্বোডিয়ায় পাঠিয়ে ‘মানুষ বিক্রির’ এক শক্তিশালী পাচার নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছেন গাইবান্ধা জেলা এনসিপির ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব রাহাদ ইবনে শহীদ ও তার বাবা শহিদুল ইসলাম। উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তাদের চীনের নাগরিকদের পরিচালিত স্ক্যামিং প্রতিষ্ঠানে বিক্রি করে দেওয়া হয়, যেখানে তাদের ‘সাইবার ক্রীতদাস’ হিসেবে কাজ করতে
গাইবান্ধার চরাঞ্চল ও প্রত্যন্ত এলাকার দরিদ্র যুবকদের টার্গেট করে কম্বোডিয়ায় পাঠিয়ে ‘মানুষ বিক্রির’ এক শক্তিশালী পাচার নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছেন গাইবান্ধা জেলা এনসিপির ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব রাহাদ ইবনে শহীদ ও তার বাবা শহিদুল ইসলাম। উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তাদের চীনের নাগরিকদের পরিচালিত স্ক্যামিং প্রতিষ্ঠানে বিক্রি করে দেওয়া হয়, যেখানে তাদের ‘সাইবার ক্রীতদাস’ হিসেবে কাজ করতে বাধ্য করা হয়। কালবেলার অনুসন্ধানে উঠে এসেছে এই চক্রের ভয়ংকর নির্যাতনের চিত্র।
গাইবান্ধা প্রতিনিধি: গাইবান্ধার দরিদ্র ও বেকার যুবকদের বিদেশে কম্পিউটার অপারেটর পদের প্রলোভন দেখিয়ে কম্বোডিয়ায় পাচার করার অভিযোগ উঠেছে জেলা এনসিপির ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব রাহাদ ইবনে শহীদ ও তার বাবা শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে। কালবেলার অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই চক্রটি অন্তত ৩০ জন যুবককে কম্বোডিয়ায় পাঠিয়েছে, যাদের সেখানে গিয়ে ‘সাইবার ক্রীতদাস’ হিসেবে অমানবিক নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছে।
প্রতারণার কৌশল: ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, রাহাদ ইবনে শহীদ তার কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ‘বিন্দু আইটি’-তে যুবকদের ট্রেনিং দেওয়ার নামে মূলত সাইবার অপরাধের প্রাথমিক পাঠ দিতেন। এরপর ৫ থেকে ৭ লাখ টাকার বিনিময়ে তাদের কম্বোডিয়ায় পাঠানো হতো। সেখানে পৌঁছানোর পর তাদের পাসপোর্ট কেড়ে নিয়ে চীনের নাগরিকদের দ্বারা পরিচালিত বিভিন্ন ‘স্ক্যামিং সেন্টারে’ বিক্রি করে দেওয়া হতো।
‘সাইবার ক্রীতদাস’ ও নির্যাতন: ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, কম্বোডিয়ায় তাদের মেয়ে সেজে বিভিন্ন দেশের বিত্তশালীদের সঙ্গে চ্যাট করে অর্থ হাতিয়ে নিতে বাধ্য করা হতো। যারা এই কাজ করতে অস্বীকৃতি জানাতেন, তাদের ওপর চলত বৈদ্যুতিক শক ও শারীরিক নির্যাতন। এমনকি অনেককে দফায় দফায় এক কোম্পানি থেকে অন্য কোম্পানিতে বিক্রি করা হতো।
ভুক্তভোগীদের আর্তনাদ: বর্তমানে কম্বোডিয়ার জঙ্গল ও বর্ডার এলাকায় লুকিয়ে থাকা সাগর ও হাসান নামে দুই যুবক হোয়াটসঅ্যাপে জানিয়েছেন, তারা জীবন বাঁচাতে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন এবং দেশে ফেরার আকুতি জানিয়েছেন। অন্যদিকে, দেশে ফিরে আসা শাওন ও সাদা মিয়ারা জানিয়েছেন তাদের সর্বস্বান্ত হওয়ার গল্প।
আইনি ব্যবস্থা ও বক্তব্য: এই ঘটনায় দিনাজপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে রাহাদ ও তার বাবার বিরুদ্ধে মানব পাচার আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাটির তদন্ত করছে পিবিআই। তবে অভিযুক্ত রাহাদ ইবনে শহীদ এই অভিযোগ অস্বীকার করে একে ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেছেন। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টি দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে উপস্থাপন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Channel July 36 

















Leave a Comment
Your email address will not be published. Required fields are marked with *