আন্তর্জাতিক ও কৌশলগত প্রতিরক্ষা ডেস্ক | ২২ মে ২০২৬ মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সাথে চলমান তীব্র সামরিক সংঘাত ও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে স্বশাসিত তাইওয়ানের কাছে প্রায় ১৪ বিলিয়ন (১ হাজার ৪০০ কোটি) ডলারের এক ঐতিহাসিক মেগা অস্ত্র বিক্রি সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন নৌবাহিনীর ভারপ্রাপ্ত সচিব হাং কাও স্বয়ং এই চাঞ্চল্যকর ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা সমীকরণ বদলে
আন্তর্জাতিক ও কৌশলগত প্রতিরক্ষা ডেস্ক | ২২ মে ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সাথে চলমান তীব্র সামরিক সংঘাত ও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে স্বশাসিত তাইওয়ানের কাছে প্রায় ১৪ বিলিয়ন (১ হাজার ৪০০ কোটি) ডলারের এক ঐতিহাসিক মেগা অস্ত্র বিক্রি সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন নৌবাহিনীর ভারপ্রাপ্ত সচিব হাং কাও স্বয়ং এই চাঞ্চল্যকর ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা সমীকরণ বদলে দেওয়া তথ্যটি প্রকাশ করেছেন। আজ শুক্রবার (২২ মে) কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল জাজিরা (Al Jazeera) এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই মেগা প্রতিরক্ষা আপডেটের খবরটি নিশ্চিত করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গতকাল বৃহস্পতিবার (২১ মে) মার্কিন সিনেটের প্রতিরক্ষা বিষয়ক এক উচ্চ-পর্যায়ের শুনানিতে অংশ নিয়ে নৌ-সচিব হাং কাও বলেন, “ইরানের বিরুদ্ধে চলমান তীব্র সামরিক প্রস্তুতির জন্য যুক্তরাষ্ট্র এই মুহূর্তে নিজেদের অস্ত্র ও গোলাবারুদের বৈশ্বিক মজুত শতভাগ নিশ্চিত করতে চায়। আর এই কারণেই তাইওয়ানের সাথে চুক্তিটি সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।” তিনি সিনেট কমিটিকে স্পষ্ট করে জানান, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীর চলমান মেগা সামরিক অভিযান— ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ (Operation Epic Fury)-র জন্য প্রয়োজনীয় পর্যাপ্ত আধুনিক গোলাবারুদ যেন মার্কিন বাহিনীর হাতে থাকে, সেটিই এখন ওয়াশিংটনের প্রধান অগ্রাধিকার। মার্কিন প্রশাসনের সবুজ সংকেত না পাওয়া পর্যন্ত এই বৈদেশিক সামরিক বিক্রয় (FMS) স্থগিত থাকবে।
মার্কিন নৌ-সচিব আরও জানান, মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রের পরিস্থিতি বিবেচনা করে পরবর্তীতে বিদেশে অস্ত্র বিক্রি পুনরায় চালু করা হতে পারে। তবে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ (Pete Hegseth) এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও (Marco Rubio)। এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি বেইজিং সফরে গিয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাথে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে তাইওয়ানের এই মেগা অস্ত্র চুক্তিটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন বলে নিজেই নিশ্চিত করেছেন। ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, বেইজিংয়ের সাথে বাণিজ্য ও ভূরাজনৈতিক আলোচনায় এই ১৪ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র প্যাকেজটিকে তিনি একটি বড় দরকষাকষির হাতিয়ার (Bargaining Chip) হিসেবে ব্যবহার করছেন।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন কংগ্রেস চলতি বছরের জানুয়ারিতেই তাইওয়ানের ইতিহাসের বৃহত্তম এই অস্ত্র প্যাকেজটি অনুমোদন দিলেও তা কার্যকর করতে প্রেসিডেন্টের চূড়ান্ত স্বাক্ষর প্রয়োজন ছিল। কিন্তু এই মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রের এই স্থগিতাদেশ এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে, বিশেষ করে তাইওয়ানের নিরাপত্তা রক্ষায় ওয়াশিংটনের সামরিক প্রতিশ্রুতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ ও মেগা সংশয় তৈরি করেছে। এই বিষয়ে তাইওয়ানের প্রধানমন্ত্রী চো জুং-তাই জানিয়েছেন, তাইপে ওয়াশিংটনের এই সিদ্ধান্তে হতাশ না হয়ে ভবিষ্যতেও নিজেদের আত্মরক্ষার জন্য মার্কিন অস্ত্র ক্রয়ের প্রচেষ্টা জোরালোভাবে চালিয়ে যাবে। অন্যদিকে, চীন স্বশাসিত তাইওয়ানকে নিজেদের অংশ দাবি করে ওয়াশিংটনের এই সামরিক সহায়তার তীব্র বিরোধিতা করে আসছিল, যার ফলে ওয়াশিংটনের এই মেগা স্থগিতাদেশ বেইজিংকে কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
Channel July 36 

















Leave a Comment
Your email address will not be published. Required fields are marked with *