জাতীয় ও রাজনৈতিক ক্রাইম ডেস্ক | ২২ মে ২০২৬ ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে ২০১৬ সালের বহুল আলোচিত শিবিরকর্মী শামীম হোসেন হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত প্রধান আসামির মেয়ের বিয়ের দাওয়াতে অংশ নিয়েছেন ঝিনাইদহ-৪ আসনের জামায়াতদলীয় সংসদ সদস্য (এমপি) আবু তালিব। শুধু তাই নয়, অনুষ্ঠানস্থলে ওই জামায়াত এমপিকে নিজ হাতে খাবার বেড়ে খাইয়েছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা
জাতীয় ও রাজনৈতিক ক্রাইম ডেস্ক | ২২ মে ২০২৬
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে ২০১৬ সালের বহুল আলোচিত শিবিরকর্মী শামীম হোসেন হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত প্রধান আসামির মেয়ের বিয়ের দাওয়াতে অংশ নিয়েছেন ঝিনাইদহ-৪ আসনের জামায়াতদলীয় সংসদ সদস্য (এমপি) আবু তালিব। শুধু তাই নয়, অনুষ্ঠানস্থলে ওই জামায়াত এমপিকে নিজ হাতে খাবার বেড়ে খাইয়েছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা মহিদুল ইসলাম মন্টু। গতকাল বৃহস্পতিবার (২১ মে) কালীগঞ্জ উপজেলার বগেরগাছি গ্রামে এই নজিরবিহীন মেগা রাজনৈতিক সমাগম ও সামাজিক মেলবন্ধনের ঘটনা ঘটে, যার ছবি ও বিবরণ প্রকাশ্যে আসতেই আজ শুক্রবার (২২ মে) পুরো জেলা জুড়ে তীব্র সমালোচনা ও রাজনৈতিক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, কালীগঞ্জ উপজেলার বগেরগাছি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মহিদুল ইসলাম মন্টুর মেয়ে মেহেজাবিন ইসলাম তুলির সঙ্গে কালীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মারুফ বিল্লাহর বিয়ের রাজকীয় আয়োজন ছিল গতকাল। নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতার মেয়ে এবং ছাত্রদল নেতার এই বিয়েকে কেন্দ্র করে বগেরগাছি গ্রামে এক অভিনব রাজনৈতিক পুনর্মিলনীর সৃষ্টি হয়। সেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হন ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবু তালিব। এছাড়াও এই মেগা বিয়েতে উপস্থিত ছিলেন আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঝিনাইদহ-৪ আসনে বিএনপি মনোনীত হেভিওয়েট প্রার্থী রাশেদ খান, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হামিদুল ইসলাম ও তবিবুর রহমান মিনি। একই মঞ্চে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ওহিদুজ্জামান ওদু এবং আওয়ামী লীগ নেতা রাশেদ শমসেরসহ আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জামায়াতের অন্যান্য শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
উল্লেখ্য, মেয়ের বাবা মহিদুল ইসলাম মন্টু ২০১৬ সালের বহুল আলোচিত শিবিরকর্মী শামীম হোসেন বর্বরোচিত হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ২০১৬ সালের ২৪ মার্চ বিকেলে শহরের মাহতাব উদ্দিন কলেজের সামনে থেকে সাদা পোশাকধারী চারজন শামীমকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। নিখোঁজের ২০ দিন পর ১৩ এপ্রিল যশোর সদরের লাউখালি শ্মশানঘাট এলাকা থেকে শামীমের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করা হয়। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর নিহতের পিতা রুহুল আমিন বাদী হয়ে কালীগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মন্টুসহ ১২ জনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
নিজের দলীয় কর্মী হত্যা মামলার আসামির বাড়িতে গিয়ে খাবার খাওয়ার এই ছবি প্রকাশ্যে আসতেই স্থানীয় শিবিরের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক সিনিয়র রাজনৈতিক কর্মী বলেন, “যেখানে শহীদ কর্মীর রক্ত শুকায়নি, সেখানে খুনের আসামির মেয়ের বিয়েতে গিয়ে জামায়াত এমপির এমন রসনা বিলাস অত্যন্ত লজ্জাজনক।” তবে তীব্র সমালোচনার মুখে সংসদ সদস্য আবু তালিব সাফাই গেয়ে বলেন, “ওই ইউনিয়নেই আমার গ্রামের বাড়ি। সমাজ ও সামাজিকতার কারণে আমি সেখানে গিয়েছি। তবে মনে রাখবেন, ওই হত্যা মামলায় সাবেক চেয়ারম্যান মন্টুর নাম আমি নিজেই অন্তর্ভুক্ত করিয়েছি। সামাজিকতায় অংশ নিলেও ভুক্তভোগী পরিবার যাতে আদালতে সঠিক বিচার পায়, এমপি হিসেবে আমি সেই আইনি ব্যবস্থা শতভাগ নিশ্চিত করব।”
Channel July 36 

















Leave a Comment
Your email address will not be published. Required fields are marked with *