খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি | ২২ মে ২০২৬ পার্বত্য চট্টগ্রামের খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ি উপজেলায় বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র আঞ্চলিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টাকে নস্যাৎ করে দিয়ে এক মেগা সফল অভিযান পরিচালনা করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। উপজেলার লোগাং এলাকার দুর্গম পাহাড়ি আস্তানায় তল্লাশি চালিয়ে ১টি অত্যাধুনিক চায়না রাইফেল এবং বিপুল পরিমাণ তাজা গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা
খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি | ২২ মে ২০২৬
পার্বত্য চট্টগ্রামের খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ি উপজেলায় বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র আঞ্চলিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টাকে নস্যাৎ করে দিয়ে এক মেগা সফল অভিযান পরিচালনা করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। উপজেলার লোগাং এলাকার দুর্গম পাহাড়ি আস্তানায় তল্লাশি চালিয়ে ১টি অত্যাধুনিক চায়না রাইফেল এবং বিপুল পরিমাণ তাজা গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা সেনাবাহিনীর টহল দলকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করলে সেনাসদস্যরাও পাল্টা কড়া জবাব দেন। আজ শুক্রবার (২২ মে) সকালে খাগড়াছড়ি সেনা রিজিয়ন সদর দপ্তর এবং খাগড়াছড়ি সদর সেনা জোনের পক্ষ থেকে যৌথভাবে এই মেগা সফল অভিযানের তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
সেনাবাহিনী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত বৃহস্পতিবার (২১ মে) পানছড়ি উপজেলার বাবুরাপাড়া এবং করল্যাছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় পাহাড়ি অঞ্চলের দুটি আঞ্চলিক দল— ইউপিডিএফ (মূল) এবং জেএসএস (মূল)-এর সশস্ত্র ক্যাডারদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার ও চাঁদাবাজির মেগা টাকা ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে হঠাৎ তুমুল গোলাগুলি শুরু হয়। দুই পক্ষের ভারী অস্ত্রের বিকট শব্দে পুরো এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এই সশস্ত্র সংঘাতের খবর পাওয়া মাত্রই খাগড়াছড়ি সদর সেনা জোনের একটি বিশেষ চৌকস টহল দল দ্রুত ও ঝটিকা গতিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মেগা চিরুনি অভিযান শুরু করে।
অভিযান চলাকালে সেনাবাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে বিচ্ছিন্নতাবাদী পাহাড়ী সন্ত্রাসীরা লোগাং এলাকার জঙ্গল থেকে সেনাসদস্যদের লক্ষ্য করে অতর্কিত গুলিবর্ষণ শুরু করে। এ সময় চরম সাহসিকতার সাথে সেনাসদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে নিজেদের আত্মরক্ষা এবং এলাকার সার্বভৌমত্ব বজায় রাখতে পাল্টা কড়া ফায়ার (Retaliatory Fire) ছুড়ে জবাব দেন। সেনাবাহিনীর এই রণকৌশল ও বিধ্বংসী কাউন্টার-অ্যাকশনের মুখে টিকতে না পেরে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা তাদের অস্ত্র ও রসদ ফেলে গভীর গহীন পাহাড়ের ভেতরে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। এই মেগা বন্দুকযুদ্ধে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কোনো সদস্য হতাহত হননি এবং বর্তমানে এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
সেনাবাহিনী আরও জানায়, গোলাগুলি থামার পর পুরো যুদ্ধক্ষেত্র ও সন্দেহভাজন আস্তানায় মেগা তল্লাশি চালিয়ে ১টি নিখুঁত চায়না রাইফেল (China Rifle), ২৭৪ রাউন্ড বিভিন্ন বোরের তাজা গোলাবারুদ, ২টি এফসিসি (FCC) এবং সন্ত্রাসীদের ব্যবহৃত অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সামগ্রী জব্দ করা হয়েছে। খাগড়াছড়ি সদর জোনের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. খাদেমুল ইসলাম এই মেগা অভিযানের বিষয়ে দৃঢ় কণ্ঠে জানান, “সেনাবাহিনীর দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় কোনো ধরনের চাঁদাবাজি, অবৈধ অস্ত্র প্রদর্শন ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম বরদাশত করা হবে না। পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল জাতিগোষ্ঠীর জানমালের নিরাপত্তা এবং জনসাধারণের নিরাপদ জীবনযাপন নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনীর এই ধরণের সাঁড়াশি ও আভিযানিক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও কঠোরভাবে অব্যাহত থাকবে।” শান্তি বজায় রাখতে বর্তমানে ওই পুরো এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করাসহ অতিরিক্ত সেনা টহল মোতায়েন করা হয়েছে।
Channel July 36 

















Leave a Comment
Your email address will not be published. Required fields are marked with *