চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ ইরানের মিনাব শহরের শাজারাহ তাইয়েবাহ প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয়ে মার্কিন বাহিনীর চালানো প্রাণঘাতী হামলার মর্মান্তিক ঘটনা দেশটির মানুষ ‘কখনো ভুলবে না’ এবং এর পেছনে দায়ীদের ‘ক্ষমাও করবে না’ বলে চরম হুশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। শুক্রবার (২৮ আগস্ট ২০২৬) এক বিশেষ বক্তব্যে তিনি স্পষ্ট জানান, এই নির্মম হামলায় যে
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ ইরানের মিনাব শহরের শাজারাহ তাইয়েবাহ প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয়ে মার্কিন বাহিনীর চালানো প্রাণঘাতী হামলার মর্মান্তিক ঘটনা দেশটির মানুষ ‘কখনো ভুলবে না’ এবং এর পেছনে দায়ীদের ‘ক্ষমাও করবে না’ বলে চরম হুশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। শুক্রবার (২৮ আগস্ট ২০২৬) এক বিশেষ বক্তব্যে তিনি স্পষ্ট জানান, এই নির্মম হামলায় যে সকল কোমলমতি শিশু ও শিক্ষক তাদের প্রাণ হারিয়েছেন, তারা আজ পুরো ইরানের মানুষের কাছে এক অনন্য ‘বীরত্বের প্রতীক’ হয়ে উঠেছেন। এই মর্মান্তিক ঘটনাটি প্রতিটি ইরানি নাগরিকের হৃদয়ে মারাত্মক ক্ষত সৃষ্টি করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক সংঘাত শুরুর প্রথম দিনেই ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে ঘটা এই নৃশংস হামলাকে ইরান শুরু থেকেই একটি সুস্পষ্ট ‘যুদ্ধাপরাধ’ বা ওয়ার ক্রাইম হিসেবে উল্লেখ করে আসছে।
আন্তর্জাতিক ও মার্কিন প্রভাবশালী গণমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমস এবং সিএনএন-এর বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, হামলাটি মূলত মার্কিন সামরিক বাহিনীর একটি ভয়াবহ লক্ষ্যগত ভুল বা ‘টার্গেটিং মিস্টেক’ ছিল। হামলার মূল উদ্দেশ্য ছিল বিদ্যালয়টির পাশে অবস্থিত একটি ইরানি সামরিক ঘাঁটি ধ্বংস করা, যা অতীতে কোনো এক সময় এই স্কুলের অংশ ছিল। তবে ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স এজেন্সির (ডিআইএ) সরবরাহ করা পুরোনো ও ভুল তথ্য ব্যবহার করে পেন্টাগন আক্রমণ পরিচালনা করায় ক্ষেপণাস্ত্রটি সরাসরি শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতেই স্কুল ভবনটির ওপর গিয়ে পড়ে। এর ফলে ঘটনাস্থলেই ১৬৮ জন শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং অন্যান্য কর্মী মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারান। হামলার পরপরই ধ্বংসাবশেষ থেকে ‘মেইড ইন ইউএসএ’ লোগোযুক্ত আলামত প্রকাশ করে বিশ্ববাসীর সামনে ইরানের পক্ষ থেকে প্রমাণ উপস্থাপন করা হলেও তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সমস্ত দায় অস্বীকার করেছিলেন। তিনি দাবি করেছিলেন যে ইরানি অস্ত্রের নিখুঁত লক্ষ্যমাত্রা না থাকার কারণেই হয়তো তাদের নিজেদের ভুল হামলায় এই অঘটন ঘটেছে।
হত্যাকাণ্ডের পর দীর্ঘ ছয় মাস অতিক্রান্ত হতে চললেও মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং পেন্টাগন এখনও তাদের প্রতিশ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ্যে আনেনি। এ নিয়ে পেন্টাগনের ক্রমাগত নীরবতা ও তথ্য অপ্রকাশ রাখার মনোভাব মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেই তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। মার্কিন বিমান বাহিনীর সাবেক শীর্ষ সামরিক আইনজীবী র্যাচেল ই. ভ্যানল্যান্ডিংহামসহ সাবেক পাঁচ উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসনের এই চরম অপেশাদারিত্ব ও অস্বচ্ছতার তীব্র সমালোচনা করেছেন। বিরোধী দল ডেমোক্র্যাট শিবিরের আইনপ্রণেতারা এ বিষয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে একাধিক চিঠি পাঠালেও কোনো স্পষ্ট বা নির্দিষ্ট জবাব মেলেনি। অন্যদিকে, মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল একে আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের চরম লঙ্ঘন ও বেআইনি সামরিক পদক্ষেপ আখ্যা দিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। তবে পেন্টাগনের এই দীর্ঘায়িত নীরবতা ও প্রতিবেদন প্রকাশে ব্যর্থতা পুরো ঘটনাটিকে মার্কিন সামরিক ইতিহাসের অন্যতম জঘন্য ও জবাবদিহিতাহীন একটি আন্তর্জাতিক অধ্যায় হিসেবে উন্মোচিত করছে।
Channel July 36 
















Leave a Comment
Your email address will not be published. Required fields are marked with *