728 x 90

ভারতের প্রধান বিচারপতির ‘তেলাপোকা’ মন্তব্যের প্রতিবাদে জেন-জি যুবসমাজের নজিরবিহীন সামাজিক আন্দোলন

ভারতের প্রধান বিচারপতির ‘তেলাপোকা’ মন্তব্যের প্রতিবাদে জেন-জি যুবসমাজের নজিরবিহীন সামাজিক আন্দোলন

আন্তর্জাতিক ও ডিজিটাল ট্রেন্ডস ডেস্ক | ২২ মে ২০২৬ ভারতের রাজনৈতিক ও ইন্টারনেট ইতিহাসে এক নজিরবিহীন অলৌকিক ও মেগা চাঞ্চল্যকর ঘটনার সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুরু হওয়া সাধারণ একটি রাজনৈতিক ব্যঙ্গ বা মিম (Meme) মাত্র চার দিনের ব্যবধানে দেশটির মূলধারার রাজনীতিতে এক প্রলয়ঙ্কারী সামাজিক ঝড়ে রূপ নিয়েছে। ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির এক বিতর্কিত

আন্তর্জাতিক ও ডিজিটাল ট্রেন্ডস ডেস্ক | ২২ মে ২০২৬

ভারতের রাজনৈতিক ও ইন্টারনেট ইতিহাসে এক নজিরবিহীন অলৌকিক ও মেগা চাঞ্চল্যকর ঘটনার সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুরু হওয়া সাধারণ একটি রাজনৈতিক ব্যঙ্গ বা মিম (Meme) মাত্র চার দিনের ব্যবধানে দেশটির মূলধারার রাজনীতিতে এক প্রলয়ঙ্কারী সামাজিক ঝড়ে রূপ নিয়েছে। ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির এক বিতর্কিত মন্তব্যের প্রতিবাদে অনলাইনে গড়ে ওঠা সম্পূর্ণ ব্যঙ্গাত্মক প্ল্যাটফর্ম ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) বা তেলাপোকা দল মাত্র ৯৬ ঘণ্টার মধ্যে ফটো শেয়ারিং অ্যাপ ইনস্টাগ্রামে ১২ মিলিয়ন (১ কোটি ২০ লাখ) ফলোয়ারের অবিশ্বাস্য মেগা মাইলফলক স্পর্শ করেছে। এর মাধ্যমে ভারতের বর্তমান ক্ষমতাসীন দল এবং নিজেদের বিশ্বের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল হিসেবে দাবি করা ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম ফলোয়ার সংখ্যাকে (৮.৭ মিলিয়ন) বহুদূরে টপকে গেছে এই ভার্চুয়াল তেলাপোকা বাহিনী। আজ শুক্রবার (২২ মে) যুক্তরাজ্যের দ্য গার্ডিয়ান এবং ভারতের হিন্দুস্তান টাইমসসহ শীর্ষস্থানীয় মেগা গণমাধ্যমগুলো এই চাঞ্চল্যকর ট্রেন্ডের তথ্য নিশ্চিত করেছে।

এই নজিরবিহীন অনলাইন বিদ্রোহের সূত্রপাত ঘটে গত ১৫ মে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের একটি চরম বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে। দেশের বেকার তরুণদের একটি অংশকে ‘তেলাপোকা’ এবং ‘সমাজের পরজীবী’র সাথে তুলনা করে তিনি আদালত কক্ষে বলেছিলেন, “কিছু তরুণ আছে, ঠিক তেলাপোকার মতো, যারা কোনো চাকরি পায় না বা পেশাগত কোনো জায়গা তৈরি করতে পারে না। তারা কেউ মিডিয়া, কেউ সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারী বা আরটিআই (RTI) কর্মী হয়ে ওঠে এবং সিস্টেমকে আক্রমণ করতে শুরু করে।” দেশের সর্বোচ্চ আদালতের প্রধান বিচারপতির মুখ থেকে বেকার তরুণদের প্রতি এমন অবমাননাকর মন্তব্য ছিটকে আসতেই ভারতের ইন্টারনেট ব্যবহারকারী, বিশেষ করে জেন-জি (Gen-Z) প্রজন্মের মাঝে তীব্র মেগা ক্ষোভ ও দাবানলের মতো প্রতিক্রিয়া ছড়িয়ে পড়ে।

এরই প্রতিবাদে ১৬ মে বোস্টন ইউনিভার্সিটির পাবলিক রিলেশন্স বিষয়ের ছাত্র এবং সাবেক রাজনৈতিক স্ট্র্যাটেজিস্ট অভিজিৎ দিপকে ব্যঙ্গাত্মকভাবে এক্স (টুইটার) ও ইনস্টাগ্রামে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP) গঠনের ঘোষণা দিয়ে একটি গুগল ফর্ম পোস্ট করেন। তিনি এই দলের সদস্য পদের যোগ্যতা হিসেবে রসাত্মকভাবে উল্লেখ করেন—আবেদনকারীকে অবশ্যই বেকার, অলস, দিনরাত অনলাইন থাকা এবং প্রফেশনালি ক্ষোভ ঝাড়ার মেগা ক্ষমতাসম্পন্ন হতে হবে। ভারতের তরুণদের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ—বিশেষ করে লাগামহীন বেকারত্ব, একের পর এক সরকারি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস এবং তীব্র মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদের প্রধান ভাষা হিসেবে মিম কালচারকে বেছে নেয় যুবসমাজ। ফলে যা শুরু হয়েছিল একটি কৌতুক হিসেবে, তা কয়েক ঘণ্টার মধ্যে লক্ষ লক্ষ তরুণের মেগা গণআন্দোলনে রূপ নেয়।

নিজেদের ‘অলস ও বেকারদের কণ্ঠস্বর: ধর্মনিরপেক্ষ, সমাজতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক’ হিসেবে দাবি করা এই সিজেপি বা তেলাপোকা দলের পক্ষে এখন ভারতের শীর্ষ বিরোধী দলীয় নেতারাও প্রকাশ্য অবস্থান নিয়েছেন। আম আদমি পার্টির (AAP) শীর্ষ নেতা মণীশ সিসোদিয়া ইনস্টাগ্রাম রিলে একাত্মতা প্রকাশ করে বলেছেন, “যদি কুমির আর তেলাপোকার মধ্যে যুদ্ধ হয়, তবে আমি গর্বের সাথে তেলাপোকাদের দলেই দাঁড়াব।” এছাড়া তৃণমূল কংগ্রেসের মহুয়া মৈত্র, কীর্তি আজাদ এবং সমাজবাদী পার্টির অখিলেশ যাদবও এই ট্রেন্ডে যোগ দিয়ে বিজেপি সরকারের ব্যর্থতাকে মেগা কটাক্ষ করেছেন। যদিও সিজেপি’র প্রতিষ্ঠাতা স্পষ্ট করেছেন যে, তারা কোনো প্রথাগত রাজনৈতিক দল হতে চান না বা নির্বাচনে অংশ নিতে চান না, এটি কেবলই ব্যবস্থার বিরুদ্ধে যুবসমাজের মেগা ইশতেহার। ইতিমধ্যেই ভারতের প্রশাসন এই অ্যাকাউন্টটির ওপর নজরদারি শুরু করেছে এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ঘটনা প্রমাণ করে যে আধুনিক যুগের তরুণদের ক্ষোভ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কতটা বিধ্বংসী রূপ নিতে পারে।

Posts Carousel

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked with *

Latest Posts

Top Authors

Most Commented

Featured Videos

Categories